শিরোনাম

জাতির পথপ্রদর্শকরাই ভুল পথে!

প্রিন্ট সংস্করণ॥আব্দুল্লাহ্-আল-মামুন  |  ০৩:৪৩, মে ২৭, ২০১৯

গত ২৩ মে সন্ধ্যার পরপরই আমার ফোনে রিং আসলো। রিসিভ করতেই শুনতে পেলাম স্কুলের বান্ধবীর কোমল মোলায়েম কণ্ঠস্বর। খুশি হলাম অনেকদিন পর ছোট বেলার কেউ স্মরণ করলো ভেবে। কথা এগোতে বুঝলাম ২৪ মে সাতক্ষীরা জেলায় প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। আর এক বান্ধবী এবার পরীক্ষার্থী।

এও জানলাম এবারসহ সে দ্বিতীয়বারের মতো পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করছে। ক্রমান্বয়ে ওর কণ্ঠস্বর নিচু হচ্ছে। মুখ থেকে কথা বের হচ্ছে না। আমি সহসা জিজ্ঞেস করলাম, কি ভয় পাচ্ছিস নাকি, না পরীক্ষা নিয়ে দুশ্চিন্তা কাজ করছে? ও বললো, তাতো একটু আছে। বুঝিস তো হাজার হলেও মেয়ে মানুষ। বিয়ের চাপ দিচ্ছে বাসা থেকে।

এবার আমার চাকরিটা পাওয়া খুব জরুরি। আমি বললাম, টেনশন নিস না। সবকিছু ঠিক হয়ে যাবে। ভালোমতো পরীক্ষা দে। শুভ কামনা রইলো। এভাবে আমরা কথা শেষ করলাম। একটু পরেই আবার রিং। পকেট থেকে ফোন বের করেই দেখলাম ওর নাম্বার। বিরক্ত হলাম! একে তো সারাদিন রোজা রেখে জ্যামের সাগর পাড়ি দিয়ে পড়াতে যাচ্ছি তার মধ্যে বারবার ফোন।

অনিচ্ছা সত্ত্বেও রিসিভ করলাম। ও বললো জানিস সবাই বলাবলি করছে পরীক্ষা দিয়ে কোনো লাভ নেই। যাদের টাকা আর কোটা আছে ওরাই চাকরি পাবে। আমরা সাধারণ, আমাদের চাকরি হবে না। চারদিকে প্রশ্নফাঁসের কথা শুনছি। আমি বললাম, এসব গুজবে কান দিস না। নিজের কাজ নিজে কর। যা পড়েছিস তা বারবার রিভিশন কর।

ম্যাথের সূত্র আর ইংরেজি গ্রামারের নিয়মগুলো ভালো করে দেখিস। ও বললো, ঠিক আছে। ফোন কাটতেই আমি ভাবনার জগতে ডুবে গেলাম। ওর কথাটা বারবার মাথায় টিপ্পনী কাটছিলো। সত্যিই কি প্রশ্নফাঁস হচ্ছে, না আসলে গুজব? আবার ভাবলাম, লোকে তো কত কথা বলে তার সাথে কি আর বাস্তবতার যোগসাজশ থাকে।

কত গুজব তো চারদিকে ছড়ায়, বাস্তবে কি তার কূলকিনারা আছে? এই তো কিছুদিন আগে শুনেছিলাম, চাঁদে নাকি সাঈদীর ছবি দেখা গেছে। এর আগেও শুনেছিলাম, জনসংখ্যা এতই বেড়েছে যে একটা পুরুষের বিয়ের জন্য নাকি দুইটা মেয়ে বরাদ্দ। মেয়ে এমন হারে বাড়ছে। কিন্তু বাস্তবের সাথে এ দুটো ঘটনার আকাশ-পাতাল তফাৎ। প্রথমটা তো ডাহা মিথ্যা।

বিজ্ঞানের সাথে সম্পূর্ণ বৈপরীত্য। আর দ্বিতীয়টির ক্ষেত্রে দুটো তো দূরের কথা একটা নিয়েও সংশয়! বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর হিসেব অনুযায়ী ২০১৮ সালের পহেলা জানুয়ারি পর্যন্ত বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যা ১৬ কোটি ৩৬ লাখ ৫০ হাজার। এর মধ্যে পুরুষ ৮ কোটি ১৯ লাখ ১০ হাজার আর মহিলা ৮ কোটি ১৭ লাখ ৪০ হাজার।

এসব ভেবে মাথা থেকে ভুতটা নামালাম। ২৪ মে সারাদিন ব্যস্ততার মধ্যে কাটলো। বান্ধবীর পরীক্ষা কেমন হলো জিজ্ঞেস করার ফুরসত পাইনি। রোজা ভেঙে ইফতারি সেরে ফেসবুকে ঢুকলাম। স্ক্রল করতে করতে হঠাৎ পত্রিকার একটা খবরে চোখ আটকে গেল ‘সাতক্ষীরায় প্রশ্নফাঁসে জড়িত ২ ব্যাংক কর্মকর্তাসহ ২১ জনের ২ বছরের জেল’।

আমি ভ্যাবাচেকা খেয়ে গেলাম। পত্রিকার ভিতরে প্রবেশ করতেই দেখলাম আটককৃতদের ভিতরে ৬ জন আমার পরিচিত। এমনকি আমার নিজ গ্রামের ৩ জন, পাশের গ্রামের ২ জন। আর একজন আমার মাধ্যমিকের সহকারী প্রধান শিক্ষকের ছেলে। আমার মাথায় যেন অকস্মাৎ আকাশ ভেঙে পড়লো! বান্ধবীর কথাটা বারবার স্মরণ হতে লাগলো। হ্যাঁ, ও তো ঠিকই বলেছিলো।

এখন বিশ্বাস করলাম গুজবও মাঝেমধ্যে সত্য হয়! সবচেয়ে বিস্ময়কর, এদের মধ্যে তিনজন আমার চাচা সম্পর্কের। বাড়িতে গেলে বা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তাদের সাথে টুকটাক কথা হয়। আর গ্রামে থাকতে নিয়মিত যোগাযোগ হতো। এ তিনজনের একজন আবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী ও বর্তমানে কৃষি ব্যাংকের একজন কর্মকর্তা।

যখন কথা হতো প্রায়শই আমাকে উপদেশ দিতেন কীভাবে সামনের দিকে এগোতে হবে, কোন পথ আমার জন্য মসৃণ, কোন পথ কণ্টকাকীর্ণ, কিসে মঙ্গল, কিসে অমঙ্গল ইত্যাদি ইত্যাদি। তারা মোটামুটি গ্রামের সবাইকে পেলে ঢালাওভাবে উপদেশ দেন। যদিও ছোটবেলা থেকে আমি ডানপিটে স্বভাবের, তবুও আমি মনোযোগী শ্রোতার মতো সবকথা শুনতাম আর মাথা নেড়ে হ্যাঁ সূচক জবাব দিতাম।

ভাবটা এমন করতাম যেন আপনাদের কথাই শিরোধার্য। আমি একেবারে অক্ষরে অক্ষরে এগুলো পালন করবো। বিশেষ করে অন্যদের কথা না শুনলেও আমার চাচা যিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ছিলেন তিনি কথা বললে আমি নতমস্তকে শুনতাম। তার প্রতিটা কথা হূদয়াঙ্গম করতাম। মনে মনে ভাবতাম তার মতো একদিন বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়বো, উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা হবো আরও অনেক কিছু।

কিন্তু আজ সেসব বড্ড ম্লান মনে হচ্ছে, মনে হচ্ছে ওগুলোর কিইবা প্রয়োজন ছিলো? বারবার একটা প্রবাদ ঘুরেফিরে মাথায় আসছে, দুর্জন বিদ্বান হলেও পরিত্যাজ্য। একটা বিষয় ভেবে অবাক হচ্ছি, আটককৃতদের মধ্যে পাঁচজন বাদে বাকি সবাই পরীক্ষার্থী ছিলো। অর্থাৎ ১৬ জন পরীক্ষার্থী।

