শিরোনাম

দেশকে রক্ষা করুন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী

প্রিন্ট সংস্করণ॥আব্দুল্লাহ্-আল মামুন  |  ০৩:৫৭, মে ২৩, ২০১৯

বাংলাদেশ তৃতীয় বিশ্বের একটি উন্নয়নশীল দেশ। স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ের অর্থনৈতিকমন্দা, ক্ষুধা, দারিদ্র্য, সামাজিক দৈন্যদশা কাটিয়ে বর্তমানে সাবলীলভাবে এগিয়ে যাচ্ছে। এগিয়ে যাচ্ছে অনন্ত সম্ভাবনা আর সমৃদ্ধির দিকে।

বিশেষকরে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, বঙ্গবন্ধুর তনয়া শেখ হাসিনা নতুন করে দেশের মানুষকে স্বপ্ন দেখাচ্ছেন, যেমনটি দেখিয়েছিলের তার বাবা স্বাধীনতার স্থপতি শেখ মুজিবুর রহমান। বাবার দেখানো পথেই যেন হাটছেন তার যোগ্যকন্যা। দেখতে দেখতে আমরা স্বাধীনতার ৪৮ বছর পার করছি। পিছনে ফিরে তাকালেই স্মৃতি বিজড়িত হয়ে পড়ি।

অবাক হই অতিত আর বর্তমানের ফারাক অনুভব করে। কতকিছু বদলেছে। কত রুপ রং জৌলুশ ভিন্নমাত্রা যুক্ত হয়েছে এ দেশের প্রতিটা পরতে। আমূল পরিবর্তন এসেছে অবকাঠামো থেকে শুরু থেকে সামাজিক, অর্থনৈতিক ও সেবামূলক খাতে। বলতে গেলে এ এক অভূতপূর্ব বিজয়! স্বাধীনতার পর যেন আরেকটি বড় বিজয়।

ইতোমধ্যে আমরা মধ্যম আয়ের দেশে উত্তীর্ণ হয়েছি। আগামী দশক তথা ২০২১ সালে আমরা উচ্চ মধ্যম আয়ের দেশ এবং ২০৪১ সালে উন্নত দেশের কাতারে উন্নীত হবো। আর এ লক্ষ্যকে সামনে রেখে জননেত্রী শেখ হাসিনা তার সরকারকে সে পথেই পরিচালিত করছেন।

সম্প্রতি তিনি টানা তৃতীয় বারের মতো ক্ষমতা গ্রহণ করেছেন। জনগণের ভালোবাসায় তিনি বারবার সিক্ত হয়েছেন এবং প্রতিদানও দিয়েছেন যথার্থরুপে।

এবার তার বিগত বছরের রাজনীতি ও রাষ্ট্র পরিচালনায় দক্ষতার স্বীকৃতি স্বরুপ পেলেন জনতার অপরিসীম ভালোবাসা। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আ.লীগের অন্যতম নির্বাচনি ইশতেহার ছিলো, দুর্নীতির ক্ষেত্রে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ।

অর্থাৎ যে কোন অবস্থায় দুর্নীতিকে প্রতিহত করা এবং যথাসম্ভব শূন্যের কোটায় নিয়ে আসা। কারণ দুর্নীতি ও উন্নয়ন পাশাপাশি চলতে পারে না; যেমন আগুন ও পানি পাশাপাশি থাকতে পারে না। একটি অপরটিকে প্রভাবিত করবে। বিশেষত নেতিবাচকভাবে।

সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয়, বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও প্রবৃদ্ধি যখন সারা দুনিয়ার কাছে বিস্ময়কর, রোল মডেল তখন দেশজুড়ে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার উন্নাসিকতায় মেতেছে একদল। ধরাকে সরা জ্ঞান করছে না। যা খুশি তা করছে। ক্ষমতা যে চিরস্থায়ী হয় না, তা যেন বেমালুম ভুলে গেছে। ক্ষমতার দম্ভে মাটিতে পা পড়ছে না। একের পর এক নীতিবর্জিত কাজ করে চলেছে।

আমরা দেশের চারদিকে লক্ষ্য করলে স্পষ্টত দেখতে পাই, প্রতিটা সেক্টরে যেন দুর্নীতি চরমভাবে প্রবেশ করছে। দেশের এমন কোন সরকারি ক্ষেত্র নেই যেখানে দুর্নীতি নেই। দুর্নীতির বিপরীতে অন্য কোন উদার পন্থা বা নীতি আমাদের সামনে থাকতে পারে তা ক্রমান্বয়ে ভুলতে বসেছি। অথচ সরকার এই দুর্নীতি প্রতিরোধের জন্য কত না পদক্ষেপ নিয়েছেন।

বিগত আমলে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা, মন্ত্রী-এমপিরা যাতে দুর্নীতিগ্রস্ত না হয় সেজন্য বেতন ভাতা ও অন্যান্য সুবিধাদি পূর্বের তুলনায় দ্বিগুণ করেছিলেন; যাতে কম সুযোগ-সুবিধার দোহাই দিয়ে দুর্নীতির মতো নেক্কারজনক কাজে জড়িয়ে না পড়ে।

আর সাম্প্রতিক সময়ে সরকারি আমলাদের জন্য উৎসব ভাতা বৃদ্ধি, আধুনিক বিলাসবহুল গাড়ি ক্রয়, আবাসন সমস্যা নিরসনে নানা প্রকল্পসহ তাদের সার্বিক সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিতকরণে প্রতি বছর বাজেটের একটা বড় অংশ বরাদ্দ দেন। তারপরেও অবস্থার আপাতদৃষ্টে কোন পরিবর্তন আসছে বলে মনে হয় না।

যে লাউ সেই কদু। মনে হচ্ছে, দুর্নীতি আগের তুলনায় বহুগুণে বেড়েছে। আর এ প্রসঙ্গে মার্কিন অর্থনীতিবিদ গর্ডন তুলককে স্মরণ করা যেতে পারে। তুলক বলেছিলেন, অভিজ্ঞতা হতে দেখা যায়, যারা অনেক বেশি বেতন পায় তারাই অনেক সময় খুব অল্প টাকার ঘুষ নেয়। কথাটা অন্য দেশের প্রেক্ষিতে কতটুকু কার্যকর তা জানি না। তবে বাংলাদেশের ক্ষেত্রে অন্তত যুক্তিযুক্ত।

অতি সম্প্রতি ঘটে যাওয়া কয়েকটি ঘটনা বিশ্লেষণ করলেই আমরা বুঝতে পারবো, কি পরিমাণ দুর্নীতি এদেশের ওপর জেঁকে বসেছে। রুপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের গ্রীণসিটি হাউজিং প্রকল্পের যে দুর্নীতির চিত্র বেরিয়ে এসেছে তা দেখে বিস্মিত পুরো দেশবাসী।

একটি বালিশের মূল্য এবং তা ফ্ল্যাটে উঠানোর খরচ দেখে অবাক বিস্ময়ে বাংলাদেশ! সেখানে প্রতিটি বালিশ কেনায় খরচ পড়েছে ৫,৯৫৭ টাকা। আর প্রতিটি বালিশ ফ্ল্যাটে উঠাতে খরচ হয়েছে ৭৬০ টাকা। প্রতিটি খাট কেনায় খরচ হয়েছে ৪৩,৩৫৭ টাকা। আর উঠানোর ব্যয় ১০,৭৭৩ টাকা। প্রতিটা বিছানা কেনায় ব্যয় দেখানো হয়েছে ৫,৯৮৬ টাকা।

ফ্ল্যাটে ওঠানোর ব্যয় দেখানো হয়েছে ৯৩১ টাকা। একেকটি বৈদ্যুতিক চুলা কেনার খরচ পড়েছে ৭,৭৪৭ টাকা। আর ওই চুলা ওঠাতে ব্যয় হয়েছে ৬,৬৫০ টাকা। এমনকি একটা ফ্যান কিনতে দেখানো হয়েছে লক্ষাধিক টাকারও বেশি খরচ। এভাবে সবিস্তারে লিখে শেষ করা যাবে না।

এ তালিকা দীর্ঘ। এছাড়াও সেখানকার মালির ও রাধুনির বেতন যথাক্রমে প্রায় ৮০,০০০ টাকা এবং গাড়িচালকের বেতন প্রায় ৯২,০০০ টাকা। লুটেরাদের, দুর্নীতিবাজদের আগ্রাসন কত গভীরে। কত বিচিত্র পন্থায় তারা লুট করে। এভাবে সারা দেশের সরকারি প্রতিষ্ঠান ও সরকার কর্তৃক গৃহীত বিভিন্ন প্রকল্পে ইচ্ছেমতো বিল তৈরি করে লুটে নেয় হাজার হাজার কোটি টাকা।

এ ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অনেকেই বলাবলি করছে, আর বিসিএস দেবো না, ডাক্তারও হবো না, ব্যবসাও করবো না। রুপপুরে গিয়ে বালিশ উঠাবো। কেউ কেউ আবার বলছে, রান্নাটা আমি ভালো পারি। গ্র্যাজুয়েশন শেষ করে হন্যি হয়ে চাকরির পিছনে না ছুটে বরং রুপপুরের রাঁধুনির কাজটা জুটিয়ে নেবো।

ইতোমধ্যে কর্তৃপক্ষ শাক দিয়ে মাছ ঢাকতে বিষয়টি নিয়ে মনগড়া প্রেস বিজ্ঞপ্তি দিয়েছে। এবং বিলের বিষয়টি সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন। কিন্তু বাঙালি যা বোঝার দরকার তা অনেক আগেই বুঝে নিয়েছে। শুধু কি রুপপুরে এমন চিত্র? অবশ্যই, না। সারাদেশের প্রকল্প সমূহে এমন ঘটনা অহরহ ঘটছে।

সরকারের অন্য দুটি বৃহৎ মেগা প্রকল্পের কথাও স্মরণ করা যেতে পারে। একটি পদ্মা সেতু ও আরেকটি মেট্রোরেল প্রকল্প। সেখানেও দফায় দফায় ব্যয় বাড়ানো হচ্ছে। পদ্মা সেতু প্রকল্পে ১০ হাজার ১৬১ কোটি ৭৫ লাখ টাকা থেকে ব্যয় এখন এসে দাঁড়িয়েছে ৩০ হাজার ১৯৩ কোটি ৩৮ লাখ টাকা। একই চিত্র মেট্রোরেল প্রকল্পেও।

আমার সংবাদ পত্রিকার তরুণ উদীয়মান সাংবাদিক এনায়েত উল্লাহ’র অনুসন্ধিৎসু প্রতিবেদনে উঠে এসেছিলো, মেট্রোরেল প্রকল্পে বরাদ্দকৃত অর্থ ব্যয় না করে বাজেট বাড়ানোর কথা। আর এসব কারণেই হয়তো রসিকতা করে অনেকেই বলে, ‘বড় প্রকল্পের বিশেষ গুণ, খরচ বাড়াতে হয় কয়েক গুণ।’

কেন যে এমনটা হয় তা সকলে আমরা কমবেশি বুঝি। অথচ যারা দিনের পর দিন কষ্ট করে, গ্রীষ্মের ভয়াবহ তাপদাহ উপেক্ষা করে, বৃষ্টি মাথায় নিয়ে ফসল ফলায়, তারা নায্য মূল্য পায় না। এমনকি উৎপাদন খরচের টাকাও নিয়ে ঘরে ফিরতে পারছে না। অনেকেই ধৈর্যচ্যুত হয়ে ফসলের ক্ষেতে আগুনও দিয়েছে।

কতটা ক্ষোভ দুঃখ দ্রোহ কৃষকের বুকে জমলে এমন কাজটি করতে পারে, তা কি একবার ভেবে দেখবেন ওপরওয়ালারা? কৃষিমন্ত্রী বলেছেন, দেশে প্রচুর পরিমাণে ধান উৎপাদন হওয়ায় কৃষকরা নায্যমূল্য পাচ্ছে না। তাছাড়া সঙ্গত কারণে সরকারের পক্ষে নায্যদাম দিয়ে কৃষকের কাছ থেকেও ধান ক্রয় করা সম্ভব হচ্ছে না। তবে এ সমস্যা দূরীকরণে কর্তৃপক্ষ চাল রপ্তানির কথা ভাবছেন।

অথচ অপরদিকে ভারত থেকে অবলীলায় হাজার হাজার টন চাল আমদানি করা হচ্ছে। গত দেড় মাসে দেশের বৃহৎ দিনাজপুরের হিলি স্থলবন্দর দিয়ে ভারত থেকে চাল আমদানি হয়েছে প্রায় ১৫ হাজার মেট্রিক টন। কি বিচিত্র আমার দেশ! চাহিদা না থাকা সত্ত্বেও কেন ভারত থেকে চাল আমদানি করা হচ্ছে ? এর পেছনের নিশ্চয়ই কোন বিশেষ কারণ আছে।

মন্ত্রী অবশ্য বলেছেন, আমদানি করার ব্যাপারে ওপর মহলের চাপ আছে। এর দ্বারা আমরা কি বুঝবো, আ.লীগের কতিপয় মন্ত্রীর অতিশয় ভারত প্রীতির কথা, না সিন্ডিকেটের সাথে আতাত করে নিজেদের পকেট ভারির আশা। কোনটা।

সে যাই হোক এ সুযোগে আমদানিকারক ও ভারতীয় কৃষকরা প্রচুর পরিমাণে লাভবান হচ্ছেন আর অপরদিকে আমাদের দেশীয় কৃষকরা চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। এই হলো আমার স্বদেশ! এই হলো কৃষকদের অবস্থা! অথচ জাতির জনক বলেছিলেন, আমার কৃষক আমার শ্রমিক দুর্নীতি করে না, দুর্নীতি করে শিক্ষিতরা’।

সেই কৃষকদের আজকের অবস্থা আর শিক্ষিতের অবস্থা আকাশ-পাতাল তফাৎ। এক শ্রেণি ক্রমাগত চুপসে যাচ্ছে, অন্য শ্রেণি ফুলেফেপে দিনকে দিন ঢোল হচ্ছে। অর্থনীতিক খাতের দিকে তাকালে প্রথমে শেয়ার বাজারের কথা আসে। আর শেয়ার বাজারের সেই কলঙ্কজনক অধ্যায়ের কথা তো সবারই মনে থাকবার কথা।

দেশের শেয়ার বাজার থেকে প্রায় ২০,০০০ কোটি টাকা জালিয়াতি করে হাতিয়ে নিয়ে লাখ লাখ বিনিয়োগকারীদের ফতুর করেছিলো। আজ সেই বিনিয়োগকারীরা রিক্ত নিঃস্ব হয়ে প্রমোদ গুণছে। আর কারসাজি লুটেরারা আরাম আয়েশে দিনানিপাত করছে। বিদেশে টাকার পাহাড় গড়ে দিব্যি ভোগবিলাসে মত্ত।

আশানুরুপ কোন বিচার হয়নি সেই আলোচিত ঘটনার। সরকারি প্রতিবেদনে অনুযায়ী এর সাথে একজন মন্ত্রীর পরিবার ও সরকারি দলের কয়েকজন নেতার সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ বেরিয়ে এসেছিলো। এর আগে ৯৬ সালেও শেয়ার বাজারে মারাত্মক ধস নেমেছিলো। সেসময়কার ঘটনার সুষ্ঠু কোন তদন্ত ও বিচার হয় নি।

বিচারহীনতার সংস্কৃতির এটা অন্যতম উদাহরণ। আর ব্যাংকিং খাত তো ক্রমান্বয়ে তলানিতে ডুবছে। ঋণ খেলাপি যে হারে বাড়ছে একদিন ব্যাংকগুলো না দেউলিয়া হয়ে যায়! তবে আশার বিষয়, সরকারের অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল ব্যাংকিং খাতকে শক্তিশালী ও স্বচ্ছতা আনয়নে নিরলস কাজ করে যাচ্ছেন। এবং এটিকে অন্যতম চ্যালেঞ্জ হিসেবে ইতোমধ্যে গ্রহণ করেছেন। ঋণখেলাপীদের তুলনামূলক সহজ শর্তে ঋণ পরিশোধের সুযোগেরও ব্যবস্থা করেছেন।

এছাড়া যারা দিনের পর দিন সরকারের সব শর্ত পূরণ করে ঋণ গ্রহণ ও পরিশোধ করে দেশের ব্যাংকিং খাত ও অর্থনীতির চাকাকে সচল রেখেছেন তাদের নিয়েও নতুন করে ভাবছেন। কিভাবে তাদের মঙ্গলার্থে আরো যুগোপযোগী পদক্ষেপ গ্রহণ করা যায়।

স্বাস্থ্য খাতেরও একই অবস্থা! ডাক্তাররা সরকারি হাসপাতালে অর্পিত দায়িত্ব পালনের পরিবর্তে প্রাইভেট ক্লিনিকে রোগী দেখায় ব্যস্ত।

আবার কারো কারো বেশিরভাগ সময় কাটে মিছিল মিটিং আর টকশোতে। কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দুর্নীতির কথা নাইবা বললাম। আর বেসরকারি হাসপাতালগুলো তো একেকটা কসাইখানা! এগুলো তো গেলো সরকারি খাত। বেসরকারি খাতও পিছিয়ে নেই, সমানতালে এগিয়ে যাচ্ছে।

বেসরকারি খাতের ব্যবসায়ীদের কাছে খাদ্যদ্রব্যে ভেজাল, প্রতারণা, মেয়াদোত্তীর্ণ জিনিস বাজারে সরবরাহ তো ছেলের হাতের মুয়ার মতো। হরহামেশাই তারা এগুলো করে যাচ্ছে বিশেষায়িত কর্তৃপক্ষের সাথে সমঝোতা আর দেনদরবার করে। আর দেশে নৈরাজ্য, অস্থিরতা, অপহরণ, গুম, খুন, ধর্ষণ আনুপাতিক হারে বেড়ে চলেছে।

গত জানুয়ারি মাস থেকে মধ্য মে পর্যন্ত তিন শতাধিক শিশু ধর্ষিত হয়েছে। এরমধ্যে অর্ধ-শতাধিক গণধর্ষণ। আর মারামারি -হানাহানি তো নিত্য নৈমিত্তিক ঘটনা। প্রশাসন, বিচার বিভাগ, পুলিশ বিভাগেও নৈরাজ্য, স্বজনপ্রীতি, আইনের মারপ্যাচ, ক্ষমতার অপব্যবহার বহুলাংশে বিদ্যমান। কোথাও ন্যায় বিচারের টিকিটুকু নাই।

আর এ লেখা যখন লিখছি তখন বারবার বঙ্গবন্ধুর সেই কথাই মনে পড়ছে, ‘সব দেশ সোনার খনি পায়, আর আমি পেয়েছি চোরের খনি’। সত্যিই বাংলাদেশ তো চোরের খনি। চারদিকে তাকালেই শুধু ভদ্রবেশী চোর ছাড়া কিছুই দেখা যায় না। আসলে এসব ব্যাপারে আমাদের চেতনা জাগ্রত হয় না। আমরা সবসময় মোহাচ্ছন্ন থাকি।

লোভ লালসা ও বিকারগ্রস্ততা আমাদেরকে কাবু করেছে। সমাজের সৎ ও পরিশ্রমী মানুষরা অযোগ্য আর অসৎ লুটেরা যোগ্য বলে বিবেচিত হয়। এভাবে রন্ধ্রে রন্ধ্রে দুর্নীতি অরাজকতা নৈরাজ্য নিয়ে একটা দেশ চলতে থাকলে অচিরেই মুখ থুবড়ে পড়বে। ধুলায় ধূসরিত হবে গৌরবময় রক্তিম ইতিহাস আর আবহমানকাল ধরে বহমান হাজার বছরের ঐতিহ্য।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, বঙ্গবন্ধু কন্যা, আপনার একটা কথা সবসময় কানে বাজে, ‘আওয়ামী লীগারদের কেনা যায় শেখ হাসিনাকে কেনা যায় না’। সেটা আমরা তরুণ প্রজন্ম দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি। আপনার বুকবল ও সাহস আমরা দেখেছি।

বিদেশিদের অযথা চোখ রাঙানি আর হুমকি-ধামকি উপেক্ষা করে বুকদর্পে কিভাবে বাঙালির বহুদিনের কাঙ্ক্ষিত চাওয়া যুদ্ধাপরাধীদের বিচার শক্ত হাতে করেছেন এবং বর্তমান সময় অবধি তা চলমানও রেখেছেন।

আর নিজ দেশের অর্থায়নে পদ্মা সেতুর মতো মেগা প্রকল্প বাস্তবায়নে যে সাহসিকতার পরিচয় আপনি দিয়েছেন তা অনন্য। আমরা তরুণ প্রজন্ম আশা রাখি, উপর্যুক্ত কর্মকাণ্ডের সাথে যারা জড়িত তারা আ.লীগের রাজনীতির সাথে জড়িত হোক, দলে অনুপ্রবেশকারী কেউ হোক বা সুবিধাবাদী গোছের বা সরকারের উচ্চ পদস্থ আমলা হোক বা যে কোন প্রতাপশালী ব্যক্তি হোক অতিদ্রুত তাদেরকে চিহ্নিত করুণ এবং যথাযথ বিচারের আওতায় আনুন। ৫২, ৬৯, ৭১, ৯০ পেরিয়ে যে দেশ আমরা পেয়েছি, সে দেশ কোন এক বিশেষ শ্রেণির হাতে কুক্ষিগত থাকুক তা আমরা চাই না।

প্রয়োজন হলে আমরা দুর্নীতির বিরুদ্ধে সামাজিকভাবে যুদ্ধ করতে প্রস্তুত আছি। আপনার পিতার মতো আপনি আরেকবার ডাক দিয়ে দেখুন না? হঠকারী, দুর্নীতিবাজ, নির্লজ্জ, অসৎ লুটেরা ও ধর্ষকদের রুখতে আমরা তরুণ প্রজন্ম সদা প্রস্তুত।

পরিশেষে এহেন জঘন্য নীতিবহির্ভূত কর্মজজ্ঞের সাথে যারা জড়িত তাদের উদ্দেশ্য করে এটুকু বলতে চাই মনে রাখবেন, অনেক লোককে কিছু সময়ের জন্য বোকা বানানো যায়, কিছু লোককে অনেক সময়ের জন্যও বোকা বানানো যায়, কিন্তু অনেক লোককে দীর্ঘ সময়ের জন্য বোকা বানানো যায় না। আপামর জনতা একবার জাগলে পালাবার জায়গাটুকুও পাবেন না। বলে রাখা ভালো, ধৈর্য্যেরও কিন্তু একটা সীমা আছে?

লেখক : শিক্ষার্থী সমাজকর্ম বিভাগ, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত