শিরোনাম

পাঠ্য বইয়ে রদবদল

১১:৫৭, জানুয়ারি ০৭, ২০১৭

‘শিক্ষা নিয়ে গড়ব দেশ, শেখ হাসিনার বাংলাদেশ’ স্লোগানে বই উৎসব শুরু করে শিশুদের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে নতুন পাঠ্যপুস্তক। এবার বই অভিভাবকদের মধ্যে আনন্দের বদলে উদ্বেগ ছড়িয়েছে।তাঁদের অভিযোগ, পাঠ্যপুস্তকে ভুলের ছড়াছড়িই শুধু নয়, অপ্রাসঙ্গিক ও আপত্তিকর নানা বিষয় জুড়ে দেওয়া হয়েছে। শিক্ষাবিদ, সমাজবিদসহ সাধারণ মানুষের মধ্যেও পাঠ্যপুস্তকে পরিবর্তন আনার এ ঘটনায় তীব্র প্রতিক্রিয়া হয়েছে। তারা বলছে, মহলবিশেষের চাপে শিশুদের রাজনৈতিক গিনিপিগ বানানো হয়েছে।

গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে শাসক বদল হবে, রাজনৈতিক দল ক্ষমতায় যাবে, আসবে এই জটিলতার মধ্যে শিশু বা তার শিক্ষার জগেক টানা যায় না। আদর্শ মানুষ হওয়ার প্রেরণা লাভ, কর্মজীবনের জন্য, সামাজিক নেতৃত্বের জন্য নিজেকে তৈরি করা সবই নির্ভর করে শিশু কী পড়ছে, কী পড়ছে না তার ওপর। প্রায়োগিক জ্ঞানের পাশাপাশি এমন বিষয়ও পাঠ্যপুস্তকে রাখতে হয় যাতে শিশুর মধ্যে জাতিসত্তা, দেশপ্রেম, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি, মানবিকতার মতো বোধগুলো জাগ্রত হয়। তা না হলে শিশুমন হয়ে ওঠে সংকীর্ণ।

নতুন পাঠ্যপুস্তক প্রকাশের তিন বছরের মাথায় বড় ধরনের পরিবর্তন কি আদৌ প্রয়োজন ছিল? বিএনপি-জামায়াত জোট ক্ষমতা পেয়ে ২০০৩ সালে পাঠ্যপুস্তকের খোলনলচে পাল্টে দেয়। সাহিত্যগ্রন্থে ধর্মীয় বিষয়বস্তু যুক্ত করা হয়। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এসে জাতীয় শিক্ষানীতি প্রণয়ন করে সে আলোকে প্রণীত নতুন পাঠ্যপুস্তক তুলে দেয় ২০১৩ সালে। বলা হয়, বাংলা বিষয়কে তখন সাহিত্যসমৃদ্ধ ও সর্বজনীন করার স্বার্থে ধর্মীয় বিষয়গুলো সরিয়ে ধর্ম ও নৈতিক শিক্ষাসহ অন্যান্য প্রাসঙ্গিক বইয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এই অবস্থান থেকে সরে আসা কার স্বার্থে, না এলে কী ক্ষতি হতো?

শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও বিশেষজ্ঞ মতামতের আলোকেই এনসিসিসির (ন্যাশনাল কারিকুলাম কো-অর্ডিনেশন কমিটি) পরিবর্তন-পরিবর্ধন করার কথা। এবারের পাঠ্যপুস্তকের সংযোজন-বিয়োজনের বেশির ভাগ সিদ্ধান্ত হয় এনসিসিসির সভায়। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট একজন কর্মকর্তা বলেছেন, এ দেশে ধর্মের রাজনীতির ব্যবহার এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে এখন চাইলেও অনেক কিছু করা সম্ভব নয়।

শিশুরা বড় হয়ে সমাজ ও রাষ্ট্রের নেতৃত্ব দেবে, কাজের মাধ্যমে জাতিকে বিশ্বদরবারে তুলে ধরবে। ব্যক্তি, দল বা গোষ্ঠীস্বার্থে তাদের আমরা নীতির ক্রীড়নক বানাতে পারি না। একদিকে তরুণদের হাত ধরে তথ্য-প্রযুক্তি পৃথিবীকে বদলে দিচ্ছে, অন্যদিকে এই তরুণদেরই বিভ্রান্ত করে জঙ্গি বানানো হচ্ছে।

সময়ের বড় চ্যালেঞ্জটির মোকাবিলায় কোথায় আমরা যুগোপযোগী পাঠ্যসূচি প্রণয়ন করব, গ্রহণ করব নিরাপদ শিক্ষানীতি তা না করে উল্টো রাজনৈতিক লাভালাভ আমাদের কাছে বড় হয়ে উঠেছে। বিষয়টি দুঃখজনক, উদ্বেগজনকও। শিশুদের রাজনীতির ঘুঁটি বানাবেন না। স্বার্থান্বেষী মহলবিশেষ নয়, সর্বজনীন মতামতের ভিত্তিতে শিশুদের পাঠ্যক্রম ঢেলে সাজান। উদ্দেশ্যমূলক, একপেশে শিক্ষাব্যবস্থা শিশু তথা জাতির ভবিষ্যৎ কর্ণধারদের বড় ক্ষতির কারণ হবে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত