জঙ্গি আস্তানায় পুলিশি অভিযান অব্যাহত থাকুক এ উদ্যোগ

| ১১:৪৩, ডিসেম্বর ২৬, ২০১৬

ইংরেজি বছরের শেষ এবং আমাদের বিজয়ের মাস ডিসেম্বরের শেষ সপ্তায় জঙ্গিদের অস্তিত্ব বিস্ফোরণের আকারে জানান দিয়েছে। রাজধানীর আশকোনার জঙ্গি আস্তানায় এক নাগাড়ে ১৬ ঘন্টা অভিযান চালিয়েছে পুলিশ। এ রুদ্ধশ্বাস অভিযানকালে এক নারী জঙ্গি আত্মঘাতী বিস্ফোরণ ঘটায়। এতে ২ জঙ্গি নিহত হয়েছে। আহত অবস্থায় নারী জঙ্গিসহ ৪ জন আত্মসমর্পণ করেছে। ঘটনাস্থল, দক্ষিণখানের পূর্ব আশকোনা হজ ক্যাম্পের কাছে সূর্যভিলা নামক ৩ তলা বাড়ি। গোয়েন্দাসূত্রে জঙ্গিদের খবর পেয়ে পুলিশ গত শনিবার মধ্যরাতে বাড়িটিতে অভিযান চালায়। ঘটনাটি এতটা ভয়ঙ্কর হয়ে উঠেছিলো যে স্বয়ং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল ও পুলিশ প্রধান একেএম শহীদুল ইসলাম ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে, বিকেল পৌনে ৪ টার দিকে অভিযান সমাপ্তির কথা জানান। খুব অবাক হবার মতো ব্যাপার যে, জেএমবির মৃত নেতাদের পরিবার জঙ্গি কার্যক্রম চালাচ্ছে, এমন তথ্য উঠে এসেছে জাতীয় পত্রিকাগুলোতে। জঙ্গি কার্যক্রমে জড়িয়ে পড়ছে নারী ও শিশু। আশকোনার সূর্যভিলা অভিযানে একজন নারী জঙ্গি গ্রেনেড বিস্ফোরণ ঘটিয়ে নিজে মৃতুর কোলে ঢলে পড়ে, সেই সঙ্গে একটি শিশুও মারা গেছে। একটি শিশুকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করে পুলিশ হাসপাতালে পাঠিয়েছে। তার চিকিৎসা চলছে।

জঙ্গি নেতা কাদেরী, মূসা, তানভীর এরা গুলশান হলি আর্টিজান হোটেল আক্রমণ পরিকল্পনার সঙ্গে জড়িত ছিলো। এরা পরবর্তীকালে পুলিশি অভিযানে ধরা পড়ার সময় নিহত হয়। সূত্রটি জানাচ্ছে, হলি আর্টিজান হোটেলে হামলার পর ঢাকা এবং এর আশপাশে কয়েকটি জঙ্গি আস্তানায় অভিযান চালায় পুলিশ ও র‌্যাব। এতে তামিম, জাহিদ, কাদেরীসহ ২০ জনের বেশি নিহত হয়। জঙ্গি নেতাদের মধ্যে সাবেক সেনা অফিসার ও অন্যান্য পেশার লোকজন আছে। তারা তাদের গোটা পরিবারকে জঙ্গি কার্যক্রমে ডিভোডেট করে ফেলেছে। তাই বেদনার সঙ্গে লক্ষ্য না করে পারিনি যে, আশকোনা পুলিশি অভিযানে জঙ্গি নেতাদের স্ত্রী-পুত্র-কন্যা ও শিশু আহত, নিহত হয়েছে ও আত্মসমর্পণ করেছে। জঙ্গি নেতাদের স্ত্রীরা দায়িত্ব নিয়েছে নারী সমাজে জঙ্গি মতবাদের বিস্তার ঘটানোর। তারা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে নব্য জেএমবি শাখার নারী সংগঠন গড়ে তুলতে। অন্যদিকে পত্রিকায় এসেছে, আশকোনা অভিযানে জঙ্গি নেতা কাদেরীর ১৪ বছরের যে ছেলেটি মারা গেছে সে ছিলো দুর্ধর্ষ বিচ্ছু। সে তার বয়সী কিশোরদের জঙ্গি দলে সম্পৃক্ত করতে লিপ্ত ছিলো।

১৪ বছরের এক গরিব-দোকানি ছেলে জানিয়েছে, গত ১৫ ডিসেম্বর কাদেরীর ছেলের সঙ্গে তার কথা হয়েছিলো। সেদিন কাদেরীর ছেলে দোকানি- কিশোরকে তার বাসায় ডেকে নিয়ে জিহাদে যোগ দিতে বলেছিলো। সে বলেছিলো, ‘ইসলামের পথে আসতে হবে, জিহাদ করতে হবে, বন্দুক হাতে নিতে হবে।’ এইভাবে জঙ্গিরা নিরবে, গোপনে নারী ও শিশুদের পর্যন্ত জঙ্গিবাদে দীক্ষা দিচ্ছে। সূর্যভিলার আস্তানায় নারী ও শিশু থাকার কারণে পুলিশ চরম ধৈর্যের পরিচয় দিয়ে বার বার আত্মসমর্পণের আহবান জানালেও তারা তাতে কর্ণপাত করেনি। সিরিয়ায় আইএস যেভাবে শিশু ব্যবহার করছে, সেই দৃষ্টান্ত অনুকরণ করার লক্ষণ দেখা গেলো আশকোনার জঙ্গি আস্তানায়। সরকারকে, একই সঙ্গে জনগণকে সহজ কথাটি মনে রাখতে হবে, সহজে আগাছা নির্মূল করা যায় না, সহজে বদ নেশা ছাড়ানো যায় না।ধর্মের নামে জঙ্গি আগাছা উৎপাটন করতে হলে সমাজে জঙ্গি বিরোধী আন্দোলন থামানো যাবে না। আমাদের পীর, আউলিয়া, ধর্মপ্রাণ সুফীরা কখনো সহিংস, সশস্ত্র পন্থায় ইসলাম প্রচার করেন নি, এই ইতিহাস সাধারণ মানুষের কাছে তুলে ধরতে হবে। শুধু সরকারি প্রশাসন জঙ্গিবাদ নির্মূল করতে পারবে না, জনগণকেও এগিয়ে আসতে হবে। জঙ্গি বিরোধী অভিযান ও প্রচারণা অব্যাহত রাখতে হবে।



 

 

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত
close-icon