শান্তির অর্থনৈতিক মূল্য এ ধারা অব্যাহত কাম্য

| ১২:১৯, ডিসেম্বর ২৫, ২০১৬

গত কয়েক বছরে শান্তির পথে অগ্রগতিতে দক্ষিণ এশিয়ায় বাংলাদেশের অবস্থান দ্বিতীয়। বিশ্বের অনেক দেশের তুলনায় সংঘাত ও সহিংসতায় বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ক্ষতিও অনেক কম। তবে ইনস্টিটিউট ফর ইকোনমিকস অ্যান্ড পিস ১৬৩ দেশের যে তালিকা করেছে, তাতে বাংলাদেশের অবস্থান ১৪৮তম হলেও ক্ষতির যে অঙ্ক দেখানো হয়েছে, তা নিতান্ত কম নয়। ২০০৭ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত সময়ে ক্ষতি কমে এলেও সহিংসতা ও সংঘাতের কারণে ২০১৫ সালে বাংলাদেশের মাথাপিছু ক্ষতি ১৩৭ ডলার, যা জিডিপির ৩.৮ শতাংশ। বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশের জন্য এই অঙ্ক অবহেলা করার মতো নয়। কয়েক বছর আগেও দেশে যে হারে রাজনৈতিক সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে, তাতে আতঙ্কিত হওয়ার যথেষ্ঠ কারণ ছিল। লাগামহীন সহিংসতার আগুনে দেশ পুড়েছে। লক্ষ কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, যা পুষিয়ে নেওয়া সহজ নয়। রাজনৈতিক কর্মসূচির প্রধান বলি হতে হয়েছে দেশের নিম্ন আয়ের মানুষকে। যাত্রীবাহী বাস, রেলগাড়ি ও মালামাল পরিবহনকারী যানবাহনে আগুন দেওয়া হয়েছে। ওই সময়ে নাশকতা থেকে বাদ পড়েনি নৌপথও। রাজনৈতিক কর্মসূচি যখন সন্ত্রাসে রূপ নেয়, তখন সাধারণ মানুষের জীবনও বিপন্ন হয়। একসময়ের অন্যায্য হরতাল-অবরোধে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ বাধাগ্রস্ত হয়েছে। দেশের অর্থনীতির ওপর যে আঘাত এসেছিল, তা এখনো কাটিয়ে ওঠা যায়নি। দেশের অর্থনীতি ধ্বংসের পথে ঠেলে দেওয়ার কর্মসূচিকে রাজনৈতিক দুর্বৃত্তপনা ছাড়া আর কী বলা যেতে পারে। এমন অবস্থা ছিল কিছুদিন আগেও। সে অবস্থা থেকে বেরিয়ে এসে অর্থনীতি আবার নতুন করে ঘুরে দাঁড়াতে পেরেছে, এমন কথা বলা যাবে না। তবে উঠে আসার চেষ্টা আছে। ইনস্টিটিউট ফর ইকোনমিকস অ্যান্ড পিস যে প্রতিবেদন দিয়েছে, তা বাংলাদেশের জন্য ইতিবাচক। বিশ্বের কোথাও না কোথাও সংঘাত পরিস্থিতি বিরাজ করছে। যুদ্ধ ও সংঘাতে গত ৯ বছরে বিশ্বে অর্থনৈতিক ক্ষতি বেড়েছে ১৫০ শতাংশ। এই সংঘাতময় পরিস্থিতি থেকে সহজে পরিত্রাণ মিলবে না। বিশ্ব রাজনীতির নানা সমীকরণে কোথাও না কোথাও পরিস্থিতি উত্তপ্ত থাকবে। তবে বাংলাদেশের পরিস্থিতি সম্পূর্ণ ভিন্ন। এখানে দেশের অভ্যন্তরে ক্রিয়াশীল রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে মতৈক্যের অভাব রয়েছে। তারই প্রভাব পড়ছে অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক বাজারে। তাতে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে দেশের অর্থনীতি। পারচেজিং পাওয়ার প্যারিটি বা পিপিপি হিসেবে ২০১৫ সালে বাংলাদেশের আর্থিক ক্ষতি দুই হাজার ১৮১ কোটি ৫০ লাখ ডলার। ক্ষুদ্র অর্থনীতির যেকোনো দেশের জন্য এই অঙ্ক একেবারে ছোট নয়। দেশের স্বার্থে তাই সংঘাত-সহিংসতার পথ থেকে সরে আসতে হবে। সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় এগিয়ে যাবে বাংলাদেশ।



 

 

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত
close-icon