শিরোনাম

নতুন নির্বাচন কমিশন গঠন সবার গ্রহণযোগ্য হোক

১২:৩১, জানুয়ারি ১১, ২০১৭

বর্তমান নির্বাচন কমিশন ৯ ফেব্রুয়ারি বিদায় নিতে যাচ্ছেন। আসবে নতুন কমিশন। তাদের অধীনে ২০১৯ সালে অনুষ্ঠিত হবে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। একটি স্বাধীন, শক্তিশালী নির্বাচন কমিশন গঠনের লক্ষ্য সামনে রেখে মহামান্য রাষ্ট্রপতি রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা প্রায় শেষ পর্যায়ে নিয়ে এসেছেন। আজ বুধবার ১১ জানুয়ারি ক্ষমতাসীন দলের সঙ্গে রাষ্ট্রপতির আলোচনায় বসার কথা রয়েছে। সংলাপ শেষ করে জানুয়ারি মাসের শেষ দিকে নতুন নির্বাচন কমিশন গঠনের জন্য একটি সার্চ কমিটি করা হবে। এর আগেও ২০১২ সালে এ ধরনের সার্চ কমিটি গঠন করা হয়েছিলো। গত সার্চ কমিটিতে বিএনপি নাম পাঠায় নি। এবার তারা আাগে ভাগেই সার্চ কমিটি এবং নির্বাচন কমিশনে কারা থাকতে পারেন যুগপৎ তাদের নাম পাঠিয়েছে। অর্থাৎ ২০১৯ সালে সব দলের অংশগ্রহণে জাতীয় সংসদ নির্বাচন হতে যাচ্ছে। বর্তমান সরকারও আর বিতর্কের ঝুঁকি নিতে চাচ্ছে না। তাদেরও সদিচ্ছা আছে, বিতর্কমুক্ত একটি শক্তিশালী নির্বাচন কমিশন গঠিত হোক এবং তাদের অধীনে স্বচ্ছ, সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে হারজিৎ হোক, সরকার গঠিত হোক। সংসদ সব দলের অংশগ্রহণে প্রাণবন্ত হোক। জাতীয় সংসদ একদলীয় অভিশাপ থেকে মুক্ত হয়ে কার্যকরী বিরোধী দলের সমন্বয়ে গঠিত হোক, এটা আমাদেরও প্রত্যাশা। দেশের সমগ্র রাজনীতি সংসদ কেন্দ্রিক হোক, এই প্রত্যাশা গোটা জাতির। নির্বাচন কমিশন সংক্রান্ত আইন প্রণয়ন করে সংসদে পাশ করার একটি লক্ষ্যও আছে ক্ষমতাসীন দলের। সেটা হয়তো এ বছরে হবে না, তবে সামনে হবেই। আমাদের ধারণা, বিএনপি গত সার্চ কমিটিতে এবং নির্বাচন কমিশনে এবারের মতো নাম পাঠালে এবং নির্বাচনে অংশ নিলে একচেটিয়া নির্বাচন হতো না, বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় পাশের ঘনঘটা হতো না। দেশ কারো একার নয়, তাই দেশ কী ভাবে চলবে তাও কেউ একা ঠিক করবে না, ঠিক করবে সকলে মিলে। গণতন্ত্রের বিকল্প আজো কোনো পদ্ধতি সৃষ্টি হয় নি। দেশে গণতন্ত্র না থাকলে পাকিস্তান, আফগানিস্তানের মতো জঙ্গি দেশে পরিণত হবে। গণতন্ত্র সুরক্ষার জন্য সুষ্ঠু, বিতর্কমুক্ত নির্বাচন হওয়া দরকার। তার জন্য স্বাধীন ও শক্তিশালী নির্র্বাচন কমিশন গঠন অপরিহার্য। তবে আমরা অনুরোধ জানাবো, কোনো পক্ষ যেন আর নির্বাচন বর্জন না করে। নির্বাচন বর্জন করে কেউ নির্বাচনকে সুষ্ঠু করতে পারবে না। এবারের রাজনৈতিক হাওয়া অনেক ইতিবাচক। রাষ্ট্রপতির সঙ্গে এ পর্যন্ত ২২টি দল সংলাপে অংশ নিয়েছে। তারা প্রত্যেকে আশাবাদী যে, রাষ্ট্রপতির আয়োজন ফলপ্রসূ হবে এবং স্বাধীন নির্বাচন কমিশন গঠিত হবে, তারা সানন্দে নির্বাচনে অংশ নিতে পারবে। যতদূর সম্ভব এবার রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী তথা সরকারের গোটা প্রশাসন নমনীয়, ইতিবাচক দৃষ্টিতে অগ্রসর হচ্ছে নির্বাচন কমিশন গঠনের বিষয়ে। গতবার সরকার যতটা ছাড় দিয়েছিলো, সেটাই গ্রহণ করে এগিয়ে আসা উচিত ছিলো বিএনপির। জামায়াতের মন রক্ষা করতে গিয়ে হয়তো বিএনপি সরকারের ইতিবাচক ডাকে সাড়া দিতে পারে নি। এবার উভয় পক্ষ ইতিবাচক নির্বাচনের ব্যাপারে। এ জন্য আমরা আনন্দিত। আমরা আশাবাদী, ২০১৯ সালে স্বচ্ছ, সুন্দর একটি নির্বাচন হবে। সকল পক্ষ হারজিৎ মেনে নেবে। একদল সরকার গঠন করবে, অন্যদল বিরোধী দলের আসন অলঙ্কৃত করবে, তারাও ছায়া সরকার গঠন করবে। আমাদের একজন লেখক বলেছেন, গণতন্ত্রের দু’পা। একটি সরকার, অন্যটি বিরোধী দল। এক পা দিয়ে দেশ চালিয়ে গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেয়া যাবে না। গণতন্ত্রের ইতিহাসে বিরোধী দলের ভূমিকা কখনো অনুজ্জ্বল ছিলো না, সামনেও থাকবে না। নারায়ণগঞ্জের নির্বাচন মডেল হিসেবে সামনে চলে এসেছে। রক্তপাত মুক্ত, পক্ষপাত মুক্ত, ঝামেলা মুক্ত এমন একটি নির্বাচনই ২০১৯ সালে চায় জাতি। ভোটাররা নিরাপদে তার পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে চায়। নতুন নির্বাচন কমিশন সেই ব্যবস্থা করবে বলে আমরা আশাবাদী। অতএব, একটি স্বাধীন, শক্তিশালী নির্বাচন কমিশন জাতির একান্ত আকাক্সক্ষা। কোনো বড় দল নির্বাচনের বাইরে থাকলে তা জাতির জন্য মঙ্গলজনক হয় না। সামনের জাতীয় সংসদ আর এক তরফা না হোক, আমরা তা চাই।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত