শিরোনাম

রাজনীতি হোক জনগুরুত্বপূর্ণ জাতীয় ও স্থানীয় ইস্যুতে

প্রিন্ট সংস্করণ॥রায়হান আহমেদ তপাদার  |  ০৩:৩০, মে ২৬, ২০১৯

স্বদেশী সমাজ গঠনের প্রত্যয়ের অঙ্গাঙ্গি ছিলো রবীন্দ্রনাথের আত্মশক্তির ব্রত। অধ্যাপক সেন লিখেছেন, স্বদেশীর পরিচয়ে তার ঐক্যবন্ধন। আত্মশক্তির ভরণপোষণেই অবধারিত সে ঐক্য। পরনির্ভরতা ত্যাগ করে নিজেদের বোধবুদ্ধি, জ্ঞান-বিজ্ঞান, শক্তিসামর্থ্যে স্বাবলম্বন স্বাদেশিকতার পক্ষে অপরিহার্য।

১৮৯০-এর যুগ থেকে জীবনের শেষ পর্ব পর্যন্ত রবীন্দ্রনাথের কর্মজীবনে এই ধারণাগুলোর মূর্ত প্রকাশ ঘটেছে। শিলাইদহ পর্বে গ্রাম গঠনের আয়োজন ও শ্রীনিকেতনের ব্যাপক কর্মকাণ্ডে তার পরিচয়। অধ্যাপক সেন খুব বিস্তৃত পরিসরে তার তথ্যগত ও তাত্ত্বিক ব্যাখ্যা দিয়েছেন।

আর সেই সূত্রে নেশন সংক্রান্ত তার মন্তব্যগুলো বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। যেমন, নেশন বানাবার কর্তব্য রবীন্দ্রনাথও মানেন নি তা নয়, স্বদেশী সমাজে নিহিত আছে এক জাতি সৃজনের পরিপ্রেক্ষিত.. তবে তার মত এই যে ইংরেজ-মার্কা জাতিরাষ্ট্রের মতো প্রতিযোগী স্বার্থের জুলুমে ধরা যোগফল তা হবে না।

আগাগোড়া আত্মপরের সামঞ্জস্যে লালিত সমাজ হবে সে ‘নেশন’-এর প্রধান অবলম্বন’। এরই প্রেক্ষিতে অধ্যাপক সেন জানাচ্ছেন, ‘রাষ্ট্রীয় প্রভুত্বের বিপরীতে সামাজিক প্রাধান্য বিস্তারের আহ্বান’ করেছিলেন রবীন্দ্রনাথ এবং এ যুগেও তার বিশেষ প্রাসঙ্গিকতা রয়েছে।

১৮৮০-র যুগ থেকেই রবীন্দ্রনাথ দেশের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে জনসাধারণের সঙ্গে নেতাদের যোগাযোগহীনতার সমস্যার কথা বলেছেন। বিশ শতকের ইউরোপ-আমেরিকার গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা সম্পর্কেও তার বিস্তর অভিযোগ ছিলো।

শ্রেণিভেদের অসাম্য, স্বার্থতন্ত্রের নিদারুণ যথেচ্ছাচার, প্রতিযোগী জীবনযাত্রার অহরহ দ্বন্দ্বে সমাজকে ক্ষত-বিক্ষত করা সেই গণতন্ত্রের ধর্ম। কবি লিখেছিলেন, আধুনিক গণতন্ত্রে যে-নির্বাচনব্যবস্থা তাতে তো ‘জমিদার, মদের কারখানার কর্তা, রেল কোম্পানির অধ্যক্ষ’দেরই শাসন, কতগুলো প্রাইভেট স্বার্থের আত্মম্ভরি শক্তিকে ছাড়িয়া দেয়াই গণতান্ত্রিক নির্বাচনের উদ্দেশ্য।

এতদ্সত্ত্বেও রবীন্দ্রনাথ গণতন্ত্রে আস্থা হারাননি। সম্মিলিত আত্মকর্তৃত্বের যোগে সাধারণের স্বার্থে গণতন্ত্রের ভিত গড়ে তোলা তার লক্ষ্য ছিলো। সেটা বোঝা যায় তার ‘স্বদেশী সমাজ’ ও তার পরিপূরক ‘পল্লীসমাজ’-এর সংবিধানে গণতান্ত্রিক বন্দোবস্তের স্বীকৃতি দেখে।

পল্লীসমাজের বিধিবদ্ধ কার্যক্রমে একেকটি পল্লীর তথ্যসংগ্রহের দৃষ্টান্ত থেকে অধ্যাপক সেনের মনে হয়েছে যে, এ তো ‘মিশেল ফুকো-কথিত প্রশাসনিকতার আদিসূত্র’। আর তাই তার সঠিক সিদ্ধান্ত, রবীন্দ্রনাথের সমাজ-রাজনীতি সংক্রান্ত আলোচনা আর কর্মোদ্যোগে এমন চিন্তাভাবনা ও তৎ?পরতার অনেক দৃষ্টান্ত ছিলো, যাতে একালের গণতন্ত্রের সমস্যাপটও অচেনা থাকে না।

রাষ্ট্র ও রাজনীতির মাধ্যমেই সমাজ বদলাতে হবে। রাজনীতিকদের দুর্বলতা ও ব্যর্থতার কারণে অগণতান্ত্রিক সরকার ক্ষমতায় আসে, আমলারা ক্ষমতা গ্রহণ করে। অথচ তারা কোনো রাজনৈতিক দল নয়, আমলারাও কোনো রাজনৈতিক দলের নয়। জাতীয় উন্নয়নে রাষ্ট্রকেই উপায় বের করতে হবে।

জনগুরুত্বপূর্ণ জাতীয় ও স্থানীয় ইস্যু নিয়ে রাজনীতি করা দরকার অথচ বড় রাজনৈতিক দলগুলো তা করে না। স্থানীয় পর্যায়ে সন্ত্রাস দমন, দুর্বল ও সংখ্যালঘুর নিরাপত্তা বৃদ্ধি, যুব উন্নয়নে পাঠাগার স্থাপন, প্রশিক্ষণ দান ও কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা, দুর্যোগে-বিপদে সাহায্য-সহযোগিতা করা রাষ্ট্রের কর্তব্য।

সবকিছু আপাতত সরিয়ে রেখে যদি গত জাতীয় সংসদ নির্বাচনের চিত্রটা আমরা বিশ্লেষণ করি তাহলে কি বলার কোনো উপক্রম থাকে যে, আমরা বিধিবদ্ধ গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা কিংবা প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে এগোচ্ছি? এ দেশের রাজনীতির অর্জন তো কম নয়।

আবার এও তো সত্য, অনেক অর্জনের বিসর্জনও ঘটেছে রাজনীতিকদের দুর্বলতা-ব্যর্থতার কারণে। ব্যক্তিগতভাবে ছাত্রাবস্থায় ব্রিটিশ আন্দোলন দেখেছি, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের প্রভাব দেখেছি, স্বাধীনতা আন্দোলন দেখেছি। তার পরে পাকিস্তান হলো, রাষ্ট্রভাষা আন্দোলন হলো।

যুক্তফ্রন্টের বিজয় এবং সামরিক শাসন দেখলাম। পরে শুরু হলো মানুষের বিক্ষোভ। ‘৬৯-এর গণঅভ্যুত্থান হলো, নির্বাচন হলো। ‘৭১-এর যুদ্ধের মাধ্যমে একটি স্বাধীন রাষ্ট্র বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠিত হলো। রাষ্ট্রকে বাদ দিয়ে সমাজে পরিবর্তন আনয়ন সম্ভব হলো না। কিন্তু মানুষের জন্য সামাজিক পরিবর্তন ছিলো আবশ্যক।

অথচ সামাজিক পরিবর্তনের বিরুদ্ধে থেকেছে ব্রিটিশ আমলের রাষ্ট্র, পাকিস্তান রাষ্ট্র। এমনকি একাত্তরের স্বাধীনতার পরও যে নতুন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হলো, সেই রাষ্ট্রও সামাজিক পরিবর্তন তথা সমাজ বিপ্লবের পক্ষে কাজ করলো না।

এ রাষ্ট্র ব্রিটিশ ও পাকিস্তান আমলের মতোই একটি আমলাতান্ত্রিক পুঁজিবাদী রাষ্ট্র হয়ে রইলো। বাংলাদেশ অর্থনৈতিক আদর্শে পুঁজিবাদী রাষ্ট্র এবং ব্যবস্থাপনায় আমলাতান্ত্রিক রাষ্ট্র। আমাদের দেশের রাজনৈতিক দলগুলো ভোটের জন্য জনগণের কাছে গেলেও তারা জনগণের ওপর নির্ভর করে না। অস্ত্র, কালো টাকা ও সন্ত্রাসের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ে। ক্ষমতায় থাকার জন্য তারা সাম্রাজ্যবাদের ওপর নির্ভর করে।

অথচ ক্ষমতার দ্বন্দ্বের কারণে সরকারি ও বিরোধী দল সাম্রাজ্যবাদের কৃপালাভে সচেষ্ট। এই দুই দলের বিপরীতে কোনো ভালো বিকল্প না পেয়ে জনগণ আওয়ামী লীগ-বিএনপি এই দুই দলকে পর্যায়ক্রমে ভোট দিয়ে এসেছে; কিন্তু জনগণের ভাগ্য আজও বদলায়নি। জনমত উপেক্ষা করেই এই দুই দল জামায়াত ও হেফাজত দুই সামপ্রদায়িক শক্তির সঙ্গে হাত মিলিয়েছে।

এতে স্বাধীনতার মূল লক্ষ্য এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ভূলুণ্ঠিত হয়েছে। হেফাজতিরা এত পারত না, যদি না তারা সরকারি দলের ছায়ায় না থাকত। তারা আমাদের শিক্ষা ক্ষেত্রে হাত দেয়ার চেষ্টা করেছে। পাঠ্যবইয়ে বদল ঘটাতে চেয়েছে। আরও কত রকম বাহানাই তো এর মধ্যে করেছে, যা সচেতন মানুষ মাত্রই জানা।

আমাদের সমাজে কলুষতার যে ছায়া পড়েছে, রাজনীতিকদের ব্যর্থতা-দুর্বলতার কারণেই। অথচ মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে অর্জিত এ দেশে রাজনীতিকদের অঙ্গীকার তো ছিলো আশাজাগানিয়া। তবে কেন আজ হতাশার ছায়া? এই ব্যর্থতা কার বা কাদের? আমাদের দুর্ভাগ্য, বাম দলগুলো সেই সুযোগ কাজে না লাগিয়ে দশকের পর দশক ব্যর্থ হয়েছে। বাম দলগুলো বড় দলের জোটভুক্ত হয়ে কিছুই করতে পারেনি, পারবেও না। এসব দল ব্যর্থ হলেও তাদের প্রয়োজন আছে গণচেতনার সংগ্রামের জন্য।

তবে তাদেরকে অবশ্যই ক্ষমতার লেজুড়বৃত্তির মোহ ত্যাগ করতে হবে। তাদের প্রধান কাজই হবে জনগণের মুক্তির লক্ষ্যে। তত্ত্বাবধায়ক সরকার এসেছে প্রধান দলগুলোর ব্যর্থতা ও দুর্বলতার কারণে। যারা নির্বাচন পরিচালনা করতে পারে না, তারা দেশ চালাবে কী করে? রাজনৈতিক ক্ষেত্রে আদর্শবাদিতা নিম্নস্তরে নেমে গেছে, স্বার্থবাদিতা প্রবল হয়েছে।

এছাড়া ছাত্র রাজনীতিকে চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসের অভিমুখে ঠেলে দেয়া হয়েছে। আগে ছাত্ররা রাজনীতি করত জনগণের পাশে দাঁড়ানোর জন্য। এখন করে অর্থনৈতিক মুনাফা ও লুণ্ঠনের অভিপ্রায়ে। নির্বাচনে লাভ হয় রাজনীতিক, ব্যবসায়ী ও ক্ষমতাসীন দলের আর ক্ষতি হয় দুর্বল ও সংখ্যালঘু শ্রেণির। এমন দৃষ্টান্তের অভাব নেই।

এই কুদৃষ্টান্তের দায়ভার কীভাবে রাজনীতিকরা এড়াবেন? রাজনীতির নামে অপরাজনীতির থাবায় মানুষের জীবন বিপন্ন করার দায়ভারও তারা এড়াতে পারেন না। বাংলাদেশ জাতিরাষ্ট্র নয়, মুসলিম রাষ্ট্রও নয়। এখানে বিভিন্ন ক্ষুদ্র জাতিসত্তা রয়েছে। বাংলাদেশ একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র। বড় দুটি দল নিজেদের জাতীয়তাবাদী বলে বড়াই করে। অথচ ক্ষুদ্র জাতিসত্তার কোনো স্বীকৃতি দিতে চায় না।

সচেতন আদর্শবাদী মধ্যবিত্ত ও শ্রমজীবীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণের মাধ্যমে সব জাতিসত্তার সমান অধিকার প্রতিষ্ঠার ভিত্তিতে বাংলাদেশকে গড়ে তুলতে হবে। ঘরে-বাইরে নৃশংসতা ও ভোগবাদিতা প্রবল হচ্ছে। সমাজ রূপান্তরের জন্য সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণের মাধ্যমে সাম্রাজ্যবাদ বিরোধী স্থানীয় ও জাতীয় আন্দোলন গড়ে তোলা এখন সময়ের দাবি।

আমাদের নির্বাচিত সরকার বারবার সাম্রাজ্যবাদের সঙ্গে আপস করেছে। আদমজী পাটকল বন্ধ করেছে, শ্রমিককে বেকার করা হয়েছে। মানুষের জীবন-জীবিকার কোনো নিশ্চয়তা নেই। খুন, ধর্ষণ, লুণ্ঠন ও সংখ্যালঘু নিপীড়ন প্রবল হয়েছে। দুর্নীতি ও মানবাধিকার লঙ্ঘন বেড়েছে, বিরোধী নেতাকর্মীদের ওপর নির্যাতন ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পেয়েছে।

বিরোধী দল দেশে থাকবে বলে মনে হচ্ছে না। আইন-শৃঙ্খলার অবনতি ঘটেছে। তাই স্থানীয় উন্নয়নের কেন্দ্রবিন্দু করা দরকার স্থানীয় সরকারকে। সিভিল সোসাইটিকে আমি তেমন গুরুত্বপূর্ণ মনে করি না। তারা নিজেদের অরাজনৈতিক বলে ঘোষণা দেয়; কিন্তু কাজটা করে রাজনৈতিক। সিভিল সোসাইটি নতুন ধারণা, এটি আগে ছিলো না।

তারা দারিদ্র্য বিমোচনের কথা বলে অথচ রাষ্ট্রের দায়িত্ব দারিদ্র্য বিমোচন করা, শিক্ষা বিস্তার করা। শিক্ষা দিয়ে কী হবে, যদি শিক্ষিতদের কর্মসংস্থান করা না যায়? এনজিও বিস্তৃত হচ্ছে সরকারের ব্যর্থতা ও দুর্বলতার কারণে। দাতারা সরকারের পাশাপাশি এনজিওদের দিয়ে কাজ করায়।

সরকারের কাছ থেকে ভালো কাজ না পেয়ে দাতারা এনজিওদের টাকা দেয়, তৎপরতা বাড়িয়ে দেয়। সরকারের সমান্তরাল এনজিওর প্রতিনিধিদের বিদেশ ভ্রমণ করানো, তাদের প্রশংসা করা, পুরস্কৃত করার ব্যবস্থা করা হয়। অথচ পশ্চিমবঙ্গে বাংলাদেশের মতো এনজিওর এত তৎপরতা নেই।

সেখানে আছে পঞ্চায়েত ব্যবস্থা। এনজিওর কর্মকর্তাদের জীবনের সঙ্গে গরিবদের জীবনের কোনো মিল নেই। স্বাধীন এ রাষ্ট্রের বিকেন্দ্রীকরণ দরকার কেবল নয়, ছিলো অতি আবশ্যিক। ক্ষমতা শুধু সচিবালয়ে কেন্দ্রীভূত না রেখে স্থানীয়ভাবে ছড়িয়ে দেয়া উচিত ছিলো।

নৈতিকতার উপাদানকে কাজে লাগাতে হবে, শক্তিশালী করতে হবে। এমন রাষ্ট্র গড়ে তুলতে হবে, যেখানে সাম্রাজ্যবাদের প্রতি আপস থাকবে না, সন্ত্রাসের লালন হবে না এবং সংখ্যালঘুর ওপর নিপীড়ন হবে না। এই ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে যে, তারা অনিরাপত্তায় থাকবে না।

প্রয়োজন মুক্তিযুদ্ধের চেতনা সম্পন্ন একটি বিকল্পধারার, অথচ স্বাধীনতার ৪৮ বছর অতিক্রান্তেও সেটি পূরণ হলো না। অধরাই রয়ে গেলো। যে গণতন্ত্রে সমাজতন্ত্রের উপাদান আছে, যে ধর্মনিরপেক্ষতার ভিত্তি হলো ইহ জাগতিকতা এবং যে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় অসামপ্রদায়িক ও মৌলবাদমুক্ত অঙ্গীকার আছে; সে ধরনের অঙ্গীকার নিয়ে রাষ্ট্রব্যবস্থা গঠনের জন্য গণভিত্তিক রাজনৈতিক দল গঠন করা প্রয়োজন।

বিশ্বের দেশে দেশে নানান পরিবর্তনের প্রধান হাতিয়ার হিসেবে যুগে যুগে ভূমিকা পালন করছে তরুণরা। সেটা বিশ্ব মোড়ল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রেও যেভাবে হচ্ছে একইভাবে হচ্ছে লেটিন আমেরিকার দেশে দেশে, এশিয়া ইউরোপেও। তরুণরা দেখতে চায় সৎ, মেধাবী, আকর্ষণীয়, জবাবদিহিতা, গণতন্ত্র, বাকস্বাধীনতা ও গতিশীল রাষ্ট্রব্যবস্থা ও নেতৃত্ব।

ডায়নামিক নেতৃত্বও তরুণদের আকর্ষণ করে। যে কোনো কালাকানুন, অবরুদ্ধতা, নিপীড়ন, ধর্মান্ধতা ও নির্যাতনের বিরুদ্ধে বিশ্বে সব তরুণই উচ্চকিত। তরুণরা স্বপ্ন দেখে নতুনত্বকে জয় করবার। বাংলার দামাল তারুণ্যই আমাদের সব অর্জনের প্রধান হাতিয়ার।

আজ সেই তারুণ্য অবহেলিত, বঞ্চিত। তরুণদের নিয়ে দৃশ্যমান কোনো পরিকল্পনা চোখে পড়ে না। রাজনীতিতে এই তারুণ্য প্রধান শক্তি কিন্তু দলে ও রাষ্ট্র, সরকার পরিচালনায় তাদের অংশগ্রহণ খুবই নগণ্য। এই তারুণ্যকে বাদ দিয়ে আমাদের কাঙিক্ষত লক্ষ্যে পৌঁছানো কি সম্ভব?

লেখক ও কলামিস্ট

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত