শিরোনাম

গ্যাসের দাম বৃদ্ধি ভোক্তাদের দিকটাও ভাবতে হবে

প্রিন্ট সংস্করণ  |  ০০:১২, জুলাই ০২, ২০১৯

গ্যাস ও বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর আগে গ্রাহক, বিশেষজ্ঞ ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাদের মতামত নিতে গণশুনানির ব্যবস্থা যেমন আছে, তেমনি গণশুনানি দরকার জনগণের আয়-ব্যয়ের ওপরও।

সদ্যঘোষিত বাজেটে জীবনযাত্রার নানা উপকরণের দাম বৃদ্ধির সাথে গ্যাসের দাম বাড়ার ফলে মানুষের জীবনে চরম ভোগান্তি নেমে আসবে। বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) গত ১১ থেকে ১৪ মার্চ গণশুনানির আয়োজন করে।

গণশুনানিকালে প্রমাণিত হয়েছে গ্যাসের দাম বৃদ্ধির কোনো দরকার নেই। তারপরও বাড়ানো হচ্ছে। বরাবর গণশুনানি সম্পূর্ণই তামাশার আনুষ্ঠানিকতা! কোনো নিয়মনীতি, মতামতের তোয়াক্কা না করেই বিইআরসি সম্পূর্ণ অযৌক্তিকভাবে গ্যাসের দাম বাড়াচ্ছে।

জনগণের প্রতি কোনো ধরনের দায়বদ্ধতা ও জবাবদিহিতা না থাকলেই যা খুশি তা করা যায়। ঢাকা ও ঢাকার আশপাশসহ দেশব্যাপী যেসব এলাকায় গ্যাস সংযোগ রয়েছে সবখানেই কম-বেশী গ্যাস সংকট রয়েছে। বিভিন্ন এলাকায় তীব্র গ্যাস সংকটের অভিযোগও কম নয়।

এসব সংকট দূর করার ব্যাপারে তিতাসের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা কোনো আশার কথা শোনাতে পারেননি। বরং সাধারণ গ্রাহকদের এই সংকটের মধ্যে বাড়তি শুভ (!) সংবাদ হতে চলেছে মূল্যবৃদ্ধি!

গত ৩০ জুন বাসাবাড়িসহ সব শ্রেণির গ্রাহকের জন্য গ্যাসের দাম বাড়ার ঘোষণা দেয় বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। ভোক্তা পর্যায়ে গ্যাসের দাম বাড়িয়ে এক চুলায় ৯২৫ টাকা ও দুই চুলায় ৯৭৫ টাকা করা হয়েছে।

এছাড়া আবাসিকে মিটারযুক্ত প্রতি ঘনমিটারে গ্যাসের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১২ টাকা ৬০ পয়সা। গড়ে সব খাতে ৩২ দশমিক ৮ শতাংশ দাম বাড়ানো হয়েছে। ১ জুলাই থেকে এ দাম কার্যকর হবে বলে বিইআরসির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

শীত মৌসুমে কতিপয় ভিআইপি এলাকা বাদে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে গ্যাসের সংকট তীব্র থেকে তীব্রতর হয়ে থাকে। ভোর রাতে চুলায় যা একটু গ্যাস পাওয়া যায়। সারাদিন গ্যাস থাকে না। এলপি গ্যাস, রাইস কুকার বা কেরোসিনের স্টোভ ব্যবহার করে রান্না ও পানি ফুঁটাতে হয়।

এতে গ্যাস বিল, কারেন্ট বিল ও তেল কিনতে হয়। আগে সবসময় গ্যাস পাওয়া নিশ্চিত না করে, সেবার মান না বাড়িয়ে, গ্যাসের দাম বাড়ানো মধ্যম ও স্বল্পআয়ের মানুষের প্রতি কিছুতেই সুবিচার হয়নি। বাসাবাড়ি থেকে অ্যাভারেজে ৮৮ ঘনমিটারের দাম নিচ্ছে সরকার।

গ্যাসের প্রেসার না থাকায় ২০/২২ ঘনমিটারের বেশি গ্যাস দিতে পারছে না। শিল্প খাতেও কম গ্যাস দিয়ে বেশি দাম নিয়ে থাকে। সচেতন মহলের অভিমত, জ্বালানি খাতে লাগামহীন দুর্নীতি বন্ধ না করে শুধু মূল্য বৃদ্ধি কাম্য নয়। গ্যাসের দাম না বাড়িয়ে প্রিপেইড মিটার লাগালে অপচয় যেমন বন্ধ হতো তেমনি সরকারের আয়ও বাড়তো বহুগুণ।

তাই সবার আগে গ্যাস অপচয় বন্ধ ও গ্যাস কোম্পানির কর্মকর্তাদের যোগসাজশে চোরালাইনের চোরাকারবারী বন্ধ করতে হবে। শুধু আবাসিক এবং সিএনজি খাতেই নয়, সব শ্রেণির গ্রাহকের গ্যাসের দামই বাড়িয়েছে বিইআরসি।

গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধির তালিকায় রয়েছে বিদ্যুৎ উৎপাদন, সার কারখানা, শিল্প, বাণিজ্যিক, চা বাগানসহ ক্যাপটিভ খাতে ব্যবহূত গ্যাস। সিএনজি পাম্পে গ্যাসের দাম বাড়ালে তার প্রভাব পরিবহন খাতেও পরবে।

যাত্রী এবং মালামাল পরিবহনে ভাড়া বাড়ার সাথে গণপরিবহনে ভাড়া বৃদ্ধি নিয়ে নৈরাজ্য তৈরি হবে। নিত্যপণ্যের দাম বাড়বে। এরপর সরকার বলবে যেহেতু বেশিরভাগ বিদ্যুৎ কেন্দ্র গ্যাসে চলে। তাই বিদ্যুতের দামও বাড়ানো হোক।

সৎভাবে মানুষ কিভাবে বেঁচে থাকবে? অল্প এবং সীমিত আয়ের মানুষকে প্রাত্যহিক জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রেই মূল্য বৃদ্ধির যাঁতাকলে স্পৃষ্ট হয়ে নাভিশ্বাস অবস্থা। ভোক্তাদের কথা বিবেচনা করে গ্যাসের দাম বাড়ার বিরোধিতা করেন ভোক্তা অধিকার সংগঠন ক্যাবের জ্বালানি উপদেষ্টা অধ্যাপক এম শামসুল আলম।

তিনি ওই সময় বলেছিলেন, এক অর্থবছরে গ্যাসের মূল্য একবারের বেশি বৃদ্ধি করা যায় না, এটি বিইআরসির আইনেই বলা আছে। এলএনজি (তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস) আমদানির কথা বলে গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধির যে প্রস্তাব বিতরণ কোম্পানিগুলো দিয়েছে, তা অবৈধ।


জাতীয় গ্রিড থেকে কোটি কোটি ঘনফুট গ্যাস চুরি হয়ে যাচ্ছে। ঢাকার চারপাশে লাখ লাখ অবৈধ গ্যাস সংযোগ রয়েছে। একটি মহল বিশেষ সুবিধা নিয়ে সেগুলো বহাল রাখছে।

সেটা প্রতিরোধের ব্যবস্থা না করে উল্টো গ্যাসের দাম বাড়ানো চরম অবিচার। দাম বাড়িয়ে গ্যাস চোরদের আরো উৎসাহিত করা হয়।

অন্যের চুরির খেসারত শান্তিপ্রিয় জনগণকে দিতে হবে— এটা হতে পারে না। গ্যাস সেক্টরে দুর্নীতি ও দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তাদের কারণে সাধারণ ভোক্তা কেন মাসুল দেবে?

 

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত