শিরোনাম

সড়কে আর কত প্রাণ যাবে?

প্রিন্ট সংস্করণ  |  ০৪:৪৯, এপ্রিল ০৮, ২০১৯

গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে একটি যাত্রীবাহী বাস উল্টে পাঁচজন নিহত হয়েছেন। এতে আহত হয়েছেন অন্তত ১৫ জন। গত শনিবার ভোর রাত সাড়ে ৩টার দিকে উপজেলার ঢাকা-রংপুর মহাসড়কের জুম্মারঘর নামক স্থানে এ দুর্ঘটনা ঘটে। প্রশ্ন হচ্ছে এ ধরনের মৃত্যুর মিছিল কি দীর্ঘ হতেই থাকবে?দুঃখজনক হচ্ছে সড়ক দুর্ঘটনা কিছুতেই কমছে না, বরং দিন দিন তা বেড়েই চলেছে। অবস্থা ‘মহামারি’ আকার ধারণ করেছে বললেও অত্যুক্তি হয় না। একটি ঘটনার রেশ না কাটতেই আরেকটি ঘটনা ঘটছে। প্রতিদিনই গণমাধ্যমে দুর্ঘটনার খবর থাকছে। এসব ঘটনায় হতাহতের সংখ্যাও অনেক। এর প্রতিকার অত্যন্ত জরুরি।সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যু শুধু একটি পরিবারে গভীর শোক, ক্ষত সৃষ্টি করে না, আর্থিকভাবেও পঙ্গু করে ফেলে ওই পরিবারকে। কোনো কোনো দুর্ঘটনায় পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তিটি প্রাণ হারান। তখন ওই পরিবারের যে কী অবস্থা হয় তা বলার অপেক্ষা রাখে না। আর যারা পঙ্গুত্ববরণ করে তাদের পরিবারের অবস্থা আরও করুণ, আরও শোচনীয়।এক পরিসংখ্যান থেকে জানা যায়, সড়ক দুর্ঘটনায় বছরে গড়ে বাংলাদেশের জিডিপির দেড় ভাগ নষ্ট হয়, যার পরিমাণ পাঁচ হাজার কোটি টাকা। বিগত ১৫ বছরে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন ৫৫ হাজার মানুষ। দুর্ঘটনাজনিত মামলা হয়েছে প্রায় ৭৭ হাজার। এসব কারণে সড়ক দুর্ঘটনা এখন অন্যতম জাতীয় সমস্যা হিসেবে দেখা দিয়েছে। সঙ্গতকারণেই এ সমস্যা থেকে মানুষজনকে মুক্ত রাখার সার্বিক পদক্ষেপ গ্রহণকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দেখা জরুরি।দুর্ঘটনার কারণগুলো সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট সকলেই কমবেশি জানেন। এর মধ্যে রয়েছে- দেশে সড়ক অবকাঠামো এবং স্থলভাগের আয়তন অনুপাতে জনসংখ্যার চাপ বেশি। সড়কের তুলনায় মোটরযানের সংখ্যা অনেক বেড়ে গেছে। একই সড়কে চলছে বাস, ট্রাক, প্রাইভেটকার, রিকশাসহ নানা যানবাহন। উপরন্তু সড়ক ও মহাসড়কগুলো ত্রুটিপূর্ণ। দেশব্যাপী মহাসড়কের অনেক স্থানেই রয়েছে বিপজ্জনক বাঁক। এসব বাঁকের কারণে প্রায়শই দুর্ঘটনা ঘটছে।এছাড়া অবকাঠামোগত কারণেও দুর্ঘটনায় ক্ষয়ক্ষতি ও ঝুঁকি খুব বেশি বলে মনে করেন অনেক বিশেষজ্ঞরা। সমপ্রতি দুর্ঘটনা মহামারির আকার ধারণ করায় যেসব কারণকে দায়ী করা হচ্ছে তার মধ্যে অন্যতম হচ্ছে চালকের অসতর্কতা ও বেপরোয়াভাবে গাড়ি চালানো। এ সমস্যা বারবার চিহ্নিত হলেও এর কোনো প্রতিকার নেই।প্রতিবারই দুর্ঘটনার পর পরই একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। সেই তদন্ত প্রতিবেদন কোনোদিন আলোর মুখ দেখে না। সঙ্গত কারণেই দোষীদের শাস্তিও হয় না। সমাজের উঁচু স্তর থেকে নিচু শ্রেণির মানুষ— যারাই দুর্ঘটনার শিকার হন না কেন, কোনো একটি ঘটনার বিচার হয়েছে, এমন দৃষ্টান্ত মেলা ভার। বিচারহীন, প্রতিকারহীন অবস্থা অপরাধকে পরক্ষে প্রশ্রয় দেয়ারই নামান্তর। অপরাধীর বিচার না করায় তার অপরাধপ্রবণ মনকে আরও অপরাধে উৎসাহিত করে।সড়ক দুর্ঘটনা হয় না পৃথিবীতে এমন দেশ নেই। কিন্তু দুর্ঘটনার সংখ্যা এবং ক্ষয়ক্ষতি যত কমিয়ে আনা যায় লক্ষ্য তাই হওয়া উচিত। ভালো যান, প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত চালক, সড়ক উন্নতকরণ, সিগন্যালিংব্যবস্থা আধুনিক ও যুগোপযোগী করার বিষয়গুলো তো রয়েছেই। এর সঙ্গে দুর্ঘটনায় পতিতদের ত্বরিত চিকিৎসা পাওয়ার বিষয়টিও অত্যন্ত জরুরি। অনেক সময় আইনি জটিলতার কারণে আহতদের চিকিৎসা দিতে সমস্যা হয়। এ সমস্যাটি সমাধানেও ব্যবস্থা নিতে হবে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত