শিরোনাম

পবিত্র ঈদুল ফিতর উৎসব হোক আনন্দময়

প্রিন্ট সংস্করণ  |  ০৪:১২, জুন ০৪, ২০১৯

ঈদ মানে আনন্দ ঈদ মানে খুশি। আজ ২৯ রমজান। সরকারি ঘোষণা অনুযায়ী আগামীকাল ৫ জুন বুধবার উদযাপিত হওয়ার কথা মুসলমানদের ধর্মীয় উৎসব ঈদুল ফিতর। ইতোমধ্যে ঈদের নামাজ আদায়ে সকল প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে।

ঈদের দিন বৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনাকে সামনে রেখে রাজধানীর কেন্দ্রীয় ঈদগাহসহ দেশের বিভিন্ন ঈদগাহ ময়দানে ত্রিপল দিয়ে ছাউনি দেয়া হয়েছে। এরই মধ্যে রাজধানীসহ বিভিন্ন স্থানে কর্মরত অনেক কর্মজীবীই আপনজনদের সঙ্গে ঈদ উদযাপন করতে নিজ নিজ কর্মস্থল থেকে ফিরছেন পরিবারের সদস্যদের কাছে।

প্রতি বছরের মতো ঈদযাত্রায় এবারও ছিলো, বিভিন্ন ধরনের দুষ্টচক্র, মলমপার্টি, ছিনতাইকারী ও অজ্ঞানপার্টির আতঙ্ক। যাদের উদ্দেশ্য হলো ঘরমুখো মানুষকে বিপদে ফেলা। ঈদের সময়ই এদের অপতৎপরতা বেশি দেখা যায়।

সখ্যতার আড়ালে বিভিন্ন খাবারে নেশাজাতীয় বা চেতনানাশক দ্রব্য মিশিয়ে মানুষকে অজ্ঞান করে হাতিয়ে নেয় সব কিছু। প্রতিবারের মতো এবারও জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ঘরমুখো মানুষকে বাস বা ট্রেনের ছাদে যাতায়াত করতে দেখা গেছে। তাই ঈদযাত্রায় সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে হবে যেন কোনো ধরণের দুর্ঘটনা না ঘটে।

এছাড়া জাল টিকিট বিক্রি করার অনেক চক্র আছে, যারা ভালো সিট দেয়ার কথা বলে বেশি টাকা নিয়ে উঠিয়ে দেয় লক্কর-ছক্কর গাড়িতে। তাই যানবাহনের টিকিট প্রতারকদের থেকে সবাইকে সাবধান থাকতে হবে।

মুসলমানদের সবচেয়ে বড় আনন্দ উৎসব হলো বছরে দুটি ঈদ, ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহা। দীর্ঘ একমাস সিয়াম সাধনার পর মুসলমানদের দোয়ারে হাজির হয় ঈদুল ফিতর। দিনটি ভ্রাতৃত্ব, সহমর্মিতা ও ধনী-গরিব নির্বিশেষে সবাইকে এক কাতারে দাঁড়ানোর চেতনায় উদ্বুদ্ধ করে।

ঈদকে কেন্দ্র করে শহর থেকে বিভিন্ন ঈদসামগ্রী কেনাকাটা করে নাড়ির টানে গ্রামের বাড়ি ফিরছে। ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করে নিতে ধনী-গরিব নির্বিশেষে সকল মানুষ এক কাতারে দাঁড়াবে। দারিদ্র্যতার কারণে কেউ যাতে ঈদের আনন্দ থেকে বঞ্চিত না হয় তার জন্য ইসলামে ফিতরা প্রদানের ব্যবস্থা রয়েছে।

এ ছাড়া সম্পদের পরিমাণের ওপর ভিত্তি করে জাকাত প্রদানও করে থাকে। এতে সামাজিক ও ধর্মীয় দায়বদ্ধতা ছাড়াও অর্থনৈতিক বৈষম্য দূর হয়। এ ছাড়া সমাজের বিত্তবান মানুষ ও বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন নতুন জামা-কাপড় ও ঈদসামগ্রী প্রদানের মাধ্যমে ঈদের আনন্দকে আরও বাড়িয়ে তোলে।

সমস্ত যানবাহনেই রয়েছে বাড়ি ফেরা মানুষের উপচেপড়া ভিড়! ঈদ উপলক্ষে বিশেষ ট্রেনে বাড়তি বগি সংযোজন, বিআরটিসির বিশেষ বাসের ব্যবস্থা করার পরও অনেককে ট্রেনের-বাসের ছাদে চড়ে বাড়ি ফিরতে দেখা যায়।

এ ছাড়া অগ্রীম টিকিট বিক্রি শুরু হলেই বেড়ে যায় কালোবাজারিদের তৎপরতা। যার ফলে সাধারণ যাত্রীদের গুণতে হয় তিন-চারগুণ বেশি ভাড়া। তার ওপর সহ্য করতে হয় যানজটের তীব্র যন্ত্রণা। এতকষ্টের পরও মানুষ বাড়ি ফেরে, এটাই ঈদের আনন্দ। এই আনন্দকে আরও পূর্ণতা দিতে এবং দুর্ভোগ কমানোর জন্য যাত্রী পরিবহনের ক্ষেত্রে শৃঙ্খলা ও ব্যবস্থাপনা আরও উন্নত করতে হবে।

ফিটনেসবিহীন গাড়ি ও লঞ্চ সড়ক ও নৌ-পথ থেকে সরানো খুবই জরুরি। এ ছাড়া যানজট ও দুর্ঘটনা নিরসনে কর্তৃপক্ষকে নিতে হবে বাড়তি নজরদারির ব্যবস্থা। ঈদে সবার জীবন হয়ে উঠুক আনন্দময় ও নিরাপদ, ধনী-গরিবের মিলনমেলায় পরিণত হোক ঈদ উৎসব।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত