শিরোনাম

বহুতল ভবনে অশনি সঙ্কেত

প্রিন্ট সংস্করণ॥নাজনীন বেগম  |  ০১:২০, এপ্রিল ১৬, ২০১৯

গত ২৮ মার্চ বৃহস্পতিবার রাজধানীর বনানীর বাণিজ্যিক ভবন এফ আর (ফারুক-রূপায়ণ) টাওয়ারে অগ্নিকাণ্ডের মতো দুর্বিপাক আরও একবার চরম আঘাত হানে। ভবনের ভেতরে থাকা মানুষের আর্তনাদ ও মৃত্যুযন্ত্রণার মুখোমুখি হওয়াই শুধু নয়, শেষ অবধি অনেকের প্রাণ সংহারের মতো চরম সঙ্কটও মোকাবিলা করতে হয়। বেঁচে যাওয়া আক্রান্তরা সেই দুঃসহ ভয়ঙ্কর স্মৃতিকে স্মরণ করে ভয়ে, শঙ্কায় এখনও শিউরে ওঠে। দাবানলের শিখার চাইতেও কালো ধোঁয়ায় চারপাশ ঢেকে যাওয়া এক অন্ধকারাচ্ছন্ন জগত উপস্থিত মানুষকে হতবাক আর মৃত্যুভয়ে আতঙ্কিত করে তোলে। এক বিভীষিকাময় অগ্নিদগ্ধ জগতে যেখানে শ্বাস-প্রশ্বাস চোখ, মুখ, কান সবকিছুই ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন করে রাখে, সেখানে বাঁচার তাগিদে এদিক-ওদিক ছোটাছুটিরও তেমন কোন অবকাশ ছিল না। মূল্যবান প্রাণটুকু ফিরে পেয়ে যারা নতুন করে পৃথিবীর আলো দেখলো তারা সত্যিই ভাগ্যবান বললেও কম বলা হয়। ধোঁয়ায় আবৃত সেই অন্ধকার বলয় থেকে বের হওয়া মানুষগুলোর স্মৃতিও কেমন যেন ধোঁয়াশে হয়ে যায়। কারণ সেই অসহনীয় মুহূর্তগুলোতে নিজেকে বাঁচানোর তাড়না ছাড়া অন্য কোনদিকে তাকাবার অবস্থা এবং পরিবেশ কোনটাই ছিলো না। ধোঁয়ায় শ্বাস নিতে কষ্ট হতে হতে একসময় বন্ধ হওয়ার পর্যায়েও পৌঁছে যায়। কয়েকজন মৃত্যুর কোলে ঢলেও পড়ে। ৩০-৪০ মিনিট এমন বিভীষিকাময় পরিবেশে নাকে, মুখে ভেজা কাপড় গুঁজে দেয়ার ঘটনাও ঘটেছে বেঁচে থাকার অদম্য স্পৃহায়। ফিরে এসে অনেকেই সেই বাঁচার লড়াইয়ের দুঃসহ স্মৃতি শুনিয়েছেন। রাজধানীর বনানী কিংবা গুলশান অভিজাত এলাকা হিসেবে পরিচিত। বিদেশি দূতাবাস থেকে শুরু করে অত্যাধুনিক শপিং মল, নামী-দামী হোটেল, রেস্টুরেন্ট এবং বহুতল ভবনে বাণিজ্যিক কার্যক্রমে আবর্তিত এমন ঐশ্বর্যিক পরিবেশ নিরাপত্তাহীনতার ঝুঁকিতে থাকা যেমন অবিশ্বাস্য, একইভাবে নির্মাণ কৌশলে অনেক অনিয়ম, নীতি-নৈতিকতার স্খলনকেও জনসমক্ষে স্পষ্ট করে তোলে। নতুন করে রাজধানীর উন্নয়ন সংস্থাকে ভাবতে বসতে হয় কোথায় ত্রুটি-বিচ্যুতি, যার কারণে এমন প্রাণঘাতী অঘটন। আধুনিক আকর্ষণীয় বহুতল ভবন যা বাণিজ্যিকীকরণের এক ব্যয়বহুল মাধ্যম সেখানে জরুরি নির্গমন পথ কিংবা অগ্নি নিরোধক ব্যবস্থাপনার এমন অসঙ্গতি, চিন্তা করলেও কোন কূল-কিনারা পাওয়া যায় না। দুর্ঘটনায় অনেক কিছু হারানোর পর কর্তৃপক্ষের টনক নড়ে, ভবন তৈরির বিধিনিষেধ ন্যক্কারজনকভাবে ধরা পড়ে, তোড়জোড় শুরু হয়ে যায় পরিকল্পিত নির্মাণ কৌশলে এমন অনাকাঙিক্ষত অব্যবস্থাপনার নবায়নের উপস্থিত কিছু কার্যক্রম। শুধু তাই নয়, ভবন নির্মাতাও সেই আইনানুগ পন্থা মেনে না চললে তাৎক্ষণিক যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণে যা কিছু করণীয় সবই করতে হয়। সেখানে গাফিলতি কার? ভবন নির্মাতা নাকি রাজউকের? রাজউকের অনুমোদন ছাড়া অনৈতিকভাবে বহুতল ভবন নির্মাণের দায়ভাগ এখন কার ওপর বর্তাবে? সে আলোচনা তো পরে। অগ্নিসংযোগের দুর্যোগ কাটতে না কাটতেই প্রথমেই বের হয়ে আসে ১৮ তলা ভবন নির্মাণে রাজউক কর্তৃপক্ষ অনুমতি দিলেও ওপরের ৫ তলা তৈরির কোন অনুমোদন দিতে অস্বীকার করে। কিন্তু নির্মাতা তাকে তোয়াক্কাই করেনি। পরের ৫টা ফ্লোরও তৈরি হয়েছে রাজউকের চোখের সামনে। এমন অনিয়মকে নীতিনির্ধারণী পন্থায় সুরাহা করার চেষ্টাও করেনি সংশ্লিষ্ট মালিকপক্ষ। আইন না মানার অপকৌশল? পরবর্তীতে এর বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা গ্রহণে ব্যর্থ হওয়ার এমন অরাজক অবস্থা থেকে বের হতে না পারলে পরিকল্পিত ভবনই শুধু নয়, নিরাপদ, বাসযোগ্য নগরী গড়ে তোলাও সুদূর পরাহত হবে। কোন এক অসুদপায়ের বাণিজ্যিক মনোবৃত্তি যখন পুরো পরিস্থিতিকে ভয়ঙ্করই নয় বরং অসংখ্য মানুষের প্রাণসংহারকেও নির্মমতায় ঢেকে দেয়, তাকে কিভাবে মেনে নেয়া যায় জানি না। যিনি এমন অপকর্ম করেন যা আইনকানুনকেও অসম্মান করা হয় তিনি কি আসলেই নিজেকে অভিযুক্ত কিংবা অপরাধী ভাবেন? সেটা জানাও অত্যন্ত জরুরি। সংশ্লিষ্ট ভবন নির্মাতাকে প্রথমে আটক করে পর্যায়ক্রমিক ধারায় রিমান্ডে নেয়া ছাড়া তিনি তার দুষ্কর্মের কোন জবানবন্দি দেন না, এটাই তো বহু প্রচলিত অপসংস্কৃতি। অন্যায় করে যার মধ্যে কোন অপরাধবোধ থাকে না এমন মানুষের সংখ্যাই বেশি। বিচার প্রক্রিয়া কি তাদের সর্বশেষ এবং সর্বোচ্চ শাস্তি দিতে পারে? কোন একসময় আইনের ফাঁকফোকরে বেরিয়ে আসবে। নিদেনপক্ষে অপরিকল্পিত ভবনটির কিয়দংশ ভাঙা হবে। সেখানে হয়তবা আইন অমান্যকারীকে অনেক অর্থদণ্ড দিতে হবে। আর যারা পৃথিবী ছেড়ে চলে গেলেন অন্যের দায়ভাগ কাধে নিয়ে তাদের স্বজনের কি দূরবস্থা জীবনভর বয়ে বেড়াতে হয় তার মূল্য কি কোন কিছু দিয়ে হবে? এসব কেউ ভাবেও না। তাৎক্ষণিক কিছু ব্যবস্থা নেয়া হয়। পরবর্তীতে সেটারও কোন ধারাবাহিক প্রক্রিয়া দেখা যায় না। নজির হিসেবে উল্লেখ করা যেতে পারে- গত ২১ ফেব্রুয়ারির প্রথম প্রহরে পুরান ঢাকার চকবাজারে আগুনের লেলিহান শিখায় ভবনের অধিবাসীদের চরম বিপর্যয়ের মুখোমুখি করে। ক্ষত-বিক্ষত অবস্থার রেশ কাটতে না কাটতেই আবারও এক অগ্নিদুর্ঘটনায় সারা বাংলাদেশ বিস্মিত আর হতবাক হয়ে যায়। অপরিকল্পিত ভবন কোনভাবেই সুস্থ নগরায়ণের পূর্বশর্ত হিসেবে বিবেচনায় আসতে পারে না। স্বচ্ছ, স্বাভাবিক, আইনানুগ ব্যবস্থায় শিল্প আর আবাসন প্রকল্প যদি তাদের কর্মপ্রক্রিয়াকে বিধিসম্মত উপায়ে এগিয়ে নেয় তাহলে দুর্ভোগ আর দুর্যোগের আশঙ্কা তেমন থাকে না। প্রথম থেকেই গোড়ায় গলদ কাজের। অনৈতিক পাঁয়তারা শিল্প-কারখানা এবং বহুতল ভবনকে ঝুঁকিপূর্ণই শুধু নয়, সংশ্লিষ্ট মানুষগুলোকেও মৃত্যুগুহায় জিম্মি করে রাখে। এসব বিধিবহির্ভূত ও হঠকারী কর্মযোগের দাম চোকাতে হয় অসহায়, নিরীহ ও ভুক্তভোগী মানুষ। সুষ্ঠু, বিধিসম্মত, বাসযোগ্য নগরায়ণ নির্ভর করে আনুষঙ্গিক অনেক পরিবেশবান্ধব কর্মপ্রকল্পের ওপর। জনকল্যাণমুখী আধুনিক নগর সভ্যতার ক্রমবিকাশ কেন অন্ধকারের কালো ছায়ায় পথভ্রষ্ট হয়? প্রাণহানির মতো ভয়ঙ্কর নৃশংসতাকে ঢেকে দেয়ার অবকাশও থাকে না। তথ্যপ্রযুক্তির ক্রমবিকাশে উন্নয়নের গতি যেখানে নিরন্তর আর অবারিত সেখানে কেন মান্ধাতা আমলের অনেক গতানুগতিক অব্যবস্থা নতুন করে তৈরি হবে? বিজ্ঞানের জয়যাত্রা যেখানে গিয়ে পৌঁছেছে সেখানে জরুরি নির্গমন পথ থেকে শুরু করে অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা তৈরি করা যায়, যাতে অনাকাঙিক্ষত অনেক দুর্যোগ মোকাবিলায় হিমশিম খেতে না হয়। তাৎক্ষণিক কিছ্ু ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা থাকলেও মূল্যবান জীবনের ওপর কোন ধরনের হুমকি আসে না। সুতরাং আধুনিক শিল্প-কারখানা, আবাসিক ও বাণিজ্যিক বহুতল ভবনকে নিরাপত্তা বেষ্টনী দিতে না পারলে এমন বিপদসঙ্কুল অব্যবস্থাকে বারবার সামলাতে হবে। সম্পদ ক্ষয়ের চাইতে মানুষের জীবনের দাম অনেক বেশি। যা কোন কিছুর বিনিময়ে মাপা যায় না। বনানী-গুলশানের মতো এমন আধুনিক এলাকা যদি পুরনো সংস্কারের আবর্তে পড়ে তা হলে নিরাপত্তার বলয় কি সব সময়ই ঝুঁকিপূর্ণ থাকবে? এফ আর টাওয়ারে আগুন লাগার পরের দিনই গুলশান-১ এর কাঁচাবাজারে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। লোকক্ষয় না হলেও সাধারণ মানুষের দোকানপাট পুড়ে যাওয়ায় অনেক আর্থিক ক্ষতি সামলাতে হয়েছে। এটাও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জন্য কম লোকসান নয়। এসব দুর্ঘটনা মোকাবিলায় তাৎক্ষণিক অনেক সিদ্ধান্ত নেয়া হলেও কিছু সময় পর তা আর শেষ পর্যন্ত গড়ায় না। এবার রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ সরাসরি মাঠে নেমে তদন্ত শুরু করেছে। শুধু আগুনে দগ্ধ হওয়া ভবনই নয়, সমস্ত বহুতল ভবনকে সরাসরি তদন্তের আওতায় এনে সব ধরনের পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে যাবতীয় ব্যবস্থা গ্রহণের উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে। পুরান ঢাকার চকবাজারে অগ্নিকাণ্ডের আগুন বিস্ফোরিত অবস্থায় চারপাশে তার লেলিহান শিখা ছড়াতে থাকে। কারণ নির্দিষ্ট ভবনটিতে রাসায়নিক দ্রব্য মজুদ ছিল। যেখান থেকে আগুন বিস্ফোরক আকারে বের হয়ে ভবনটিতে ভয়ঙ্কর দুর্বিপাকে মৃত্যুকূপ তৈরি হতে থাকে। আর বনানীতে এফ আর টাওয়ারে আগুনের চাইতেও চরম সঙ্কট তৈরি করে তীব্র ধোঁয়া। যার যন্ত্রণা দগ্ধ হওয়ার থেকেও কিছু কম নয়। ধোঁয়ার এমন তীব্র ধূম্রজালে ভবনের মানুষ দিগ্বিদিক জ্ঞানশূন্য হয়ে কোন্্দিকে পালাবে তার কোন হদিস পাচ্ছিল না। আগুনের চাইতেও ধোঁয়ার এই অস্বাভাবিক বিস্তার রোধ করা একা ফায়ার সার্ভিসের পক্ষে সম্ভব হয়নি। তীব্র ধোঁয়ায় অতিষ্ঠ মানুষ আসলে জানতেও পারছে না তাদের উদ্ধারের কোন উপায় তৈরি হয়েছে কিনা! একসময় উদ্ধার প্রক্রিয়ায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী এবং বিমানবাহিনীর জওয়ানরা ফায়ার সার্ভিসের পাশে এসে দাঁড়ায়। উদ্ধার কর্মীদের নিরলস ও তাৎক্ষণিক তৎপরতায় দুটি হেলিকপ্টারের সহায়তায় ছাদে আটকে পড়াদের উদ্ধার করে নিশ্চিত মৃত্যুর হাত থেকে রক্ষা করতে এগিয়ে আসে। শুধু তাই নয়, গুলশান লেক থেকে হেলিকপ্টারে পানি উত্তোলন করে কালো ধোঁয়া ছড়ানো আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করা হয়। সশস্ত্রবাহিনী অত্যাধুনিক ড্রোনের সহায়তায় সর্বক্ষণিক নজরদারি করে ভবনের ভেতরে ও বাইরে তীক্ষ পর্যবেক্ষণ চালাতে থাকে। এমন দুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতিতে বনানী, গুলশানসহ পুরো রাজধানী তীব্র যানজটে থমকে যায়। তীব্র ধোঁয়া হলেও আগুনের আঁচও সব সময় দগ্ধের যন্ত্রণা দিতে থাকে। প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনায় ভবনের ভেতরে আগুনের লেলিহান শিখা ছড়িয়ে পড়লে তীব্র গতিতে কালো ধোঁয়াও সমান তালে বের হতে থাকে। একসময় চারপাশ কালো অন্ধকারে ঢেকে যায়। এমন দুর্যোগ সামলাতে বেগ পেতে হয় অনেক। আগুনে দগ্ধ হওয়ার চাইতেও ধোঁয়ায় শ্বাসরুদ্ধ হয়ে যাওয়ার উপক্রম তীব্র হলে অনেকেই সেখানে অজ্ঞান অবস্থায় লুটিয়ে পড়ে। কেউ কেউ মারাও যায়। কাঁচের জানালা এমনিতেই আগুনের আঁচে ফেটে চুরমার হয়। সেখান দিয়েও অনেকে নিচে লাফ দেয়ার চেষ্টা করে। এমন বীভৎস দুর্ঘটনা প্রত্যক্ষ করা ভবনের ভেতরকার লোকজন বাইরে এসে প্রথমেই শ্বাস নিয়ে বেঁচে থাকার দুর্লভ মুহূর্তটিকে উপলব্ধি করার চেষ্টা করে। এই এক দুঃসহ অভিজ্ঞতা, যা কিনা মৃত্যুর গহ্বর থেকে ভুক্তভোগী মানুষকে নতুন করে জীবন পাওয়ার আনন্দে দিশেহারা করে। জীবন আর মৃত্যুর সীমানায় দাঁড়িয়ে যারা এমন দুঃসময়কে জয় করেছে তাদের প্রতি অনেক অভিনন্দন, শুভেচ্ছা আর প্রাণঢালা স্বাগতম। চলে যাওয়া আর ফিরে আসা মানুষের আর্তনাদ, হাহাকার, আতঙ্ক সব মিলিয়ে যে অস্থির সময়ের অবতারণা হয়, সে দুঃসহ স্মৃতি কতদিন যে তাদের তাড়া করবে তা কেউ জানে না। জানি না এমন ভয়ঙ্কর দুর্ঘটনা আবারও দেখতে হবে কিনা। কারণ ভবনের মালিকরা সুনির্দিষ্ট বিধি মোতাবেক বড় মহাপরিকল্পনাগুলো কতখানি এগিয়ে নেন সময়ই তার যথাযথ জবাব দেবে। রাজউকের আদেশ অমান্য করে যখন এফ আর টাওয়ারের মতো ২৩ তলা আকর্ষণীয় বহুতল ভবন নির্মাণ করা হয়েছে, তাহলে আশপাশে থাকা অন্য ভবনগুলো কতখানি নিরাপদ আর ঝুঁকিমুক্ত সে জবাব তো সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছেই। বহাল তবিয়তে এখনও যেসব ভবন দাঁড়িয়ে আছে সেসব ভবন কখন দুর্বিপাকে পড়বে তা জানার কোন উপায়ও নেই। দেখা যাক, রাজউকের তদন্তে শেষ পর্যন্ত কেঁচো খুঁড়তে সাপ বেরিয়ে আসে কিনা। তবে উন্নয়ন সংস্থা যদি এবারও নতুন কোন ফাঁকফোকর খোঁজে তাহলে সামনের অনাকাঙিক্ষত যে কোন উদ্ভূত পরিস্থিতির সমস্ত দায়ভাগ তাদের ঘাড়েই চাপবে। দেশটা যেমন নিজের একইভাবে সকলেরও। সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টা, সহযোগিতা আর সহমর্মিতায় একটি বাসযোগ্য নিরাপদ দেশ তৈরি করার দায়বদ্ধতা প্রত্যেকের। কারণ বিপদ-আপদ যে কোন সময় নিজের ওপর এসে পড়াটা বিস্ময়ের কিংবা অস্বাভাবিক নয়। প্রত্যেক মানুষের সচেতন দায়বদ্ধতায় আমরা একটি পরিকল্পিত দেশ পেতেই পারি।

লেখক : সাংবাদিক

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত