নির্বাচিত জেলা পরিষদ উদ্দেশ্য সফল হোক

| ১২:১৯, জানুয়ারি ০৪, ২০১৭

নানা কারণে বিতর্কিত হলেও দেশে প্রথমবারের মতো জেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যানসহ ২১ সদস্যের পরিষদ নির্বাচিত হয়েছে। দলীয় ভিত্তিতে নির্বাচন হলেও নির্বাচনে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ও তাদের বিদ্রোহী প্রার্থীরা জয়লাভ করেছেন। জেলা পরিষদ নির্বাচনে ভোটার ছিলেন স্থানীয় সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ের নির্বাচিত সদস্যরা। ভোটারসংখ্যা খুব বেশি না হলেও নির্বাচনে ভোট বেচাকেনার অভিযোগ উঠেছে। ভোটের পর ভোট বিক্রির টাকা ফেরত নেওয়া নিয়েও অনাকাক্সিক্ষত ঘটনা ঘটেছে। নির্বাচন হলেও জেলা পরিষদ চেয়ারম্যানদের ক্ষমতা ও মর্যাদা নিয়ে এখন পর্যন্ত স্পষ্ট করে কিছু বলা হয়নি। তবে জেলা পরিষদ কী কী কাজ করতে পারবে, তা অনেকটাই স্পষ্ট। দেশের প্রতিটি জেলা পরিষদের বিশাল সম্পদ রয়েছে। আবশ্যিক ও ঐচ্ছিক আইন অনুযায়ী তা দেখভালের দায়িত্ব জেলা পরিষদের। জেলার উন্নয়নকাজ তদারকির দায়িত্বও থাকবে স্থানীয় সরকারের এই প্রতিষ্ঠানের ওপর। সরকারের অনুমোদনক্রমে জেলার যেকোনো বাণিজ্যিক কার্যক্রম বা প্রকল্প গ্রহণ, বাস্তবায়ন ও পরিচালনা করবে জেলা পরিষদ। এখানেই জেলা পরিষদের যেকোনো পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার রহস্য। দুঃখজনক হলেও সত্য, 

সাম্প্রতিককালের রাজনীতিতে জনসেবার চেয়ে অর্থ উপার্জনের বিষয়টি প্রাধান্য পাচ্ছে, জেলা পরিষদের নির্বাচনকে যা প্রভাবিত করেছে বলে ধরে নেওয়া যেতে পারে। একেকটি জেলা পরিষদের অধীনে যে শতকোটি টাকার সম্পদ আছে, তা থেকে পরিষদের যেমন আয়ের সুযোগ আছে, তেমনি তা চেয়ারম্যানসহ পরিষদের সদস্যদেরও বাড়তি আয়ের মাধ্যম হতে পারে। আবার উন্নয়নকাজ তদারকি কিংবা সম্পদ ইজারা দেওয়ার ক্ষেত্রে কোনো অনিয়ম পরিলক্ষিত হলে বিদ্যমান আইনে সরাসরি মামলা করা যাবে না। ফলে এ ক্ষেত্রে চেয়ারম্যান বা পরিষদ সদস্যরা কোনো অনিয়ম করে থাকলেও এক ধরনের দায়মুক্তির মধ্যে থাকছেন। তার পরও বলা যেতে পারে, জেলা পরিষদ হচ্ছে স্থানীয় সরকারের সবচেয়ে বড় প্রতিষ্ঠান। কাজেই জেলা পরিষদের কর্মপরিধি এখনই নির্ধারণ করা দরকার। স্থানীয় সরকার পর্যায়ে সিটি করপোরেশন, উপজেলা পরিষদ, পৌরসভা, ইউনিয়ন পরিষদ আলাদাভাবে কাজ করে থাকে। প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের অধীনে উন্নয়ন কার্যক্রম পরিচালিত হয়। কাজেই জেলা পরিষদের কর্মপরিধি সুনির্দিষ্ট করা না হলে স্থানীয় সরকারের অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সমন্বয়ে সমস্যা দেখা দিতে পারে। সুতরাং জেলা পরিষদের কর্মপরিধি আগেই স্পষ্ট করতে হবে। নির্বাচনের পর জেলা পরিষদকে ঠুঁটো জগন্নাথ বানিয়ে রাখা অর্থহীন। স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা শক্তিশালী ও সক্রিয় করা না গেলে উন্নয়ন ব্যাহত হবে। দেশের উন্নয়ন কার্যক্রম দ্রুত সম্পন্ন করতে স্থানীয় সরকারকে ক্ষমতাশালী করতে হবে। অন্যথায় তৃণমূলে উন্নয়নের সুফল পৌঁছুবে না। জেলা পরিষদ আইন অনুযায়ী সরকার পরিষদের হাতে কিছু দায়িত্ব দিলে পরিষদ কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারবে; জোরদার করবে স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা।



 

 

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত
close-icon