আবারও আওয়ামী লীগ নেতা গ্রেফতার আইন চলুক নিজ গতিতে

| ১২:১৪, ডিসেম্বর ২৯, ২০১৬

 কিছুদিন আগে গ্রেফতার করা হয়েছিলো কক্সবাজারের এমপি আবদুর রহমান বদিকে, তারপর এমপি সুলতান মাহমুদ রানাকে। গত মঙ্গলবার পত্রিকায় এসেছে, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, নাসিরনগরে তা-বের ঘটনায় আওয়ামী লীগ নেতা ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান শেখ আবদু আহাদকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গত মঙ্গলবার বিকেলে তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তিনি উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক। সংশ্লিষ্ট থানার কর্মকর্তা বলেছেন, ঘটনার সঙ্গে আবদুল আহাদের সম্পৃক্ততা প্রমাণিত হয়েছে। পুলিশের দায়ের করা মামলায় তাকে গ্রেফতার করা হলো। গত ৩০ অক্টোবর নাসিরনগরে হিন্দুদের মন্দির ও বাড়িতে হামলার ঘটনা ঘটেছিলো। ইসলাম ধর্মকে অবমাননা করে ফেসবুকে ছবি পোস্ট করে উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে রসরাজ দাশ নামে এক সংখ্যালঘু যুবককে ব্লাকমেইলিং করা হয়েছিলো। পুলিশ রসরাজকেই গ্রেফতার করেছে। ইতোমধ্যে এই ঘটনায় পুলিশ আরো শতাধিক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে। আমরা চ্ইাবো, আইনের শাসনের প্রতিষ্ঠা, চাইবো, আইন তার নিজস্ব গতিতে, নিজের পায়ে ভর দিয়ে চলুক। আইনের চোখ অন্ধ হওয়া উচিত। আইনের পক্ষ একটিই, সেটা হলো ন্যায়ের পক্ষ। ৩০ লক্ষ শহীদের রক্তে কেনা বাংলাদেশের মাটিতে ‘বিচারের বাণী নিভৃতে কাঁদবে‘- এটা আমরা চাইতে পারি না। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার সঙ্গে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা অঙ্গাঅঙ্গিভাবে জড়িত। নাসিরনগরের ঘটনা এতটা ব্যাপ্তি পেতো না যদি আওয়ামী লীগের ওই নেতা ভূমিকা না নিতেন। শাসক দলের নেতার গন্ধ পেয়ে, একটা সুযোগের বাতাবরণ দিয়ে সন্ত্রাসী পা-ারা নাসিরনগরে তা-ব চালিয়েছে, সংখ্যালঘু অসহায় নরনারী ও জনগোষ্ঠীর ওপর আক্রমণ চালিয়েছে, তাদের ভিটামাটি ছাড়া করেছে। তাদের মন্দিরে হামলা চালিয়েছে। যারা মন্দিরে হামলা চালাতে পারে, তারা মসজিদেও হামলা চালাতে পারে। হেফাজতের উগ্র ধর্মান্ধরা ঢাকায় আগুন লাগিয়ে পবিত্র কোরআন শরীফ পুড়িয়ে দিয়েছে। এই সব সন্ত্রাসীরা জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে অবস্থান নিয়ে বলেছিলো, ‘গুলি ছুড়ো, নির্বিচারে গুলি করো।’ এ সব ধর্মান্ধ, সাম্প্রদায়িক সন্ত্রাসী যদি আওয়ামী লীগের নামধারী নেতাদের নিজেদের কোন্দলের কারণে আস্কারা পায় তাহলে সে সব নেতার কঠিন শাস্তি চাই আমরা। দুষ্টু গোয়ালের চেয়ে শূূন্য গোয়াল অনেক ভালো। এক ঝুড়ি টাটকা আমের মধ্যে একটি পচা আম থাকলে সব আমে পচন ধরবে। এখন আওয়ামী লীগের সমর্থকের অভাব নেই। এখনই আবদুর রহমান বদি, রানা ও আবদুল আহাদদের নর্দমায় নিক্ষেপ করার সুযোগ এসেছে। অতীতে মোস্তফা মহসীন মন্টু, জয়নাল হাজারীদের দল থেকে বের করে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তাতে দলের উপকার বৈ ক্ষতি হয় নি। দেশে সুশাসন কায়েম করতে হলে নিজ দলের, নিজ গোয়ালের দুষ্টুকে দমন করতে হবে, শিষ্টকে এগিয়ে দিতে হবে। আমরা চাই বাংলার ঘরে ঘরে নারায়ণগঞ্জের মেয়র আইভীর মতো নেতা-নেত্রীর জন্ম হোক। গ্রাম্য প্রবাদে আছে, ‘সৎ পুত্র কূলের ভূষণ।’ ব্যক্তিস্বার্থ রক্ষার জন্য নাসিরনগরে আবদুল আহাদ সৎ পুত্রের মতো ভূমিকা পালন করেননি। আমরা দৃঢ় আশাবাদী, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের অন্যায়কে প্রশ্রয় দেবেন না। অসৎ পুত্রকে আস্কারা দিয়ে কূল নষ্ট করবেন না। আমরা আরো আশা করবো, আবদুল আহাদের মতো অপরাধীরা যেন সহজে আদালত থেকে জামিন না পান। এটা যেন লোক দেখানো গ্রেফতার না হয়। তা হলেই আইনের শাসনের পথ নিষ্কণ্টক হবে। বিদ্বান ও চিন্তাবিদরা বলেছেন, সেই দেশেই গণতন্ত্র আছে, যে দেশে সংখ্যালঘুরা নিরাপদ, সসম্মানে জীবন-যাপন করছে। নিঃসন্দেহে বর্তমান সরকারের আমলে বাংলাদেশের সংখ্যলঘুরা নিরাপদে আছে। কিন্তু বিচ্ছিন্নভাবে মতলববাজরা সরকারকে বিব্রত করার জন্য হঠাৎ হঠাৎ সংখ্যালঘুদের ওপর হামলা চালিয়ে থাকে, তার সঙ্গে দুর্ভাগ্যজনকভাবে জড়িয়ে যাচ্ছে আওয়ামী লীগের কিছু লোকজন। এই ঘটনা প্রতিহত করার প্রক্রিয়া হিসেবে আবদুল আহাদদের গ্রেফতারকে আমরা স্বাগত জানাই। আমরা আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের সাবধান করতে চাই যে, আবদুল আহাদের পরিণতি যেন অন্যদের না হয়।

 

 

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত
close-icon