ওরা যে প্রশ্ন নিয়ে স্থানীয় কোচিং সেন্টারে বসে সমাধান করছিলো সেটার সাথে পরীক্ষায় দেয়া প্রশ্নের হুবহু মিল ছিলো। একবার ভাবুন, এই ১৬ জন যদি আটক না হতো, তাহলে পরীক্ষায় পূর্ণ মার্কস পেতো এবং একপর্যায়ে হয়তো প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ পেতো। ফলাফল কি দাঁড়াতো? আশাশুনি, কলারোয়া ও শ্যামনগর উপজেলার ১৬টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এই ১৬ জন দুর্জনের জায়গা হতো।

ভাবতে গা শিওরে ওঠে! আমাকে বলুন এরা ক্লাসে গিয়ে কি পড়াতো? বড়জোর গালগল্প, পরিবারের আলাপ, ছোট বেলার নানা দুস্কর্মের কথা বা ছেলে ভোলানো নানা রূপকথার গল্প বা পাশাপাশি একটু-আধটু পড়াশোনাও।

এমনও হয়তো দেখা যেতো তারা গালভরা নীতি-নৈতিকতার কথা বলছেন, বলছেন তাদের আজন্ম পরিশ্রমের কথা, কী করে আজ এ পর্যায়ে এসেছেন, কীভাবে পরীক্ষায় ভালো ফলাফল করতে হবে, পরীক্ষায় কোন অবস্থায় অসৎ উপায় অবলম্বন করা যাবে না ইত্যকার বিষয়াবলী।

ব্যাপারটা কি দাঁড়ালো, যাদের নিজেদের নীতি-নৈতিকতা বলে কিছু নেই, তারা আবার কোমলমতি শিক্ষার্থীদের নীতি-নৈতিকতার শিক্ষা দিচ্ছেন? আমাদের আজকের শিক্ষার্থীদের অবস্থা এমন কেনো? জিজ্ঞেস করলেই একটা উত্তর ঘুরেফিরে আসে, আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থা ত্রুটিপূর্ণ এবং গতানুগতিক ধারার। তারচেয়ে বড় কথা যোগ্যতাসম্পন্ন শিক্ষকের অভাব।

বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলে বিজ্ঞপ্তির পর বিজ্ঞপ্তি দিয়েও বিজ্ঞানের শিক্ষক পাওয়া যায় না। আর যা পাওয়া যায় তা তো বলার অপেক্ষা রাখে না! হয় কোনো কিছু জানে না। নতুবা জানলেও তা দিয়ে পানি গরম হয় না। এতো বিজ্ঞানের কথা, বাকি শিক্ষক নিয়োগের বেলায় অপরিসীম দুর্নীতি আর স্বজনপ্রীতি তো রয়েছে।

যদিও সাম্প্রতিক সময়ে শিক্ষক নিয়োগের প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ সরকার হাতে নিয়েছে। এতে মাধ্যমিকের উপকার হলেও প্রাথমিকের তেমন একটা উপকার হচ্ছে না। আগের মতো অস্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় নিয়োগ হচ্ছে। অর্থাৎ পরীক্ষার আগে নিয়ম করে প্রশ্নফাঁস হয় এবং কুচক্রী মহলের সাথে যোগাযোগ করে ১০ থেকে ১২ লাখ টাকা দিয়ে অনেকেই প্রশ্ন জোগাড় করে পরীক্ষা দেয় এবং উত্তীর্ণ হয়ে শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ লাভ করে। আলোচ্য ঘটনা এরই প্রতিবিম্ব।

আমরা বিজ্ঞানের মাধ্যমে যতদূর জেনেছি, শৈশবকাল একজন শিশুর শারীরিক বৃদ্ধি ও মানসিক বিকাশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সময়কাল। এসময়ের অভিজ্ঞতা ও শিক্ষা সার্বিক বিকাশের ওপর প্রভাব ফেলে। শৈশবকালে একটা শিশু উপযুক্ত পরিবেশ, সুষম খাবার, উদ্দীপনা, সুরক্ষা আর যথাযথ সামাজিকতার মধ্য দিয়ে বেড়ে উঠলে তার ভবিষ্যৎ ফলপ্রসূ হয়। শৈশব বিকাশের অন্যতম মাধ্যম শিক্ষা। আর এ শিক্ষা সচরাচর পরিবার বা প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে পেয়ে থাকে। গ্রামাঞ্চলে পরিবারের সদস্য বিশেষ করে মা-বাবা ততটা শিক্ষিত নন।

অথবা অল্পশিক্ষিত থাকলেও পরিবার বা জীবিকা নির্বাহের কাজ সামলে সন্তানের পড়াশোনার ব্যাপারে খোঁজখবর নেয়ার তেমন একটা সময় পান না। প্রাথমিক শিক্ষাই একমাত্র ভরসা। অথচ পরিতাপের বিষয়, সেখানে উপযুক্ত নীতিবোধ সম্পন্ন মেধাবী শিক্ষক নেই। শিক্ষকের ভূমিকা সম্পর্কে ফ্রেডরিক ফ্রয়েবেল বলেছেন, ‘শিশু হলো উদ্যানের চারাগাছ।

আর শিক্ষক হলো তার মালী। শিক্ষকের কাজ হলো সযত্নে চারাগাছটিকে বড় করে তোলা। শিশুর মধ্যে লুকিয়ে থাকা সৎ ও সামাজিক গুণাবলীর বিকাশ সাধন করা শিক্ষকের কর্তব্য’। চীনের প্রাচীন নেতা কনফুসিয়াস আরেকটু বাড়িয়ে বলেছেন, ‘শিক্ষক হবেন জ্ঞান ও প্রজ্ঞার উৎস। তিনি হবেন একজন আদর্শ শাসক’।

আর এসব গুণাবলী আমাদের প্রাথমিক শিক্ষকদের ভিতরে কতটুকু বিদ্যমান বা তারা এরূপ দায়িত্ব কতটুকু পালন করছে তা নিরুপণের দায়ভার বিজ্ঞ পাঠক সমাজের ওপর ছেড়ে দিলাম। মোটকথা সঠিক প্রারম্ভে শিশুর বিকাশ না হলে, শিশুরা শিক্ষাক্ষেত্রে সীমিত অর্জন, অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে পরনির্ভরতা, অধিক মাত্রায় সহিংসতা ও অপরাধ, মাদক সেবন ও নৈরাজ্যের মধ্যে ডুবে যেতে পারে।

তাহলে এবার ভেবে দেখুন শিক্ষা ও তৎসংশ্লিষ্ট পরিবেশ মানবশিশুর বিকাশে কতটা জরুরি। এবার একটু সেই সব তরুণ-তরুণীদের কথা বলি যারা এহেন গর্হিত কাজের সাথে জড়িত। তারা এও জানেন, প্রশ্নফাঁস করে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করা ন্যক্কারজনক কাজ। তবে তারা জানা সত্ত্বেও কেন এটা করেছেন? নিশ্চয়ই তাদের কাছে কোনো না কোনো যুক্তি আছে।

তাদের হয়ে আমি একবার ভাবার চেষ্টা করি। ভাবতেই যে কারণগুলো প্রথমে আসে তার অন্যতম হলো, ত্রুটিপূর্ণ নিয়োগ প্রক্রিয়া। এখনো প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগে ৯৬ শতাংশ কোটা বিদ্যমান। অর্থাৎ সাধারণ শিক্ষার্থীর মধ্য থেকে শতকরা ৪ জন নিয়োগ পাবে। যদিও ইতোমধ্যে প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির নিয়োগে কোটা রহিত করা হয়েছে।

তবে প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগে বহাল তবিয়তে আছে। দ্বিতীয়ত হলো, নিশ্চিত ভবিষ্যৎ। কথায় আছে, সরকারি চাকরিতে ঢেউ গোনাও লাভ। সরকারি চাকরি যেমন পাওয়া কঠিন, তেমনি যাওয়াও কঠিন। মোটকথা একটা সুন্দর ও সম্ভাবনাময় ভবিষ্যৎ। আর এ কারণেই তো তরুণ-তরুণীরা সরকারি চাকরির দিকে বেশি ঝুঁকছে।

এবারের আবেদনকারীর সংখ্যা তা প্রমাণ করে। ১২০০০ পদের বিপরীতে এবার আবেদন পড়েছে ৪ লাখ ১ হাজার ৫৯৭টি। আসন প্রতি ২০০ জনের বেশি প্রার্থী। কেননা বেসরকারি চাকরির কোনো নিশ্চয়তা নেই। এই আছে এই নেই। অনিশ্চিত গন্তব্য। তৃতীয়ত অনেকেই শর্টকাটে সফলতার কথা ভাবেন। পরিশ্রম করে চাকরি পাওয়ার কথা মাথায় আনেন না।

এজন্য তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির চাকরি বেছে নেন। কারণ এক্ষেত্রে মোটামুটি দেন-দরবার চলে বলে প্রচলিত ধারণা আছে। প্রমাণও নেহায়েত কম নেই। যেমন ধরুন- প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগে ১০ থেকে ১২ লাখ টাকা সংগ্রহ করে একটা বিশ্বস্ত সিণ্ডিকেটের কাছে জমা দিতে পারলেই চাকরি জোটে। তাহলে দিন-রাত এতো পরিশ্রম করে পড়ার কি প্রয়োজন।

আটককৃত পরীক্ষার্থীরা হয়তো এগুলোই ভেবেছিলেন। আর এ চক্রের মূল হুতাদের কথা তো ভিন্ন। তারা তো অর্থ বৈভব লোভ-লালসায় মত্ত। গাড়ি বাড়ি আর কাড়ি কাড়ি টাকা চাই। সে যেভাবেই আসুক। আদতে সমস্যার গোড়ায় জল ঢাললে সমস্যা সমাধান হবে না বরং ক্রমাগত বাড়তে থাকবে। এজন্য সমস্যা নিরসনে প্রয়োজন যথাযথ পদক্ষেপ।

বিশেষ করে উল্লিখিত সমস্যা সমাধানে প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির ন্যায় তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির চাকরিতে কোটা বাতিল করতে হবে নতুবা তা সংস্কার করতে হবে। আর প্রশ্নপত্র প্রণয়নের কাজে নিয়োজিত বুয়েট ও প্রাথমিক এবং গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের সদা সজাগ থাকতে হবে যেন কোনো অবস্থাতে প্রশ্নফাঁসের মতো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা না ঘটে।

কোনো কারণে ঘটলেও এর পিছনের প্রকৃত কারণ খুঁজে বের করতে হবে এবং অতিদ্রুত এর সাথে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনতে হবে। কোনো অবস্থায় হেলাফেলা করা যাবে না। তাহলেই হয়তো সমস্যা সমূলে উৎপাটন না হলেও বহুলাংশে সমাধান সম্ভব। অবস্থা যা বর্তমান তা মোটেও কিন্তু শুভকর নয় বরং অশনীসংকেত।

পরিশেষে আবারো শিক্ষার গুরুত্ব সংশ্লিষ্ট কোটেশন দিয়েই লেখা শেষ করছি। দক্ষিণ আফ্রিকার সবচেয়ে নামকরা বিশ্ববিদ্যালয়টির নাম ‘ইউনিভার্সিটি অব সাউথ আফ্রিকা’ যার প্রবেশদ্বারে লেখা আছে- ‘কোন জাতিকে ধ্বংস করার জন্য পারমাণবিক হামলা কিংবা ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের দরকার নেই। বরং সেই জাতির পরীক্ষায় প্রতারণার সুযোগ দিলেই হবে’।

এভাবে পরীক্ষা দিয়ে তৈরি হওয়া ডাক্তারদের হাতে রোগীর মৃত্যু হবে। ইঞ্জিনিয়ারদের দ্বারা দালান-কোঠা, ইমারত ধ্বংস হবে এবং অর্থনীতিবিদদের দ্বারা দেশের আর্থিক খাত দেউলিয়া হবে। এছাড়া বিচারকের হাতে বিচারব্যবস্থার কবর রচনা হবে। সুতরাং শিক্ষাব্যবস্থা ভেঙে পড়ার মানে হলো একটা জাতির বিলুপ্তি। সত্যিই বিষয়টা নিয়ে এমন করে অন্তত একবার হলেও আমরা ভেবেছি কি?

লেখক : শিক্ষার্থী সমাজকর্ম বিভাগ, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত