শিরোনাম

বাড়ছে হূদরোগীর সংখ্যান প্রতিরোধে সচেতন হতে হবে

প্রিন্ট সংস্করণ  |  ১০:৫৪, মে ২৪, ২০১৯

‘দেশে হূদরোগীর সংখ্যা বাড়ছে’ শীর্ষক খবরটি রীতিমতো উদ্বেগজনক। অবশ্য সারা বিশ্বেই হূদরোগ অন্যতম হন্তারক ব্যাধি হিসেবে বিবেচিত। এটি মূলত মানুষের হূৎপিণ্ডে রক্ত সংবহনজনিত ব্যাধি। কোনো কারণে হূৎপিণ্ডের শিরা-উপশিরায় কোনো ব্লক অথবা পেশিতে কোনো ছিদ্র হলে হূদরোগে আক্রান্ত হতে পারে মানুষ।

বাংলাদেশ সোসাইটি অব কার্ডিওভাসকুলার ইন্টারভেনশন পরিচালিত গবেষণায় জানা যায়, বিশ্বে প্রতি বছর প্রায় ১ কোটি ৮০ লাখ মানুষ মারা যায় হূদরোগে আক্রান্ত হয়ে, যা মানুষের মৃত্যুহারের ৩১ শতাংশ। বাংলাদেশে গত ২০ বছরে হূদরোগীর সংখ্যা বেড়েছে ২০ গুণ। আক্রান্তদের মধ্যে নারীর হার বেশি।

তরুণ প্রজন্মের মধ্যেও হার্ট এ্যাটাকের প্রবণতা বাড়ছে। বাংলাদেশে হূদরোগের কারণে মৃত্যুর হার ১৪ দশমিক ৩১ শতাংশ। রাজধানীসহ সারাদেশের বায়ুদূষণ-পানিদূষণ, খাদ্যে ভেজাল, অনিয়ন্ত্রিত-অস্বাস্থ্যকর জীবনযাপন, বেকারত্ব, আলস্য সর্বোপরি দৈনন্দিন জীবন যাপনের মানসিক চাপ হূদরোগের অন্যতম কারণ।

উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস ও কিডনির কার্যক্ষমতা নিয়ন্ত্রণে রাখতে না পারাও হূদরোগের কারণ হতে পারে। চিকিৎসকদের মতে নিয়মিত হাঁটাচলা, ব্যায়াম, খাদ্যে লবণ ও লাল মাংস বর্জন, পরিমিত আহার, ধূমপান ও নেশাজাতীয় দ্রব্য পরিহার করা হলে হূদরোগে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা কম। তবে বাস্তবতা হলো, দৈনন্দিন জীবন যাপনের জটিলতাসহ মানসিক চাপ ও দুশ্চিন্তা বাড়ায় হূদরোগ এড়ানো প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে।

সে তুলনায় দেশে বিশেষায়িত হাসপাতাল ও হূদরোগ বিশেষজ্ঞ অনেক কম বলা চলে। বর্তমানে হাতে গোনা দু’চারটি বিশেষায়িত হাসপাতাল হলেও তা অপ্রতুল। তবে পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছে ক্রমশ। জাতীয় স্বাস্থ্যসেবা সপ্তাহ- ২০১৯ উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা একগুচ্ছ নির্দেশনা ও পরামর্শ প্রদান করেছেন, যা সার্বিকভাবে জনস্বাস্থ্যের উন্নয়ন ও সমৃদ্ধিতে ইতিবাচক অবদান রাখতে পারে।

এ সবের মধ্যে অন্যতম দেশের ৮টি বিভাগে মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন, যা হবে সর্বাধুনিক ও বিশেষায়িত চিকিৎসার জন্য নিবেদিত। উল্লেখ্য, বর্তমানে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় বাদে ঢাকার বাইরে চট্টগ্রাম, সিলেট ও রাজশাহীতে তিনটি মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। বর্তমানে প্রায় ১৪ হাজার কমিউনিটি ক্লিনিক সারাদেশে মা ও শিশুদের বিনামূল্যে স্বাস্থ্যসেবা দিচ্ছে।

এসব কেন্দ্র থেকে ৩০টি মারাত্মক রোগের ওষুধও দেয়া হচ্ছে বিনামূল্যে। সরকারের এই জনস্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থা, বিশ্বব্যাংকসহ বহির্বিশ্বে বিপুল প্রশংসা কুড়িয়েছে। একই সঙ্গে দেশে রোগ নির্ণয়সহ আনুষঙ্গিক পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য সর্বাধুনিক প্যাথল্যাব প্রতিষ্ঠাসহ দক্ষ জনবল গড়ে তোলার ওপর যথেষ্ট গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। হূদরোগ, সেরিব্রাল হেমারেজ, ক্যান্সার ও কিডনি রোগ নির্ণয়ে যা হবে অত্যন্ত সহায়ক।

সুতরাং হতাশার কিছু নেই। দেশে সরকারিভাবে স্বাস্থ্যসেবার ব্যয় খুব কম, জিডিপির শূন্য দশমিক ৭ শতাংশ মাত্র। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, বাজেট বরাদ্দে স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ জিডিপির ৫ শতাংশ হওয়া বাঞ্ছনীয়।

প্রধানমন্ত্রী প্রস্তাবিত প্রতিটি বিভাগে মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠাসহ সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালগুলোর চিকিৎসার মান ও দক্ষতার উন্নয়ন নিশ্চিত হলে সার্বিকভাবে জনস্বাস্থ্য সেবায় ইতিবাচক অবদান রাখবে নিঃসন্দেহে। এর পাশাপাশি হূদরোগ প্রতিরোধে নিরাপদ খাদ্য ও পানিসহ মানুষের জীবনমান উন্নত করাও আবশ্যক।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত