শিরোনাম

তৃতীয় শ্রেণি পর্যন্ত পরীক্ষামুক্ত আনন্দময় হোক প্রাথমিক শিক্ষা

প্রিন্ট সংস্করণ  |  ০১:০৪, মার্চ ২৪, ২০১৯

শিশুরা সব কিছুতে আনন্দ খোঁজে। জোর করে তাদের দিয়ে কিছু করাতে গেলে হিতে বিপরীত হয়। শিক্ষার ক্ষেত্রেও তাই। এ কারণে উন্নত দেশগুলোতে শিশুশিক্ষাকে আনন্দময় করার নিত্যনতুন উপায় উদ্ভাবন করা হচ্ছে। প্রথমে শিশুদের শিক্ষার প্রতি আগ্রহী করে তোলা হচ্ছে। এরপর নিজের আগ্রহেই শিশুরা শিখছে। সেখানে প্রথম শ্রেণি থেকেই বছরে তিনটি করে পরীক্ষা নেওয়ার প্রয়োজন পড়ছে না। শিশুদের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ ও মূল্যায়নের নানা রকম পদ্ধতি তাদের রয়েছে। সেভাবেই অষ্টম শ্রেণি কিংবা পুরো মাধ্যমিক পর্যায় পার করে দেয়া হচ্ছে। অথচ আমরা চলছি উল্টো পথে। বছরে তিনটি তো বটেই, সম্ভব হলে প্রতি সপ্তাহে শিশুদের পরীক্ষার টেবিলে বসিয়ে দিচ্ছি। ফল কী হচ্ছে? শিশুরা লেখাপড়ার প্রতি আগ্রহ হারাচ্ছে। প্রবল ভীতি তৈরি হচ্ছে তাদের মধ্যে। এ অবস্থায় প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় তৃতীয় শ্রেণি পর্যন্ত কোনো পরীক্ষা না রাখার যে চিন্তাভাবনা করছে, তাকে আমরা সাধুবাদ জানাই। এটি করতে হবে বিশেষজ্ঞসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে, তাদের পরামর্শ অনুযায়ী। আমাদের দুর্ভাগ্য, স্বাধীনতার পর একাধিক শিক্ষা কমিশন হলেও সেসব কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়নে আমাদের ব্যর্থতা সীমাহীন। সেগুলোকে পাশ কাটিয়ে কখনো কখনো শুধু প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে কিছু পরিবর্তন করতে গিয়ে ফলাফল উল্টোই হয়েছে। ২০১০ সালে প্রণীত জাতীয় শিক্ষানীতিতেও প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণিতে কোনো পরীক্ষা না রেখে ধারাবাহিক মূল্যায়নের কথা বলা হয়েছিলো। ২০১৯ সালে এসেও আমরা চিন্তাভাবনা করছি। আমরা চাই, শুধু চিন্তার পর্যায়ে না রেখে দ্রুত সেই চিন্তার বাস্তবায়ন করা হোক। প্রধানমন্ত্রী বরাবরই শিশুশিক্ষাকে আনন্দময় করার কথা বলে আসছেন। সমপ্রতি আবারও বলেছেন, তাদের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করা যাবে না। তারা যাতে হাসতে হাসতে, খেলতে খেলতে শিখতে পারে, সে ব্যবস্থা করতে হবে। প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের সঙ্গে আমরা সম্পূর্ণ একমত। এ ব্যাপারে রাষ্ট্রকেই মুখ্য ভূমিকা নিতে হবে। শিশুশিক্ষাকে আনন্দময় করার জন্য আমাদের এখনো অনেক কিছু করার আছে। অনেক প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বসার বেঞ্চ নেই, ছাদের পলেস্তারা খুলে পড়ে। ছাত্রসংখ্যার তুলনায় শিক্ষকের সংখ্যা নগণ্য। তাদের মান নিয়েও রয়েছে প্রশ্ন। বেশির ভাগ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে খেলাধুলার ব্যবস্থা নেই, খেলার সরঞ্জাম নেই। বেসরকারি বিদ্যালয়গুলোতে মাঠের অস্তিত্ব নেই। অডিও-ভিডিওর মাধ্যমে শেখানোর সুযোগ অত্যন্ত সীমিত। আমরা আশা করি, মহাপরিকল্পনার মাধ্যমে প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়নে সরকার সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালিয়ে যাবে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত