শিরোনাম

ভেজাল ও নিম্নমানের খাদ্যপণ্য প্রতিরোধে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে

প্রিন্ট সংস্করণ  |  ০৯:২৪, মে ০৫, ২০১৯

খাদ্যে ভেজাল নিয়ে গণমাধ্যমে কিংবা অন্যান্য ফোরামে যত আলোচনা হয়, সম্ভবত আর কোনো একক বিষয়ে তা হয় না। প্রায়ই গবেষণা প্রতিবেদনে উঠে আসছে, ভেজাল খাদ্য গ্রহণের কারণে মানুষ কিভাবে ক্রমেই বেশি পরিমাণে অসুস্থ হয়ে পড়ছে। খাদ্যে ভেজালকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইন প্রণয়ন করা হয়েছে। কিন্তু ভেজাল কি কমছে?

বেশির ভাগ মানুষই মনে করে, ভেজাল ক্রমেই বাড়ছে। তার পরও বেঁচে থাকার প্রয়োজনে তারা এসব ভেজাল খাদ্যই কিনতে বাধ্য হচ্ছে।ভেজালমুক্ত হবে— এ আশায় অনেকে নামিদামি ব্র্যান্ডের খাদ্যপণ্য কিনে বেশি দাম দিয়ে। কিন্তু লাভ কী? সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত খবর থেকে জানা যায়, বহু নামিদামি প্রতিষ্ঠানের পণ্যও নিম্নমানের। মানুষ তাহলে যাবে কোথায়?

প্রকাশিত খবর থেকে জানা যায়, বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই) বাজার থেকে ২৭ ধরনের ৪০৬টি খাদ্যপণ্যের নমুনা সংগ্রহ করেছিলো। পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর যে ৩১৩টি পণ্যের প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়েছে, তার মধ্যে ৫২টি প্রতিষ্ঠানের পণ্য নিম্নমানের বলে প্রমাণ পাওয়া গেছে।

এসব পণ্যের মধ্যে রয়েছে— সরিষার তেল, পানি, সেমাই, নুডলস, সফট ড্রিংক, গুঁড়া মসলা, লাচ্ছা সেমাই, আয়োডিনযুক্ত লবণ, চানাচুর, বিস্কুট, সুজি, মধু প্রভৃতি। সরিষার তেলের নামকরা ব্র্যান্ডগুলোর মধ্যে রয়েছে— তীর, জিবি, পুষ্টি, রূপচাঁদা ইত্যাদি। আছে প্রাণ অ্যাগ্রোর লাচ্ছা সেমাই, মধুবন ও মিঠাইয়ের মিষ্টি, এসিআই, মোল্লা সল্ট, মধুমতী, দাদা সুপার, তিন তীর, মদিনা, স্টারশিপ, তাজ ও নূর স্পেশালের আয়োডিনযুক্ত লবণ; ফ্রেশ, প্রাণ, ড্যানিশ, সান, ডলফিন ও মনজিল গ্রুপের হলুদের গুঁড়া।

এখন প্রশ্ন হলো, নামিদামি প্রতিষ্ঠানগুলোই যদি তাদের খাদ্যপণ্যের মান ঠিক না রাখে, তাহলে অনামি প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছে মান আশা করব কিভাবে? জনমানুষের উদ্বেগ ও ভেজালের ভয়াবহ ক্ষতি বিবেচনায় নিয়ে উচ্চ আদালত থেকে একাধিকবার সরকারকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

কিন্তু কাজের কাজ যে বিশেষ কিছুই হয়নি তার প্রমাণ বিএসটিআইয়ের বর্তমান প্রতিবেদন। এর আগেও সরকারের জনস্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানসহ আরো কিছু গবেষণাগারের পরীক্ষা- নিরীক্ষায় অনুরূপ ফলাফলই পাওয়া গিয়েছিলো। তখনই যদি পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেয়া হতো, তাহলে আজকের এই অবস্থা হতো না।

জনস্বাস্থ্য রক্ষা ও খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব সরকারের। স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন এসে যায়, সরকার কি সেই দায়িত্ব পালন করছে? সরকারের নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ, জনস্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠান, বিএসটিআইসহ আরো অনেক প্রতিষ্ঠান রয়েছে এসব দেখার জন্য। তারা কি সেই দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করছে? করলে নিশ্চয়ই এত দিনে অবস্থার অনেক উন্নতি হতো।

কিন্তু বাস্তবে তেমন উন্নতি আমরা দেখতে পাচ্ছি না; বরং অবনতিই দেখতে পাই। ভেজাল ও নিম্নমানের খাদ্য কোনো ক্রমেই নয়। প্রয়োজনে খাদ্যমান নিয়ন্ত্রণকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে আরো শক্তিশালী করতে হবে। পাশাপাশি তাদের কাজের অগ্রগতি পর্যালোচনা এবং জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে। ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান নিয়মিত করতে হবে এবং আদালতের সংখ্যা বাড়াতে হবে। যেকোনো মূল্যে ভেজালকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত