শিরোনাম

‘ঢাকার নাম পালটে আল্লাহর নামে চলিলাম’

অনুপম দেব কানুনজ্ঞ  |  ১৮:৪৪, জুলাই ১৩, ২০১৯

এক সময় ঢাকার নীলক্ষেতের আশেপাশে মানুষ টানতে ঘোড়ার গাড়ি, মাল টানতে গরুর গাড়ি চলতো।

কোনো সরকারি নির্দেশে সেগুলোকে বন্ধ করা হয়েছে? না, মানুষ অপেক্ষাকৃত সহজে চলাচলের বিকল্প ব্যবস্থা পাওয়ায় সেগুলো এমনিতেই উঠে গেছে।

যারা ঢাকায় গরুর গাড়ি চালাতেন, তাদের পুনর্বাসন কি সরকারকে করতে হয়েছিল? না, কারণ অধিকাংশই তখন গ্রামেই স্বচ্ছল ছিলেন, যারা শহরে থাকতেন, তারাও বিকল্প ব্যবস্থার সঙ্গে স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় মানিয়ে নিয়েছিলেন।

গরুর গাড়ি কি গরিবের বাহন ছিলো? না। তখনও ‘সম্মানিত’ ব্যক্তিরাই গরুর গাড়িতে বা ঘোড়ার গাড়িতে চলাচল করতেন। গরিবেরা হেঁটেই চলাচল করতেন।

আজকে রিকশার বেলায় তাহলে কেনো এতো সমস্যা?

কারণ, ১. আপনি চালকদের বলছেন গ্রামে যেতে, কিন্তু আপনার পুরো রাষ্ট্রব্যবস্থা করে রেখেছেন ঢাকাকেন্দ্রিক।

২. আপনি মানুষকে বলছেন হেঁটে যেতে, কিন্তু হাঁটার জন্য ফুটপাত, জেব্রা ক্রসিং, সিগন্যাল, কিছুই নিশ্চিত করতে পারেননি। নারী-পুরুষ, শিশু-বৃদ্ধ কারো পক্ষে ঢাকায় শান্তিমতো এক কিলোমিটারও হাঁটার ব্যবস্থা রেখেছেন?

৩. আপনি বলছেন মানুষকে গণপরিবহন ব্যবহার করতে। কিন্তু আপনার কোনো গণপরিবহন নেই। আপনার আছে কিছু পরিবহন নামের কলঙ্ক, যা অন্য দেশে কটকটিওয়ালাও ডাস্টবিনে ফেলে আসতো।

রাজধানীতে কে কখন কোথায় কিভাবে কতোক্ষণে পৌঁছাবে, সে নিশ্চয়তা নাই।

আপনারা কথায় কথায় ‘বাংলাদেশ হবে সিঙ্গাপুর, ঢাকা হবে লস এঞ্জেলেস, বুড়িগঙ্গা হবে টেমস’ টাইপের বাণী দেন।

আমি জার্মানির বনে থাকি। আমি বলছি এখানে রিকশা না থাকলেও কেনো আমার সমস্যা হয় না।

১. এখানে বাসস্থানের আশেপাশে ১০-১৫ মিনিটের হাঁটা দূরত্বের মধ্যে স্ট্যান্ড আছে। সেখান থেকে নির্দিষ্ট সময় পর পর বাস বা ট্রাম বা ট্রেন ছেড়ে যায়। কখন কোন বাস/ট্রাম/ট্রেন আসবে, সেটা ক্যান্সেল হয়েছে কিনা, তাও অ্যাপের লাধ্যমে মোবাইলে আপডেট পাওয়া যায়।

২. প্রতিটি বাস/ট্রাম/ট্রেন স্টেশনে রয়েছে টিকেট কাটার ব্যবস্থা। আপনি নানা ধরনের টিকেট কেটে আপনার পছন্দমতো সাশ্রয় করতে পারবেন।

৩. কোনো কারণে রাস্তা বন্ধ থাকলে মুহূর্তের মধ্যে বিকল্প ব্যবস্থা করে দেয় পরিবহনের দায়িত্বপ্রাপ্ত সংস্থা।

৪. যদি মনে করেন হেঁটে যাবেন, প্রতিটি রাস্তার দুপাশে রয়েছে বিশাল ফুটপাত। জেব্রা ক্রসিংয়ে আপনি পা বাড়ালেই দুপাশে সব গাড়ি থেমে যেতে বাধ্য।

৫. রাস্তায় সাইকেলের জন্য রয়েছে আলাদা লেন। আপনি চাইলে পুরো দেশটাই সাইকেলে ঘুরে ফেলতে পারবেন।

এখন কি বলবেন? এতো জায়গা, এতো কম মানুষ, এদের সঙ্গে আমাদের মেলালে চলে? তাহলে মেলাবেন না। আপনিই তো সিঙ্গাপুর, জাপান, লন্ডন, অ্যামেরিকার স্বপ্ন দেখান। সিঙ্গাপুরের জায়গা কতোটুকু জানেন? পুরো সিঙ্গাপুর দেশটা ঢাকার মাত্র দ্বিগুণ।

হয় আপনাদের নাম পালটে সবার নামের আগে ‘ব্যর্থ’ পদবি বসান, অথবা ঢাকার নাম পালটে রাখেন- ‘আল্লাহর নামে চলিলাম’।

লেখক: সাংবাদিক

আরআর

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত