শিরোনাম

এমপি লিটনকে হত্যা সন্ত্রাসীদের অশনি সংকেত

১১:৪৫, জানুয়ারি ০২, ২০১৭

আমাদের একজন খ্যাতিমান কথাশিল্পী হাসান আজিজুল হক প্রত্যাশা করেছিলেন, ‘চাই নিশ্চিন্ত নির্বিঘ্ন নতুন বছর।’ সেখানে নতুন বছর শুরুর মাত্র কয়েক ঘন্টা পূর্বে আওয়ামী লীগ দলীয় এমপি মনজুরুল ইসলাম লিটন খুন হলেন। রংপুর জেলার গাইবান্ধা-১ আসনের এমপি ছিলেন লিটন। তাঁর বয়স হয়েছিলো মাত্র ৪৮ বছর। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি তিনি এমপি নির্বাচিত হয়েছিলেন। এবারই তিনি প্রথম এমপি হন। গত শনিবার সন্ধ্যায় জেলার সুন্দরগঞ্জের বামনডাঙ্গা ইউনিয়নের শাহাবাজ এলাকায় এমপি লিটনের নিজ বাড়িতে ঢুকে সন্ত্রাসীরা তাঁকে গুলি করে। রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তাঁকে আনার পর মৃত্যু হয়। তাঁর মৃত্যুতে রাষ্ট্রপতি মোঃ আবদুল হামিদ এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শোক প্রকাশ করেছেন। পত্রিকায় এমপি লিটনের পরিবার-পরিজনের আর্তনাদ ও আহাজারির ছবি ছাপা হয়েছে। জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীও শোক জ্ঞাপন করেছেন। প্রধানমন্ত্রী অবিলম্বে দোষীদের খুঁজে বের করে আইনি ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। এমপি লিটনের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর রামেক হাসপাতালের পরিবেশ তাঁর স্বজনদের কান্নায় ও আহাজারিতে ভারি হয়ে ওঠে। সুন্দরগঞ্জে বিপুল প্রতিক্রিয়া হয়েছে। আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী-সমর্থকরা সড়ক অবরোধ করেছে। মিছিল করেছে। তারা খুনীদের গ্রেফতারের দাবি করেছে। সুন্দরগঞ্জ জামায়াত-শিবির অধ্যুষিত এলাকা। আওয়ামী লীগ সমর্থকদের সন্দেহ, জামায়াত-শিবির এই হত্যার ঘটনা ঘটিয়েছে। বিচিত্র কী? হতেই পারে। হত্যায় তো ওরা পারদর্শী। খুব সম্ভব নারায়ণগঞ্জ নির্বাচনে বিএনপির পরাজয় জামায়াত-শিবির-জেএমবি, আনসারুল্লাদের মধ্যে হতাশা বিষ ছড়িয়েছে, তার বিষাক্ত প্রতিক্রিয়ায় এমপি লিটন হত্যার ঘটনা ঘটা অস্বাভাবিক নয়। সুন্দরগঞ্জ এলাকার আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা মিছিল থেকে প্রকাশ্যে জামায়াত-শিবিরের নাম ধরে স্লোগান দিয়েছে তাদের বিরুদ্ধে। স্মরণ করা যেতে পারে যে, ২০১৬ সালে বাংলাদেশের উচ্চতর আদালত জামায়াতের দলীয় প্রতীক ‘দাড়িপাল্লা’ নির্বাচনে ব্যবহারের ওপর নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে। পুলিশের মহাপরিদর্শক একেএম শহীদুল হক অবিলম্বে খুনীদের গ্রেফতারের আশ্বাস দিয়েছেন। তাঁর আশ্বাস বাস্তবে পরিণত হোক, আমরা তা চাই। যারা এমপি লিটনকে খুন করেছে তারা বরাবরের মতো মোটরসাইকেলে চড়ে এসেছিলো, তাদের মাথায় ছিলো হেলমেট, হাতে ছিলো পিস্তল। সন্ত্রাসীদের একজন বাইরে দাঁড়ানো ছিলো, ২ জন মিথ্যা কথা বলে ভেতরে ঢুকে কাছ থেকে লিটনকে গুলি করে। তারপর দ্রুত চলে যায়। মাত্র ৩ রাউন্ড গুলি ব্যবহার করে সন্ত্রাসীরা। তাতেই লিটনের প্রাণপাখি ফুড়–ৎ করে উড়ে যায়। অন্ধকার ছিলো বলে তাদের চেহারা শনাক্ত করা সম্ভব হয় নি। পুলিশ ও জনসাধারণ উভয় পক্ষ বলেছে, সুন্দরগঞ্জ এলাকাটি জামায়াত-শিবির অধ্যুষিত। তাছাড়া এমপি মনজুরুল ইসলাম লিটন বরাবর জামায়াত-শিবির ও যুদ্ধাপরাধী বিরোধী অবস্থান নিয়ে অনমনীয় ভূমিকা পালন করেছেন। আওয়ামী লীগ ও সরকারের সর্বস্তরে এমপি লিটন হত্যার ব্যাপক প্রতিক্রিয়া হয়েছে। তারা আকস্মিক এ হত্যাকা-ে হতবাক হয়ে যায়। তারা এটাকে সরকারের জন্য অশনিসংকেত বলে ধরে নিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, দেশ যখন উন্নয়নের পথে এগিয়ে যাচ্ছে, তখন একটি মহল দেশে অরাজক পরিস্থিতি তৈরি করে স্বার্থ হাসিলের অপচেষ্টা চালাচ্ছে। হত্যা ও সন্ত্রাসের যে পথ বেছে নেয়া হয়েছে তা কোনো ভাবেই বরদাশত করা হবে না। হত্যার রাজনীতির পথ ধরেই তারা সংসদ সদস্য লিটনকে হত্যা করেছে। এ কথা ধ্রুব সত্য যে, স্বাধীনতার নেতৃত্বদানকারী দলটির নেতাকর্মী হত্যার ফর্দটা খুব লম্বা; অন্য দলের নেতাকর্মী হত্যার ফর্দটা অত লম্বা নয়, অনেক ছোট। সরকার ও সরকারি দলের সতর্ক হওয়া দরকার এখন থেকেই। তাদের জন্য ২০১৭ সাল সুবিধাজনক নাও হতে পারে- সেই বার্তা দিয়ে দিলো সন্ত্রাসীরা। একই দিনের পত্রিকায় পাওয়া গেছে, খুলনা শহর আওয়ামী লীগের একজন নেতাকেও গুলি করা হয়েছিলো। লক্ষ্যভ্রষ্ট গুলিতে মারা গেছেন একজন সংখ্যালঘু নারী। অতএব সাধু সাবধান।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত