শিরোনাম

‘বাংলা নববর্ষ-১৪২৬’ নতুন সম্ভাবনার প্রত্যাশা

প্রিন্ট সংস্করণ  |  ০২:২১, এপ্রিল ১৪, ২০১৯

পুরনো বছরের সব গ্লানি, অপ্রাপ্তি ও দুঃখ-বেদনা মুছে দিয়ে বাঙালি জীবনে নতুন সম্ভাবনার আলো জ্বালাতে আবারো এসেছে পহেলা বৈশাখ। ‘মুছে যাক গ্লানি, ঘুচে যাক জরা/ অগ্নিস্নানে শুচি হোক ধরা’। বাঙালির নিজস্ব সংস্কৃতি ও গর্বিত ঐতিহ্যের রূপময় ছটায় উদ্ভাসিত সার্বজনীন উৎসবের দিন আজ। আনন্দ-উৎসব আর উচ্ছ্বাস-উষ্ণতায় পালিত হচ্ছে আজকের এই উজ্জ্বল দিনটি। নতুন বছরকে বরণকালে সকলের হূদয়ে ধ্বনিত হচ্ছে রবীন্দ্রনাথের সেই সুর- ‘এসো হে বৈশাখ, এসো এসো’ অথবা নজরুলের ‘ঐ নতুনের কেতন ওড়ে কালবোশেখী ঝড়, তোরা সব জয়ধ্বনি কর’। নববর্ষ বাঙালির প্রাণের উৎসব। বাঙালির প্রধান সাংস্কৃতিক উৎসবও। তাই নতুন বছরকে বরণ করা হচ্ছে নানান বর্ণিল আয়োজনে। রাজধানীতে রমনার বটমূলে ছায়ানটের বর্ষবরণ অনুষ্ঠান, চারুকলার মঙ্গল শোভাযাত্রা, সংবাদপত্রের বিশেষ সংখ্যা ও বিভিন্ন টিভি-চ্যানেলের মজাদার অনুষ্ঠানের পাশাপাশি সারাদেশের গ্রামগঞ্জে বৈশাখী মেলা ও ঐতিহ্যের হালখাতা তো রয়েছেই। স্কুলে স্কুলে ও পাড়া-মহল্লায়ও এবার জাঁকজমকপূর্ণভাবে উদযাপিত হবে দিনটি। শহর-নগর-বন্দর সর্বত্রই আজ বিরাজ করছে এক নির্মল উৎসবের আমেজ। একে কেন্দ্র করে সৃষ্টি হয়েছে অভূতপূর্ব মিলনমেলা। আজ পোশাক-পরিচ্ছদ, খাওয়া-দাওয়া, গানবাদ্য সবকিছুতেই প্রাধান্য থাকবে বাঙালিয়ানার। আড্ডা, আমন্ত্রণ ও উচ্ছ্বাস প্রকাশেও আজ থাকছে স্বকীয়তা। কান পাতলেই শোনা যাবে ঢাকের শব্দ। দেখা যাবে ঢোল, বাঁশি ও নাগরদোলায় ঘূর্ণনের সঙ্গে উচ্ছ্বসিত তরুণ-তরুণীর আনন্দ-অবগাহন। পথে-ঘাটে ও বৈশাখী মেলায় বিক্রি হবে দেশীয় লোকজ হস্তশিল্প আর কুটির শিল্পের বিভিন্ন পণ্যের সঙ্গে বাতাসা, মণ্ডা-মিঠাই, মুড়ি-মুড়কি ইত্যাদি। নানান প্রতিকূলতা উপেক্ষা করে হলেও এবার ভোর হতে সন্ধ্যা ছয়টা পর্যন্ত চলবে এই বৈশাখী উৎসব। বিদেশ-বিভুঁইয়েও বাঙালিরা এই দিনটি আনন্দচিত্তে পালন করবেন। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে নববর্ষ উদযাপন আর পান্তা-ইলিশ যেন সমার্থক হয়ে উঠেছিলো। তবে এবার অনেকেই জাটকা মৌসুমে ইলিশ না খাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। এই ইলিশ পরিহারের সিদ্ধান্তটি অবশ্যই সংগত। তাছাড়া আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার খাতিরে এবার মুখোশ পরিধান বর্জন ও সন্ধ্যা ছয়টার মধ্যে উৎসব শেষ করার (ঘরোয়া অনুষ্ঠান ব্যতীত) আহ্বান জানানো হয়েছে। আমরা মনে করি, এটাও একটি সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত। উল্লেখ্য, বাংলা নববর্ষের হাত ধরে প্রায় একই সময়ে উদযাপিত হচ্ছে আদিবাসী গোষ্ঠীর বৈসাবি উৎসব। উপমহাদেশের অন্যান্য জাতির নববর্ষও আসে প্রায় অভিন্ন সময়ে। নিজেদের বর্ষবরণ উৎসবে অংশ নেয়ার পাশাপাশি অন্যদের সকল উৎসবের প্রতি আমাদেরও শ্রদ্ধাশীল হতে হবে। সমাজে শান্তি ও সম্প্রীতি রক্ষায় এর প্রয়োজনীয়তা অনস্বীকার্য। পহেলা বৈশাখ বাঙালি জাতিসত্তার অবিচ্ছেদ্য একটি অংশ। হালে এই উৎসব কিছুটা শহরকেন্দ্রিক মনে হলেও আসলে গ্রামে-গঞ্জে পহেলা বৈশাখের চেতনাই অধিক ক্রিয়াশীল। গ্রামের মানুষ, মূলত কৃষকরাই বাংলা দিনপঞ্জি অনুসরণ করে থাকেন বেশী। বাংলা ঋতুচক্র মেনে তারা চাষাবাদ করেন। বলাবাহুল্য, আমাদের অর্থনীতিতে বাংলা সনের গুরুত্ব আজও অপরিসীম। নববর্ষে দোকানে দোকানে হালখাতা ও বৈশাখী মেলার মাধ্যমে গ্রামীণ অর্থনীতিতে এক ধরনের প্রাণসঞ্চার হয় প্রতি বছর। হস্তশিল্পের প্রসারেও নববর্ষের ভূমিকা ব্যাপক। আজ পহেলা বৈশাখ- বাংলা নববর্ষ উপলক্ষে দৈনিক আমার সংবাদ’র অগণিত পাঠক, বিজ্ঞাপনদাতা ও শুভানুধ্যায়ীদের জানাই নতুন বছরের প্রাণঢালা শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন। আবারো বিশ্বকবির কণ্ঠে কণ্ঠ মিলিয়ে বলতে চাই, ‘যাক পুরাতন স্মৃতি/ যাক ভুলে যাওয়া গীতি/ অশ্রুবাষ্প সুদূরে মিলাক।’ নববর্ষ উদযাপনের সাথে সাথে অঙ্গীকার হোক নতুন সম্ভাবনায় এগিয়ে- সুখী ও সমৃদ্ধশালী বাংলাদেশ গড়ার।
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত