শিরোনাম

স্বাধীন নির্বাচন কমিশনের দাবি সকলের সহযোগিতা প্রয়োজন

১৬:০৭, ডিসেম্বর ২৩, ২০১৬

একটি স্বাধীন, পক্ষপাতহীন, দলনিরপেক্ষ এবং উচ্চ যোগ্যতাসম্পন্ন নির্বাচন কমিশন গঠনে বাংলাদেশের প্রতি আহবান জানিয়েছে ইইউ। আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন সব দলের জন্য অংশগ্রহণমূলক করার লক্ষ্যেই এমন ইসি গঠনের আহবান জানায় সংস্থাটি। ইইউর সদর দপ্তর বেলজিয়ামের ব্রাসেলসে বাংলাদেশ-ইইউ সাব-গ্রুপের এক যৌথ বৈঠকে এ আহবান জানানো হয়। অতি সম্প্রতি বাংলাদেশের মহামান্য রাষ্ট্রপতি মোঃ আবদুল হামিদ’র সঙ্গে নির্বাচন কমিশন গঠন নিয়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সংলাপ চলছে। তারাও মহামান্য রাষ্ট্রপতির কাছে দাবি করেছেন একটি স্বাধীন নির্বাচন কমিশন। বিশ্ব সুপার পাওয়ার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত বার্নিকাটও বলেছেন, বাংলাদেশে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন সম্পন্ন করার জন্য একটি স্বাধীন, দলনিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশন দেখতে চায় যুক্তরাষ্ট্র। কেবল অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনই গণতন্ত্র নয়, তবুও অবাধ-নিরপেক্ষ নির্বাচন না হলে, ক্ষমতার জোরে কোনো সরকারের নীলনক্শা মোতাবেক নির্বাচন হলে গণতন্ত্রের ভিত দুর্বল হয়ে যায়। জাতীয় স্বার্থেই অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়া দরকার, সে লক্ষ্যে দলনিরপেক্ষ, স্বাধীন, শক্তিশালী নির্বাচন কমিশন গঠিত হওয়ার বিকল্প নেই। কিন্তু বাংলাদেশে দল নিরপেক্ষ মানুষ পাওয়া অত্যন্ত কঠিন। রাজনৈতিক পরিস্থিতি দেখে মনে হওয়া স্বাভাবিক যে, বাংলাদেশের একটি গাছও আওয়ামী লীগ-বিএনপিতে বিভক্ত। তাছাড়া কোনো ব্যক্তি যখন ভোট দিতে যান তখন আর তিনি দলনিরপেক্ষ থাকেন না, তিনি যে দলের সমর্থক, সেই দলকেই ভোটটি দিয়ে থাকেন। সুতরাং বিএনপির চেয়ারপার্সন বেগম জিয়ার কথাই ঠিক, ‘পাগল আর শিশু ছাড়া কেউ নিরপেক্ষ নয়।’ তাহলে উপায় কী? উপায় হচ্ছে বিবেকবান নাগরিক খুঁজে বের করা। যাকে প্রধান নির্বাচন কমিশনার হিসেবে পবিত্র দায়িত্ব প্রদান করা হবে, তিনি মনে মনে যে দলের সমর্থকই হোন না কেন তাঁর বিবেকই তাঁকে দিয়ে জাতির স্বার্থে, গণতন্ত্রের স্বার্থে নিরপেক্ষ ও নির্মোহ দায়িত্ব পালন করাবে। এ ব্যাপারে তিনি জীবন বাজি রেখে মহান জাতীয় দায়িত্ব পালন করবেন। বিচারপতি মুহম্মদ হাবিবুর রহমান তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান হিসেবে ১৯৯৬ সালে এমন দায়িত্ব পালন করেছিলেন। আর কারো নাম জোর দিয়ে বলা যাবে না। আমরা একটি ব্যাপারে আনন্দিত, তথাকথিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠনের ধনুকভাঙা পণ থেকে রাজনৈতিক দলগুলো সরে এসে স্বাধীন-শক্তিশালী নির্বাচন কমিশন গঠনের দাবি জানাচ্ছে। এই দাবিই জাতির জন্য মঙ্গলজনক। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দুর্বলতা ও অন্তঃসারশূন্যতা আমরা দেখেছি। তাদের আত্মঘাতী ভূমিকাও আমরা দেখেছি। ধীরে ধীরে এই প্রথাটি পরিত্যক্ত হওয়ায় আমরা খুশি। এখন রাজনৈতিক দলগুলোর জোর দাবি, জোর তৎপরতার ফলে দেশে অবশ্যই গড়ে উঠবে স্বাধীন, শক্তিশালী নির্বাচন কমিশন। আমরা বিশ্বাস করি, এক সময় জাতীয় সংসদেও স্বাধীন নির্বাচন কমিশনের আইন পাস করা হবে। নির্বাচনকালীন সময়ে নির্বাচন কমিশনই সরকারের মতো ক্ষমতা প্রযোগের অধিকারী হবে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্পন্ন করার ব্যাপারে, আর কোনো ব্যাপারে নয়। ভারত, ব্রিটেন ও অন্যান্য গণতান্ত্রিক দেশে এই চিত্রই পরিলক্ষিত হয়। নির্বাচন কমিশনের অধীনে নির্বাচন হতে হতে এর দুর্বলতাগুলো আস্তে আস্তে খসে যাবে, এক সময় প্রতিষ্ঠানটি শক্তিশালী হয়ে উঠবে। তখন কেউ কাউকে দোষারোপ করে রাজনীতিতে সহিংসতার জন্ম দিতে পারবেন না। তখন সংসদ বর্জনের প্রবণতা দূর হবে। দেশে সংসদ কেন্দ্রিক রাজনীতি শুরু হবে। নির্বাচন বয়কট করে জ্বালাও পোড়াও এর রাজনীতিও বন্ধ হবে। এ কথাও ঠিক যে, ২০১৪ সালের নির্বাচনে যদি বিএনপি অংশগ্রহণ করতো তাহলে নির্বাচন কমিশনারের অগ্নিপরীক্ষা হয়ে যেতো। অকারণেতো কাউকে দোষারোপ করা যায় না। গত নির্বাচনের সময় বিএনপি এখনকার মতো স্বাধীন, শক্তিশালী নির্বাচন চায় নি, চেয়েছিলো তত্ত্বাবধায়ক সরকার। তাদের নির্বাচন বর্জন সঠিক প্রমাণিত হয় নি। এবার তারা একটি স্বাধীন নির্বাচন কমিশনের দাবি জানিয়েছে। এই দাবি যথার্থ। বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের প্রাণের দাবি, দেশে অবাধ, নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হোক। তার জন্য একটি দলনিরপেক্ষ, শক্তিশালী, মেরুদণ্ডশীল নির্বাচন কমিশন গঠন জরুরি। এ ব্যাপারে সরকারের দায়িত্ব অনেক বেশি। অন্যদেরও দায়িত্ব আছে। নির্বাচন কমিশন বিষবৃক্ষ হবে না- হবে ফলবান বৃক্ষ।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত