শিশুপাঠ্য বইয়ে ভুলের ছড়াছড়ি দ্রুত সংশোধন করা হোক

| ১২:০৮, জানুয়ারি ০৯, ২০১৭

 বছরের প্রথম দিন এবার ৪ কোটি ৩৩ হাজার ২০১ জন শিক্ষার্থীর হাতে এবার ৩৬ কোটি ২১ লাখ ৮২ হাজার বই ও শিক্ষা উপকরণ বিতরণ করেছে। কিন্তু সরকারের এ সাফল্যকে ম্লান করে দিয়েছে পাঠ্য বইয়ের অজস্র ভুল। এ ব্যাপারে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক স্বনামধন্য শিক্ষক ও কৃতী লেখক মন্তব্য করেছেন, শিশুদের কেবল সময়মত বই দিলেই হবে না, নির্ভুল পাঠ্যবই দিতে হবে। পাঠ্য বইয়ে ভুল থাকা উচিত নয়। মন্ত্রণালয়ের এ ব্যাপারে কঠোর পদক্ষেপ নেয়া উচিত। শিক্ষাখাতে সরকার যতটুকু সুনাম অর্জন করেছে তা প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে। তিনি আরো বলেন, ঘন ঘন বইয়ের বিষয় পরিবর্তন করলে শিশুর মনে বিরূপ প্রভাব পড়ে। এ কথার সঙ্গে কারোই দ্বি-মত পোষণের উপায় নেই। শিশুদের পাঠ্য বইয়ে ভুল তথ্য, ভুল বানান, ভুল বাক্য থাকলে শিশুরা হয় বিভ্রান্ত হবে না হয় ভুলই শিখবে। এটাতো দেশের অগণিত শিশু শিক্ষার্থীকে মহা সর্বনাশ করার পদক্ষেপ। গণশিক্ষা মন্ত্রী বলেছেন, পাঠ্য বইয়ের ভুল দ্রুত সংশোধন করতে এনসিটিবিকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। পাশাপাশি যে সব কর্মকর্তার অবহেলায় পাঠ্য পুস্তকে ভুল রয়ে গেছে তাদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেয়া হবে। সেটা নেয়া উচিত বলে আমরা মনে করি। তবে আমাদের দাবি হচ্ছে, সম্মিলিতভাবে উদ্যোগ নিয়ে, টিম ওয়ার্কের মাধ্যমে অতি দ্রুত সংশোধিত বই শিশু শিক্ষার্থীদের হাতে দিতে হবে। পত্রিকার বিশ্লেষণে আমরা পেয়েছি, বিসিএস সাধারণ শিক্ষা ক্যাডারের কিছু কর্মকর্তা বছরের পর বছর এনসিটিবিতে প্রেষণে কাজ করছেন। তারা কেবল ঢাকায় থাকার জন্য তদবির করে পোস্টিং নিয়েছেন। পাঠ্য বইয়ের কারিকুলাম তৈরি, রচনা, মুদ্রণ এসব টেকনিক্যাল কাজের সঙ্গে অতীতে তাদের কোনো সম্পর্ক ছিলো না। অনভিজ্ঞ এ সব কর্মকর্তাই পাঠ্য বইয়ের সঙ্গে সম্পৃক্ত। এনসিটিবি সূত্র জানিয়েছে, গত তিন মেয়াদে পাঠ্য বই সংশ্লিষ্ট অভিজ্ঞ লোক নেয়া হচ্ছে না। তদবিরের ফাঁক গলিয়ে অনভিজ্ঞ লোক এই স্পর্শকাতর, গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে ঢুকে যাওয়ায় নির্ভুল পাঠ্য বই প্রকাশের দৈন্য দেখা দিয়েছে। এ প্রসঙ্গে আরো একটু তীক্ষ্ণ বিশ্লেষণে আসা দরকার। আমাদের দেশে পরের সর্বনাশ ঘটিয়ে নিজের পৌষমাস ঠিক রাখার দৃষ্টান্ত আছে। শুধু ঢাকায় থাকার লোভে এক শ্রেণির সুবিধাবাদী কর্মকর্তা অভিজ্ঞতা না থাকা সত্ত্বেও পাঠ্য বই প্রকাশের দায়িত্ব নিয়ে এনসিটিবিতে জেঁকে বসেছেন, তারপর যেনতেন করে ভুল পাঠ্য বই ছাপিয়ে সরকারকে বিপদে ফেলার উপক্রম করেছেন। ওদিকে সরকার সরল বিশ্বাসে, চোখ বন্ধ করে কোটি কোটি শিশুর হাতে ভুল পাঠ্য বই পৌঁছে দিয়েছে। আত্মপ্রসাদও লাভ করছে। ভাবখানা এমন, ‘সরকারি মাল দরিয়ামে ঢাল।’ যে কোনো ক্লাশের পাঠ্য বই অধিকতর সতর্কতার সঙ্গে প্রকাশ করা দরকার। কেননা ভুল ছাপার বই ভুল ও বিভ্রান্তিকর শিক্ষা দেবে, তদুপরি শিশু শ্রেণির পাঠ্য বই ছাপানোর ক্ষেত্রে সমধিক সতর্কতা কাম্য ছিলো। সেখানে অধিকতর অসতর্কতা দেখানো হয়েছে। গণমাধ্যমের শকুনের চোখ এ ক্ষেত্রে না পড়লে হয়তো শিশুরা ভুলই শিখতো। এই যে দায়িত্বহীনতা, নিষ্ঠার শূন্যতা, এটা দেখা দিয়েছে সুবিধাবাদী দৃষ্টিভঙ্গি থেকে। তদবির করে অনভিজ্ঞরা এনসিটিবিতে ঢুকেছেন কোটি কোটি শিশুর মেধা ধ্বংস করে নিজেদের সুবিধা পোক্ত করার জন্য। তারা ২/১ টা বানান ভুলে সীমাবদ্ধ থাকেন নি, বিখ্যাত কবিদের কবিতার লাইন বদলিয়ে দিয়েছেন। মূল লেখকদের লেখা অনুমতি না নিয়ে সংযোজন বিয়োজন করেছেন। অসৌজন্য আর অবিবেচনার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন প্রায় ৩৭ কোটি শিশু পাঠ্য বইয়ে। এর চেয়ে তুঘলকি কা- আর কী হতে পারে! ৩৭ কোটি বই ২/১টা, ২/১ শত বই নাকি? এ সব সংশোধন করতে কত ঝামেলা পোহাতে হবে, কত অর্থের অনর্থ হবে? এর দায় কে নেবে? কেন বার বার নিরীক্ষা করে, প্রুফ দেখে শিশু পাঠ্য বই বিলি করা হয় নি? ভেবেছেন মিডিয়ার লোকদের নজর এড়িয়ে যাবে? ভুলে যাবেন না, এখন মিডিয়া সরকারের চেয়েও সক্রিয়, অনেক বিষয় সরকারের চোখ এড়িয়ে গেলেও মিডিয়ার চোখ এড়ায় না। তদবির করে যে সব কর্মকর্তা এনসিটিবিতে ঢুকে, শিশু পাঠ্য বই ভুল ছাপিয়ে বিলি করে গোটা জাতিকে হয়রানির মধ্যে ফেলেছেন, তাদের উপযুক্ত শাস্তি দেয়া হোক। তাদের এ দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেয়া হোক। অভিজ্ঞ লোক এ জায়গায় স্থান করে দেয়া হোক। এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের কঠোর পদক্ষেপ দাবি করছি আমরা। কোনো পক্ষের উদাসীনতা কাম্য নয়।

 

 

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত
close-icon