শিরোনাম

ডেঙ্গুতে মৃত্যু আতঙ্ক প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা নেয়া জরুরি

প্রিন্ট সংস্করণ  |  ০৪:৪৬, আগস্ট ০৪, ২০১৯

ডেঙ্গু পরিস্থিতি দিন দিন আরও অবনতি হচ্ছে। বর্তমানে রাজধানী ছাড়িয়ে সারা দেশে ছড়িয়ে পড়েছে ডেঙ্গু। মাত্র কয়েকদিন আগেও ডেঙ্গুর অস্তিত্ব সীমিত ছিলো দেশের ১৭ জেলায়। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত দেশের অন্তত ৬৩ জেলায় ডেঙ্গু পরিস্থিতি দিন দিন আরও অবনতির খবর পাওয়া গেছে।

আশঙ্কা করা হচ্ছে, আসন্ন ঈদের সময় ঘরমুখো মানুষের মাধ্যমে এ জ্বর প্রত্যন্ত অঞ্চলে আরো ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়তে পারে। বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, একদিনে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে কয়েক হাজার ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছে।

এ প্রতিবেদন থেকেই স্পষ্ট বুুঝা যায় এ জ্বর বর্তমানে কতটা ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। বিদ্যমান পরিস্থিতিতে সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালগুলোতে ডেঙ্গু রোগী সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা। স্থান সংকট দেখা দিয়েছে বিভিন্ন হাসপাতালে।

ইতোমধ্যে এ জ্বরে বেশ কয়েকজনের মৃত্যু হওয়ায় জনগণের উদ্বেগ আরে বাড়ছে। এডিস মশা নিয়ন্ত্রণে করণীয় নিয়ে সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জনগণকে সচেতন করার জন্য নানা ধরনের উদ্যোগ নিয়েছে। এসব ইতিবাচক পদক্ষেপ নেয়ার পরও আগামী দিনগুলোতে ডেঙ্গু পরিস্থিতির কতটা উন্নতি হবে তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যায়।

কারণ বৃষ্টিপাত ও তাপমাত্রা এডিস মশার বংশ বিস্তারের অনুকূল হওয়ায় আগামীতে আরও বেশ কিছুদিন এডিস মশার বংশ বিস্তার ঘটবে বলে ধারনা করা হচ্ছে। এবার দেশের ডেঙ্গু পরিস্থিতির এতটা অবনতি হবে, সাধারণ মানুষ তা কল্পনাও করেনি।

এ বিষয়ে স্বাস্থ্য অধিদফতরের তৎপরতা ছিলো বেশ ইতিবাচক। চলতি মৌসুমে রাজধানীতে এডিস মশার প্রাদুর্ভাব বাড়তে পারে- এমন শঙ্কার কথা জানিয়ে তিন মাস আগেই সিটি কর্পোরেশনসহ সরকারের সংশ্লিষ্টদের সতর্ক করেছিলো স্বাস্থ্য অধিদফতর। এমন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কী কী করণীয়- সে বিষয়েও সুপারিশ ছিলো।

অথচ আগে সতর্ক বার্তা পাওয়ার পরও সিটি কর্পোরেশনসহ সংশ্লিষ্টরা কী পদক্ষেপ নিয়েছেন? বাস্তব পরিস্থিতি ও সিটি কর্পোরেশনসহ সংশ্লিষ্টদের সক্ষমতার বিষয়টি যথাযথ প্রক্রিয়ায় বিভিন্ন গণমাধ্যমে গণবিজ্ঞপ্তি দিয়ে সবাইকে জানিয়ে দিলে হয়তো পরিস্থিতির এতটা অবনতি হতো না।

স্বাস্থ্য অধিদফতরের এক জরিপে জানা গেছে, ঢাকা উত্তর সিটিতে ৫৮ ও দক্ষিণে ৭৮ শতাংশ এলাকায় এডিসের লার্ভা দেখা গেছে। এ জরিপ থেকেই স্পষ্ট, দুই সিটি কর্পোরেশনসহ সংশ্লিষ্টরা দায়িত্বহীনতার পরিচয় দিয়েছেন। যে কোনো সময় যে কোনো জীবাণুর ধরন পাল্টায়, এটা নতুন কোনো তথ্য নয়।

রাজধানীর মশা যে ওষুধ প্রতিরোধী হয়ে উঠেছে, এ বিষয়ে প্রায় এক বছর আগে আইসিডিডিআরবি ঢাকার দুই সিটি কর্পোরেশনকে সতর্ক করেছিলো। এমন বার্তা পাওয়ার পরেও দুই সিটি কর্পোরেশন কী পদক্ষেপ নিয়েছে এটাও বিরাট এক প্রশ্ন। নির্মাণাধীন ভবনের অস্থায়ী চৌবাচ্চা, মেঝেতে জমিয়ে রাখা পানি এবং দোকান অধ্যুষিত এলাকায় ডাবের খোসা ও গ্যারেজের টায়ারের শতভাগেই লার্ভার দেখা মিলেছে এক জরিপে।

এছাড়া কয়েক মাস আগের চেয়ে কয়েকগুণ বেশি পূর্ণবয়স্ক এডিস মশার দেখা মিলেছে। এ অবস্থায় বাস্তব পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে সমস্যার সমাধানে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়া জরুরি হয়ে পড়েছে। বহুল প্রচারিত তথ্য হলো, স্বচ্ছ পানিতে এডিস মশার বংশ বিস্তার ঘটে। এবার মিললো ভিন্ন তথ্য।

জানা গেছে, রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় বর্জ্যস্তূপে থাকা ডাবের খোসা, টায়ার, বিভিন্ন ধরনের পাত্রে জমে থাকা পানিতেও এডিস মশার লার্ভা পাওয়া গেছে। বর্তমানে এডিস মশা সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ছে। কাজেই কী কী পরিবেশে এ মশার দ্রুত বংশ বিস্তার ঘটে তা বিস্তারিত জানা জরুরি।

আগামী দিনগুলোতে এডিসসহ অন্য মশার ধরন কতটা পাল্টাতে পারে তাও জানা জরুরি। ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত রোগী নিকটস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যাতে প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা পায়, তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে হবে সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত