শিরোনাম

মুদ্রাপাচারের সিন্ডিকেট জড়িতদের বিরুদ্ধে আরও সক্রিয়তা প্রয়োজন

প্রিন্ট সংস্করণ  |  ০৯:৫৩, মে ৩০, ২০১৯

বাংলাদেশের অর্থনীতিতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত করছে মুদ্রাপাচার। দীর্ঘদিন ধরেই চলে আসছে এই ক্ষতিকর প্রবণতা। ওয়াশিংটনভিত্তিক অর্থপাচারবিরোধী সংস্থা গ্লোবাল ফিন্যানশিয়াল ইনটিগ্রিটির (জিএফআই) প্রতিবেদন অনুযায়ী ২০০৫ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত ১০ বছরে দেশ থেকে ছয় লাখ কোটি টাকা পাচার হয়েছে। মুদ্রাপাচারের হার দিন দিন বাড়ছে বৈ কমছে না।

সুইজারল্যান্ড কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রতিবেদন অনুযায়ী ২০১৫ সালের তুলনায় ২০১৬ সালে সুইস ব্যাংকে মুদ্রাপাচার বেড়েছে ২০ শতাংশ, পাচার হয়েছে পাঁচ হাজার ৫৬০ কোটি টাকা। শুধু সুইজারল্যান্ডেই নয়, অন্যান্য দেশেও মুদ্রাপাচারের পরিমাণ ক্রমেই বাড়ছে। শুধু ব্যাংকিং চ্যানেলেই নয়, ওভার ইনভয়েসিং, আন্ডার ইনভয়েসিং, হুন্ডিসহ আরো অনেক উপায় আছে মুদ্রাপাচারের।

সবই কার্যকর রয়েছে বাংলাদেশ থেকে মুদ্রাপাচারের ক্ষেত্রে। সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত খবর থেকে জানা যায়, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সাবেক সহকারী একান্ত সচিব (এপিএস) মিয়া নুর উদ্দিন অপু সামপ্রতিক সময়ে প্রায় ৩০০ কোটি টাকা বিদেশে পাচার করেছেন।

এর মধ্যে ২৩ কোটি টাকা গেছে লন্ডনে অবস্থানরত তারেক রহমানের কাছে। বাকি টাকা গেছে দুবাই, মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর, ফিলিপাইন ও যুক্তরাজ্যে। জানা যায়, এ পরিমাণ টাকা বিদেশে পাঠাতে তিনি তার ঘনিষ্ঠ ৫৯০ জনের ব্যাংক হিসাব ব্যবহার করেছেন।

অভিযোগ আছে, তাদের বেশির ভাগই হুন্ডি ব্যবসায়ী। অপুর বিরুদ্ধেও একই অভিযোগ রয়েছে। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে গ্রেপ্তার হওয়া অপু এ ব্যাপারে নিজেই অনেক তথ্য দিয়েছেন। বর্তমান সময়ে বিশ্বব্যাপী যোগাযোগ যেমন সহজ ও দ্রুততর হয়েছে, তেমনি সহজ হয়েছে মুদ্রাপাচারের পথও।

মুদ্রাপাচার নিয়ন্ত্রণে বাংলাদেশে বেশ কিছু সংস্থা রয়েছে কিন্তু তাদের দক্ষতা নিয়ে অনেক প্রশ্ন রয়েছে। বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ব্যাংক ম্যানেজমেন্টের গবেষণায়ও উঠে এসেছে এমন তথ্য। অপু ও তার সঙ্গে জড়িত সিন্ডিকেটের তথ্য উঠে এসেছে সম্পূর্ণ ভিন্নভাবে।

বিগত জাতীয় নির্বাচনে অপু নিজেও বিএনপির একজন প্রার্থী ছিলেন। তা ছাড়া অন্যান্য আসনে নির্বাচনকে প্রভাবিত করতে অপু বিপুল অর্থ লেনদেন করেন। পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) সে সংক্রান্ত অভিযোগ তদন্ত করতে গিয়ে মুদ্রাপাচারের বিশাল নেটওয়ার্কের তথ্য পায়। অপুর সঙ্গে বেশ কিছু ব্যাংক কর্মকর্তা এবং বিএনপি-জামায়াতের কিছু বড় ব্যবসায়ীর ঘনিষ্ঠ ও রহস্যজনক যোগাযোগের তথ্যও পাওয়া গেছে।

তিনটি বেসরকারি ব্যাংক থেকে অপু ৩৪০ কোটি টাকা ঋণ নিয়েছেন। মাহমুদুল হাসান নামে আরেক বিএনপি নেতার মালিকানাধীন ইউনাইটেড করপোরেশন থেকে অপুর সঙ্গে কয়েক শ কোটি টাকা লেনদেন হয়েছে। বিপুল পরিমাণ অর্থ এসেছে বিদেশ থেকেও। অপুর বিরুদ্ধে শেয়ারবাজারে কারসাজির অভিযোগও রয়েছে। হুন্ডি ব্যবসা বা মুদ্রাপাচার শুধু অর্থনীতিরই ক্ষতি করে না।

এসব প্রক্রিয়া চোরাচালান, জঙ্গিদের অস্ত্র বিস্ফোরক সংগ্রহে সহায়তাসহ আরো অনেকভাবেই দেশের ক্ষতি করে। অপু ও এই সিন্ডিকেটের কর্মকাণ্ডের সঠিক তদন্ত হোক এবং অপরাধের সঙ্গে যাদেরই সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যাবে, তাদের বিচারের মুখোমুখি করা হোক।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত