জেলা পরিষদ নির্বাচন সম্পন্ন বিজয়ীদের দায়িত্ব অনেক

| ১২:২৭, ডিসেম্বর ৩০, ২০১৬

 ২০১৬ সালের সর্বশেষ নির্বাচন হলো গত ২৮ ডিসেম্বর বুধবার। এবারই প্রথম নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের ভোটে জেলা পরিষদ নির্বাচন সম্পন্ন হলো। এই নির্বাচনে সরকারি দল আওয়ামী লীগ ব্যতীত অন্য দল প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে নি। করলে ভালো হোতো। যে নির্বাচন বর্জন করা হয় সে নির্বাচন সম্পর্কে ভালো-মন্দ কোনো মন্তব্য করা যায় না। এই নির্বাচনে কোনো জয়-পরাজয় নেই।কেননা ফাঁকা মাঠে নির্বাচনটি হয়েছে। আগেই ২১ জেলায় বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন। এর পর ৩৮ জেলায় প্রতিদ্বন্দ্বিতা হয়েছে নিজেদের মধ্যে। এর মধ্যে ২৫ টি আওয়ামী লীগ ও ১৩ টিতে আওয়ামী লীগেরই বিদ্রোহী প্রার্থী জয়ী হয়েছেন। এই নির্বাচনের কোনো গুরুত্ব জনগণ তেমনভাবে উপলব্ধি করে নি। প্রতিপক্ষ না থাকার কারণে সরকারি দল বিদ্রোহী প্রার্থী নিয়ে কড়াকড়ি করে নি। কিন্তু ১৩ টি আসনে বিদ্রোহী প্রার্থীর বিজয় ওই আসনগুলোতে দলের ভুল সিদ্ধান্ত প্রমাণ করে। এ থেকে অনুমান করা যায়, বিএনপি নির্বাচনে অংশ নিলে হয়তো এই ১৩ টি আসন পেয়ে যেতো। এতে বিএনপির মনোবল চাঙ্গা হতো। ইউপি নির্বাচনেও দেখা গেছে, অনেক জায়গায় সরকারি দলের বিদ্রোহী প্রার্থী জয়ী হয়েছেন। এটি অবশ্যই রাজনীতিতে নেতিবাচক দিক। দলের হাইকমান্ডের নির্দেশ অমান্য করার পরিণতি দলের জন্য ভালো হয় না। বিষয়টি সরকারি দলকে মাথায় রাখতে হবে যে, জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও বিদ্রোহী প্রার্থী মাথা তুলে দাঁড়াবে। এটা নিশ্চিত ২০১৯ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি মাঠে নামবে। এই নির্বাচনে নির্বাচন কমিশনের দোষ ধরার বা গুণকীর্তন করার কোনো অবকাশ নেই। তবে যথেষ্ঠ টাকার খেলা হয়েছে তা পত্রিকার বিবরণ পড়ে বুঝা যায়। এমপি-মন্ত্রী সাহেবরাও এই নির্বাচনে পকেট রাজনীতির চর্চা করেছেন, তাও বুঝা যায়।কিছু অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া গেছে। এমন একটি নিস্তরঙ্গ নির্বাচনেও ৫৩ জন বিদ্রোহী প্রার্থী ছিলো। ভোট শুরু হওয়ার আগেই মাদারীপুর একটি কেন্দ্রে দুই পক্ষের মারামারি হয়েছে। পরে পুলিশ তা নিয়ন্ত্রণ করেছে। দিনাজপুরে এক নারী প্রার্থীকে অপহরণ করার দু’ঘন্টা পর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করা হয়েছে। এ ছাড়া দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে হামলা, মারধর ও অপহরণের খবর পাওয়া গেছে। অন্যদিকে নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দিলেও বিএনপি দলীয় ২ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে পরাজিত হয়েছেন। যদি এই দু’ছদ্ম প্রার্থী ভাগ্যক্রমে জয়ী হতেন তাহলে বিএনপি তাদের গলায় মালা পড়িয়ে দিতো; এমন দৃষ্টান্ত অতীতে আছে। বিএনপির মহাসচিব মীর্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, এই নির্বাচন সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। নির্বাচন কমিশন ও আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, নির্বাচন সুষ্ঠু হয়েছে। তবে এ নির্বাচনে ক্ষমতার ভাগাভাগি নিয়ে আরো কামড়াকামড়ি ও রক্তারক্তি হতে পারতো, তা হয় নি, এটা সরকার পক্ষের সফলতা। নির্বাচনটি সন্ত্রাস-সহিংসতা মুক্ত ও শান্তিপূর্ণ হয়েছে তা বলা চলে। যারা এ নির্বাচনে জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন, তাদের গুরুত্ব ও ক্ষমতা একেবারে কম নয়। জনগণের সেবার মান বাড়াবার লক্ষ্যে, উন্নয়নে প্রশাসনিক ভূমিকাকে আরো নিশ্ছিদ্র করার উদ্দেশ্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জেলা পরিষদ নির্বাচন দিয়েছেন। লক্ষ্য করা গিয়েছে যে, সরকার ক্ষমতাকে সর্বস্তরে বিকেন্দ্রিকরণ করেছে। প্রধানমন্ত্রী চান তৃণমূলের মানুষ সরকারের সেবায় উপকৃত হোক, তারা অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হোক। প্রধানমন্ত্রীর লক্ষ্য সম্পর্কে জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান সাহেবদের সতর্ক থাকতে হবে। শুধু ক্ষমতা ভোগ করার জন্য প্রধানমন্ত্রী চেয়ারম্যানদের সুযোগ করে দেন নি; জনগণের সেবক হওয়ার সুযোগ দিয়েছেন তিনি। ক্ষমতা চিরকাল হাতের মুঠিতে থাকে না, কিন্তু ভালো কাজ করলে তার সুনামটা থেকে যায়। প্রধানমন্ত্রী সূক্ষ্মভাবে হয়তো এই আশা চেয়ারম্যানদের কাছে করেছেন যে, তাঁরা ভালো কাজ করলে, জনগণের মন জয় করতে পারলে সামনের নির্বাচনে তা দলের জন্য যোগফল হবে। সামনের জাতীয় নির্বাচনে চেয়ারম্যান সাহেবদের একটা ভূমিকা থাকবে। প্রধানমন্ত্রীর এই প্রত্যাশা কতদূর পূরণ হয় তার প্রমাণ পাওয়া যাবে সামনে।

 

 

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত
close-icon