শিরোনাম

বাংলাদেশ থেকে অর্থপাচার নিতে হবে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা

প্রিন্ট সংস্করণ  |  ০৮:২৭, মে ০৪, ২০১৯

বাংলাদেশ থেকে বছরে গড়ে ৫০ হাজার কোটি টাকা বিদেশে পাচার হয়। আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যের হিসাবে কারসাজি করে এ টাকা পাচার করা হয়। এ কাজ করতে গিয়ে সাধারণত পণ্য আমদানির সময় কাগজপত্রে দাম বেশি দেখানো হয় এবং পণ্য রপ্তানির সময় দাম কম দেখানো হয়ে থাকে।

ফাঁকফোকর বের করার অন্য উপায়ও আছে। যুক্তরাষ্ট্র্রভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান গ্লোবাল ফিন্যানশিয়াল ইন্টিগ্রিটি (জিএফআই) তাদের প্রতিবেদনে এ কথা বলে আসছে কয়েক বছর ধরেই। শুধু জিএফআই নয়, আরো কিছু প্রতিষ্ঠানের প্রতিবেদনেও বাংলাদেশ থেকে অর্থপাচারের পরিমাণ ও প্রক্রিয়ার কথা বলা হচ্ছে। কিন্তু অর্থপাচার বন্ধের জন্য কার্যকর ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে না বললেই চলে।

জিএফআইয়ের হিসাবে ২০০৬ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত ১০ বছরে বাংলাদেশ থেকে ছয় হাজার ৩০৯ কোটি ডলার বা পাঁচ লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকা পাচার হয়েছে। তাদের তথ্য অনুযায়ী ২০১৫ সালে বাংলাদেশ থেকে ৫৯০ কোটি ডলার (প্রায় ৫০ হাজার কোটি টাকা) পাচার হয়েছে। ২০১৪ সালে পাচার হয়েছিলো ৮৯৭ কোটি ডলার।

২০১৫ সালে অর্থপাচারে শীর্ষ ৩০ দেশের একটি ছিলো বাংলাদেশ; দক্ষিণ এশিয়ায় ভারতের পরই বাংলাদেশের অবস্থান। ২০১৮-১৯ অর্থবছরে বাংলাদেশের মোট বাজেট ছিলো চার লাখ ৬৪ হাজার ৫৭৩ কোটি টাকা। উল্লিখিত ১০ বছরে এ বাজেটের চেয়েও বেশি টাকা পাচার হয়েছে। জিএফআই বলেছে, তাদের হিসাব আনুমানিক—পাচারের প্রকৃত পরিমাণ আরো বেশি হতে পারে।

জিএফআইয়ের ভাষ্য অনুযায়ী উন্নত দেশগুলোর সঙ্গে বাংলাদেশের মোট বাণিজ্যের প্রায় ২০ শতাংশ পাচার হয়েছে। বড় অংশই পাচার করা হয়েছে আমদানি-রপ্তানির সময়ে পণ্যের প্রকৃত মূল্য গোপন করার মাধ্যমে। অবশ্য সংস্থাটির অর্থপাচার বিষয়ক তথ্যকে পুরোপুরি স্বীকার করতে নারাজ বাংলাদেশের ফিন্যানশিয়াল ইনটেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ)। তাদের আপত্তিকে একেবারে খারিজ করে দেয়া যায় না। কারণ একই বিষয়ে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের তথ্যে ব্যবধান থাকতে পারে।

পদ্ধতি ও পরিমাপকের ভিন্নতার কারণে এ ব্যবধান তৈরি হয়। কিন্তু দেশ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা বিদেশে পাচার হচ্ছে, এটা অস্বীকার করা চলে না। এ প্রবণতা জাতীয় অর্থনীতির জন্য ইতিবাচক নয়। সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের মতে, অর্থপাচারের প্রবণতা টেকসই উন্নয়নে বড় বাধা।

অর্থপাচারের এ চিত্র হতাশাজনক। পাচার রোধে সত্বর কার্যকর ব্যবস্থা নেয়া দরকার। এনবিআরের সামপ্রতিক সময়ের এক সভায় অর্থমন্ত্রী বলেছেন, আসন্ন বাজেটে পাচার রোধে এমন কিছু ব্যবস্থা নেয়া হবে, যা স্বাধীনতার পর আর কখনো নেয়া হয়নি। আমরা আশা করি, অর্থপাচার রোধে সত্যিই কার্যকর ব্যবস্থা নেয়া হবে।

 

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত