বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস দিনটি বাঙ্গালি স্মৃতিতে অম্লান

| ১১:৪৩, জানুয়ারি ১০, ২০১৭

আজ ১০ জানুয়ারি, ১৯৭২ সালের এই দিনে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তাঁর স্বপ্নের প্রিয় মাতৃভূমি, সোনার বাংলায় ফিরে এসেছিলেন। আজ বাঙালি জাতি দিনটিকে ‘বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস’ হিসেবে পালন করবে। বাঙালি জাতির কাছে এই দিনটির তাৎপর্য অপরিসীম। স্বাধীনতার আনন্দ পূর্ণতা পায় নি, যে পর্যন্ত না বঙ্গবন্ধু স্বদেশে প্রত্যাবর্তন করেছিলেন। সেদিন সকাল থেকে দলে দলে লোকজন রেসকোর্স ময়দানে উপস্থিত হতে শুরু করেছিলেন তাদের প্রিয় নেতাকে এক নজর দেখার জন্য। সেদিন ৫০ লাখ লোক উপস্থিত হয়েছিলো জাতির অবিসংবাদিত নেতার ভাষণ শোনার জন্যে। দীর্ঘ নয় মাস পাকিস্তানের কারাগারে বন্দি ছিলেন। তাঁর সঙ্গে বিশ্বের কোনো ঘটনার যোগসূত্র ছিলো না, নির্জন কারাপ্রকোষ্ঠে একাকী তাঁর দিনগুলো কাটতো। তাঁকে দেশদ্রোহী ঘোষণা করা হয়েছিলো। তাঁকে পাকিস্তান ভাঙার ষড়যন্ত্রকারী আখ্যা দেয়া হয়েছিলো। তাঁর বিচার শুরু হয়েছিলো। তাঁর মৃত্যুদ- ঘোষণা করেছিলো পাকিস্তানি শাসকরা। তবুও তিনি অদম্য মনোবলের অধিকারী ছিলেন। বলেছিলেন, আমি বাঙালি, আমি মুসলমান, মুসলমান একবারই মরে। বলেছিলেন, আমার লাশটা বাংলার মাটিতে পৌঁছে দিও। বলেছিলেন, ফাঁসির মঞ্চে যাওয়ার আগে আমি বলবো, আমি বাঙালি, বাংলা আমার দেশ, বাংলা আমার ভাষা। এই দেশকে গড়ে তোলার জ্বলন্ত প্রেরণা দিয়ে বঙ্গবন্ধু ১০ জানুয়ারির ভাষণটি দিয়েছিলেন। বলেছিলেন, রাজনৈতিক স্বাধীনতা ব্যর্থ হয়ে যাবে যদি অর্থনৈতিক মুক্তি না আসে। একেতো শত শত বছর শোষণ করেছে বাংলাকে ব্রিটিশ ও পাকিস্তানি শাসকরা, তারপর ১৯৭১ সালের ৯ মাসের যুদ্ধে পাকহানাদার বাহিনী বাংলাদেশকে শশ্মানে পরিণত করেছিলো। এই বাস্তবতা ও ধ্বংসযজ্ঞ সম্পর্কে বঙ্গবন্ধু সচেতন ছিলেন। তাই দেশকে গড়ে তোলার প্রেরণা দিয়ে বক্তব্য রেখেছিলেন। বাংলাদেশ কোনো ধর্মভিত্তিক রাষ্ট্র হবে না, এ কথা দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে ঘোষণা দিয়েছিলেন। এই ভাষণে তিনি যুদ্ধাপরাধীদের বিচার হবে বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। বাংলাদেশের পররাষ্ট্র নীতি হবে জোট নিরপেক্ষ ও বন্ধুত্বপূর্ণ, তাও বলেছিলেন। ভারতসহ বিশ্¦ের যে সব রাষ্ট্র এবং বিশ্বের যে সব স্বধীনতাকামী মানুষ বাংলাদেশকে সমর্থন দিয়েছিলেন, তিনি তাঁদের কাছে অকুণ্ঠ কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছিলেন। তিনি বলেছিলেন, আমি যখনই চাইবো, তখনই ভারতীয় সেনাবাহিনী বাংলাদেশ থেকে চলে যাবে। এ কথা বঙ্গবন্ধু ছাড়া আর কে বলতে পারতেন? অনেক নামিদামী গবেষকরা স্বীকার করেছেন, বঙ্গবন্ধু পাকিস্তানের কারাগার থেকে ফিরে না আসলে বাংলাদেশের অস্তিত্ব বিপন্ন হতো, গৃহযুদ্ধ, রক্তপাত আর রক্তাক্ত হানাহানি হওয়ার সম্ভাবনা ছিলো। বাংলাদেশ থেকে কবে যে বিদেশি সৈন্য ফেরত যেতো, তার কোনো নিশ্চয়তা ছিলো না। বাঙালি জাতিরই অস্তিত্ব টিকে গিয়েছিলো বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তনে। যদিও সশরীরে তিনি যুদ্ধের সময় আমাদের মধ্যে ছিলেন না, স্বাধীনতা ঘোষণা দেয়ার অপরাধে তাঁকে ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ রাত ১২ টা ১ মিনিটের পর গ্রেফতার করে পাকিস্তানে নিয়ে যাওয়া হয়েছিলো, কিন্তু নয় মাসের মুক্তিযুদ্ধ তাঁর নামেই চলেছে। তিনি ছিলেন সকল মুক্তিযোদ্ধার বুকের মধ্যে প্রেরণার প্রতিক হিসেবে। ব্যক্তিগতভাবে ভারতের প্রধানমন্ত্রী শ্রীমতি ইন্দিরা গান্ধী বিশ্বব্যাপী সফর করেছিলেন বাংলাদেশের স্বাধীনতার জন্য এবং বঙ্গবন্ধুর মুক্তির জন্য। বঙ্গবন্ধু ক্ষমতা হাতে নিয়ে মাত্র সাড়ে তিন বছরের মধ্যে যে সব কঠিন কাজ সম্পন্ন করেছিলেন, তা তিনি ছাড়া আর কেউ করতে পারতেন না। তিনি জাতির পিতা হিসেবে, বাঙালি জাতির ঐক্যের প্রতিক হিসেবে দ্রুত বাংলাদেশের অস্তিত্ব গঠন করেন, বাংলাদেশের উন্নতির গোড়াপত্তন করেন, সংবিধান রচনা করেন, বিশ্বের অধিকাংশ দেশের স্বীকৃতি আদায় করেন, যুদ্ধবিধ্বস্ত অবকাঠামো নির্মাণ করেন। তাই তাঁর প্রত্যাবর্তন দিবস আমাদের কাছে তাৎপর্যপূর্ণ।

 

 

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত
close-icon