শিরোনাম

বৃষ্টি মাথায় নিয়ে টিকেটযুদ্ধ সুব্যবস্থাপনা রক্ষা করা হোক

১২:০৪, জুন ১৪, ২০১৭

আগামী ২৩ জুন থেকে শুরু হবে ঈদ-উল ফিতরের সরকারি ছুটি। তাই ট্রেন ও বাস কর্তৃপক্ষ আগাম টিকেট বিক্রি করা শুরু করেছে। চলছে গ্রীষ্মকাল, এখনো বর্ষা ঋতু শুরু হয়নি। অসহনীয় গরমের পর গত সোমবার ছিলো মুষলধারে বৃষ্টি। এই বৃষ্টি মাথায় নিয়েও মানুষ টিকেটযুদ্ধে নেমে পড়েছেন। যে যে ভাবে পেরেছেন, ঘর ছেড়ে বেরিয়েছেন। কেউ বা বাড়তি ভাড়ায় অটোরিক্সা বা রিক্সা, কেউ বা বাসে চড়ে, স্বল্প দূরত্বের লোকজন ছাতা মাথায় দিয়ে হেঁটে এসে যুক্ত হয়েছেন ট্রেন কিংবা বাসের অগ্রিম টিকেট নেয়ার লাইনে। কেননা নাড়ির টানে বাড়ি ফিরে যেতেই হবে। প্রিয়জনের সঙ্গে মিলেমিশে ঈদ করতে হবে। ঈদ মানে খুশি। বাড়ি ফিরতে না পারলে, একসঙ্গে মিলেমিশে ঈদ করতে না পারলে ঈদের আনন্দ উপভোগ করা যায় না। তাই মুষলধারে বৃষ্টি উপেক্ষা করেও মানুষ ছুটে এসেছিলেন কমলাপুর ট্রেন কাউন্টারে আর গাবতলীসহ বিভিন্ন জায়গার বাস কাউন্টারে। পত্রিকা সূত্রে আমরা জেনেছি, প্রথম দিনে ট্রেনের টিকেট হাতে পেয়ে হাসিমুখে বাড়ি ফিরেছেন যাত্রীরা। দুপুরের আগেই ফাঁকা হয়ে যায় কাউন্টার। অনেক টিকেট ছিলো অবিক্রীত। বাসে টিকেটের চাহিদা ছিলো বেশি। এটাই স্বাভাবিক, কারণ ট্রেনের চেয়ে বাসের যাত্রী অনেক বেশি। বাস কাউন্টারে অপেক্ষা করেও অনেকে টিকেট না পেয়ে ফিরে গেছেন। অনেকে অভিযোগ করেছেন, বাড়তি টাকা নেয়ার। ট্রেনের চেয়ে বাস লাইনে এই ধান্দাবাজিটা বেশি হবে, আমরা তা জানি। এবারের ট্রেন ব্যবস্থাপনাটা বেশ গোছানো। ঈদ-উল ফিতর উপলক্ষে ঘরমুখো মানুষের সুবিধার্থে ট্রেনের অগ্রিম টিকেট বিক্রি শুরু হয়েছে। প্রথম টিকেট বিক্রি শুরু হয় ২১ জুনের টিকেট। একজন যাত্রী সর্বোচ্চ ৪ টি টিকেট সংগ্রহ করতে পেরেছেন। প্রতি বছরের মতো এবারো অনলাইনে ২৫ ভাগ, রেলওয়ে কর্মকর্তা কর্মচারীদের জন্য ৫ ভাগ ও ভিআইপি কোটা থাকছে আরো ৫ ভাগ। ৩৫ ভাগ বাদে বাকি ৬৫ ভাগ টিকেট সাধারণ যাত্রী সরাসরি সংগ্রহ করতে পারবেন। পাঁচদিন ব্যাপী টিকেট বিক্রির প্রথম দিনে সব যাত্রীই টিকেট নিয়ে হাসিমুখে বাড়ি ফিরেছেন। ২১ জুনের টিকেটের তেমন চাহিদা না থাকলেও পরের দু’দিন ২২ ও ২৩ জুন টিকেটের ব্যাপক চাহিদা থাকবে বলে রেলসূত্র জানিয়েছে। এ দু’দিনে রাজধানী ছেড়ে যাবেন কর্মজীবী মানুষের বড় অংশ। এ বছর ২৩ টি কাউন্টার থেকে টিকেট দেয়া হচ্ছে। নারী যাত্রীদের জন্য খোলা হয়েছে পৃথক দু’টি কাউন্টার। এই সিদ্ধান্তটির জন্য অবশ্যই রেলকর্তৃপক্ষকে প্রশংসা করতে হবে। এতেও নারীর প্রতি সম্মান বোধের বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে। নারী-পুরুষ এক লাইনে দাঁড়ালে নারীদের জন্য স্বস্তিকর হতো না। অন্যদিকে টিকেট কালোবাজারি ঠেকাতে কমলাপুর স্টেশন জুড়ে বিশেষ নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলা হয়েছে। রেল পুলিশের পাশাপাশি গোয়েন্দা সংস্থার সদস্য থেকে শুরু করে পুলিশ, র‌্যাব, আনসার মোতায়েন করা হয়েছে। র‌্যাবের পক্ষ থেকে খোলা হয়েছে অভিযোগ কেন্দ্র। এই ব্যবস্থাপনায় যাত্রীরা বেশ খুশি। কারো কোনো অভিযোগ নেই। রেল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন, টিকেট কালোবাজারি রোধে নানামুখী পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে।
সিসিটিভি ক্যামেরা বসানো হয়েছে কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনে। একই ব্যক্তি একাধিকবার টিকেট নিচ্ছেন কিনা তাও দেখছেন রেল কর্তৃপক্ষ। রেলওয়ের মহাপরিচালক আশা প্রকাশ করেছেন, যাত্রীরা সানন্দে গন্তব্যে পৌঁছাতে পারবেন। কিন্তু একই ধরনের সুশৃঙ্খল ব্যবস্থা বাস টিকেট প্রাপ্তির বেলায় ঘটছে না। ট্রেনের মতো একই সময়ে অগ্রিম বাসের টিকেট বিক্রি শুরু হয়েছে। দেশের উত্তর ও দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন গন্তব্যের জন্য বাসকাউন্টারে অগ্রিম টিকেট বিক্রি হচ্ছে। ভোর থেকে বৃষ্টি উপেক্ষা করে ঘর মুখো মানুষ কাউন্টারের সামনে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়ান। কোনো কোনো কাউন্টারের সামনে ছাউনি থাকলেও বেশির ভাগ কাউন্টারের সামনে ছাউনি ছিলো না। কাকভিজা ভিজেছে টিকেট প্রত্যাশী মানুষেরা। বাস কাউন্টারগুলোতে ছিলো টিকিটের অপ্রতুলতা।
এরপর আবার টিকেট বিক্রি হয়েছে বেশি দামে। লাগছে টিকেট নিয়ে ঠেলাঠেলি। আমরা আশা করবো পুলিশি হস্তক্ষেপ যাতে শৃঙ্খলার সঙ্গে বাস মালিকরা অগ্রিম টিকেট বিক্রি করেন। বাস কাউন্টারগুলোতেই অধিক সুব্যবস্থাপনা রক্ষা করতে হবে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত