শিরোনাম

বিশ্বময় অন্ধত্ব তৈরির কারিগরদের পতন অনিবার্য

প্রিন্ট সংস্করণ॥মোমিন মেহেদী  |  ০৭:৪২, মার্চ ১৮, ২০১৯

আমি মনে করি রাজনীতি তাদেরই করা উচিৎ যারা রাজনীতিকে কখনই ব্যবসা-বাণিজ্য-চাকরি বা ধান্দার দোকান মনে করবে না। মনে করবে না পারিবারিক সম্পদ। দুর্নীতিমুক্ত-সুন্দও দেশ তখনই গড়া সম্ভব বলে আমি বিশ্বাস করি; যখন নিবেদিত দেশপ্রেমিক-মানবপ্রেমিকদের রাজনীতিতে আগমন ঘটবে। আর তার পূর্ব পর্যন্ত কেবল এসব কথাই চলতে থাকবে— ‘তারা ওটা করেছে তো, আমরা একটা করেছি; তারা পারেনি, আমরা পেরেছি।’আর এই সুযোগে গড়ে তুলবে ষড়যন্ত্রকারীরা বড় বড় সমস্যা। যে সমস্যা সামনে এলেই কেবল আমরা বলবো— জীবন যেখানে বিপন্ন, ক্রিকেট সেখানে তুচ্ছ। ক্রীড়া ইতিহাসের সম্ভাব্য সবচেয়ে বড় ট্র্যাজেডি থেকে অল্পের জন্য রক্ষা পেয়েছে বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দল। এর পূর্ব পর্যন্ত জাতীয় থেকে ডাকসু, উপজেলা থেকে সিটি কর্পোরেশন; সকল নির্বাচন নিজেদের পারিবারিক বা দলীয় নির্বাচনের মতো করে কব্জা করতেই থাকবো। কেননা, তখন আর মনে হবে না যে, জাতি দেশ সমৃদ্ধি আগে! আর না মনে হওয়ায় আমাদের দেশে সকলকালের শ্রেষ্ঠ জঙ্গিহামলার ‘হলি আর্টিজান’ ট্রাজেডির ঘটনা দেখেছি। শুনেছি-পড়েছি মানুষ হত্যার সেই নির্মম বর্ণনা। তার কয়েক বছর না যেতেই এবার মসজিদে হলো রক্ত হিম করার মতো জঘণ্য ঘটনা। যে ঘটনার হাত থেকে কোনোক্রমে বেঁচে গেছেন নিবেদিত ক্রিকেটমানুষরা। নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চে দুটি মসজিদে জুমার নামাজের সময় নৃশংস সন্ত্রাসীহামলায় অন্তত ৪৯ জন নিহত হওয়ার ঘটনার জেরে বাতিল করা হয়েছে বাংলাদেশ-নিউজিল্যান্ড তৃতীয় ও শেষ টেস্ট। যতদূর জানতে পেরেছি- ক্রাইস্টচার্চের হ্যাগলি ওভালে আজ শুরু হওয়ার কথা ছিল সিরিজের তৃতীয় ও শেষ টেস্ট। কিন্তু মসজিদে ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলার পর গোটা সফরসূচিই বাতিল করা হয়েছে। আমাদের রাজনীতিকদের দুর্নীতি থেকে সরে আসার আহ্বান জানাচ্ছি ছাত্রজীবন থেকেই। অথচ তারা তা না করে যখন নির্মমতার রাস্তা— দুর্নীতির রাস্তা- স্বেচ্ছাচারিতার রাস্তা বেছে নিচ্ছেন, নিউজিল্যান্ড তখন উদাহরণ। এই যে এত টাকা, এত সুখের রাজত্ব তৈরি হয়েছে; হয়নি এক সেকেন্ড নির্ভরতার সময়। তার আগেই ঘটেছে রেকর্ড ভঙ্গ করার মতো জঙ্গিহামলার ঘটনা। অতএব, সাবধান, নীতিবান হয়ে যান। হয়ে যান সবাই-ই আদর্শ-সম্ভাবনার রোল মডেল। তা না হলে হয়তো একবার আল্লাহ রক্ষা করেছেন, দুবার রক্ষা করবেন, তিনবারের সময় আমাদের রাষ্ট্রীয় পাপে কোনো না কোনো ভালো মানুষ, ভালো কাজের সাথে যুক্তদের হারাবো। যা আমাদের কারোই কাম্য নয়। হয়তো এ কারণেই রক্ষা পেয়েছেন নিবেদিত ক্রিকেটমানুষেরা। শুধু তা-ই নয়; জুমার নামাজ পড়তে মসজিদে পৌঁছতে একটু দেরি হওয়ায় প্রাণে বেঁচে গেছেন বাংলাদেশের ক্রিকেটাররা। পাঁচ মিনিট এদিক-ওদিক হলে গোটা দলই হয়তো নিশ্চিহ্ন হয়ে যেত বলে বিদেশি গণমাধ্যমগুলো সংবাদ প্রকাশ করেছে। নিশ্চিত মৃত্যুর মুখ থেকে ফেরার পর প্রচণ্ড আতঙ্কিত বাংলাদেশ দলের ক্রিকেটাররা। যত দ্রুত সম্ভব নিউজিল্যান্ড থেকে দেশে ফিরতে উদ্গ্রীব তামিম, মুশফিকরা। ঘটনার ঠিক একটু আগে হ্যাগলি ওভাল মাঠের কাছে অবস্থিত আল নূর নামের যে মসজিদে জুমার নামাজ পড়তে যাচ্ছিলেন বাংলাদেশের ক্রিকেটাররা, সেখানেই প্রথম হামলা চালায় এক বন্দুকধারী। গোলাগুলির সময় বাংলাদেশ দলের টিম বাস ছিল মসজিদের ঠিক সামনে। ক্রিকেটাররা বাস থেকে নেমে যখন মসজিদে ঢুকবেন, ঠিক তখনই স্থানীয় একজন তাদের মসজিদে ঢুকতে নিষেধ করেন।গুলির শব্দে আতঙ্কিত ক্রিকেটাররা বাসের ভেতর থেকেই দেখতে পান, রক্তাক্ত শরীরে মসজিদ থেকে বেরিয়ে আসছেন অনেকে। চোখের সামনে এমন বিভীষিকা দেখে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন ক্রিকেটাররা। মিনিট দশেক বাসে অবরুদ্ধ থাকার পর ক্রিকেটাররা নিজেরাই সিদ্ধান্ত নিয়ে দৌড়ে হ্যাগলি ওভালে ফিরে যান। এ সময় ভয়ে, আতঙ্কে কাঁদছিলেন অনেকে। হ্যাগলি ওভালের ড্রেসিংরুমে দুই ঘণ্টা কাটানোর পর পুলিশি নিরাপত্তায় টিম হোটেলে নিয়ে যাওয়া হয়। এতটা মহান কোনো কাজে যুক্ত ছিলেন আমাদের ক্রিকেট মানুষেরা যে, অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহর ম্যাচ-পূর্ব সংবাদ সম্মেলন একটু দেরিতে শেষ হওয়ায় বেঁচে গেছেন তামিমরা। সংবাদ সম্মেলন নির্ধারিত সময়ে শেষ হলে হামলার সময় মসজিদের ভেতরই থাকতেন ক্রিকেটাররা। সেক্ষেত্রে সবাইকে হয়তো লাশ হয়ে ফিরতে হতো। সম্ভাব্য ভয়ংকর সেই পরিণতির কথা ভেবে বারবার আঁতকে উঠেছেন তামিম, মুশফিকরা। ঘটনার পর বাংলাদেশ দলের ওপেনার তামিম ইকবাল টুইট করেন, ‘সক্রিয় বন্দুকধারীর গুলি থেকে বেঁচে গেছে গোটা দল। ভীতিকর অভিজ্ঞতা। আমাদের জন্য প্রার্থনা করুন।’ দলের আরেক ব্যাটিং স্তম্ভ মুশফিকুর রহিমও মৃত্যুর মুখ থেকে ফেরার অভিজ্ঞতা জানিয়েছেন টুইটারে, ‘আলহামদুলিল্লাহ, ক্রাইস্টচার্চের মসজিদে গুলি থেকে আল্লাহ আমাদের বাঁচিয়েছেন আজ। আমরা ভীষণ ভাগ্যবান। আর কখনো এমন কিছু দেখতে চাই না। আমাদের জন্য দোয়া করুন।’নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চে ডিন্স এভিনিউর আল নূর মসজিদ ও লিনউড এলাকার লিনউড মসজিদে এ গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় নিহতদের মধ্যে অন্তত তিনজন বাংলাদেশি রয়েছেন বলে বিভিন্ন গণমাধ্যম যে তথ্য দিয়েছে, সে তথ্যের আলোকে বলবো— বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে জানিয়েছেন বাংলাদেশের অনারারি কনসাল ইঞ্জিনিয়ার শফিকুর রহমান। নিহত বাংলাদেশিরা হলেন— লিংকন ইউনিভার্সিটির শিক্ষক ড. আবদুস সামাদ, হোসনে আরা ফরিদ নামের এক গৃহবধূ এবং আরও এক নারী। পুলিশ ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাদের হাসপাতালে ঢুকতে দেয়নি। এছাড়া পরিস্থিতি শান্ত না হওয়া পর্যন্ত তারা কোনো কিছুই প্রকাশ করবে না বলে জানিয়েছে। নূর মসজিদে হামলাকারী হেলমেটে ক্যামেরা বসিয়ে গুলি চালানোর এ তাণ্ডব সরাসরি সমপ্রচার করেছে। স্থানীয় একটি ওয়েবসাইট জানায়, হামলাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে লাইভ করেছে ঘাতক। ভিডিওটিতে দেখা গেছে, ভিডিও গেমের মতো বন্দুকধারী স্বয়ংক্রিয় অস্ত্র দিয়ে গুলি করছে। ভিডিও দেখে ধারণা করা হচ্ছে, বন্দুকধারী হামলার আগে পুরো ঘটনাটি ভিডিও করার প্রস্তুতি নিয়েছিলো। নিজে গাড়ি চালিয়ে মসজিদের পাশে আসা থেকে শুরু করে পুরো ভিডিওটি ১৭ মিনিটের বলে জানিয়েছে স্থানীয় গণমাধ্যম। ভিডিওতে দেখা গেছে, হামলাকারী স্বয়ংক্রিয় বন্দুক নিয়ে গাড়ি থেকে নেমে মসজিদের দিকে যাচ্ছে। মসজিদের প্রবেশ কক্ষ থেকেই মুসলিদের ওপর নির্বিচারে বৃষ্টির মতো গুলি ছুড়তে শুরু করে। মসজিদের ভেতর ছোটাছুটিরত মুসলিদের প্রতি টানা গুলি করতে থাকে। এরপর মসজিদের এক কক্ষ থেকে অন্য কক্ষে ঘুরে ঘুরে গুলি করতে থাকে। গুলিবিদ্ধ হয়ে যারা মসজিদের মেঝে পড়েছিলেন, তাদের দিকে ফিরে ফিরে গুলি করছিল সে। অবশ্য সেই হামলাকারীকে অস্ট্রেলিয়ার নাগরিক বলে নিশ্চিত করেছেন অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী স্কট মরিসন। তিনি বলেন, বর্বর এ হামলার ঘাতক কট্টর ডানপন্থি। তার নাম প্রকাশ করেননি তিনি। তবে হামলার আগে সকালে ৭৪ পৃষ্ঠার একটি ঘোষণাপত্রে নিজের পরিচয় দিয়েছে হামলাকারী। তাতে সে জানায়, ‘আমি অস্ট্রেলিয়ার ২৮ বছর বয়সি এক শ্বেতাঙ্গ পুরুষ। একটি শ্রমিকশ্রেণির পরিবারের সন্তান।’ সে আরও জানায়, এটি একটি সন্ত্রাসীহামলা। ব্রেনটন টেরেন্ট নামে খোলা টুইটারে ঘোষণাপত্রটি প্রকাশ করেছে সে। একই নাম ও ছবির ফেসবুক অ্যাকাউন্টও আছে তার। ঘোষণাপত্রে হামলাকারী জানিয়েছে, দুবছর ধরে হামলার পরিকল্পনা করছি। তবে নিউজিল্যান্ড আমার টার্গেটে ছিল না। এখানে প্রশিক্ষণের জন্য এসেছি। ইউরোপের দেশগুলোতে বিদেশি হামলাকারীদের বিরুদ্ধে প্রতিশোধপরায়ণ হয়ে তিন মাস আগে এ হামলার পরিকল্পনা করেছি।’এমন নির্মমতামুক্ত পৃথিবী চাই। যে পৃথিবীতে তৈরি হবে ভালোবাসার রাজত্ব। প্রকৃত ভালোবাসা, মায়ের ভালোবাসা সন্তানের টাকার জন্য নয়; বাবার ভালোবাসা সন্তানের সহযোগিতা নয়; সন্তানের ভালোবাসা বাবা বা মায়ের প্রতি অবিচার করে নিজেদের ভালো থাকা নয়; আর তা হলেই নির্মমতার হাত থেকে পৃথিবী রেহাই পাবে, রেহাই পাবো আমরাও। বর্ণবাদের বিরুদ্ধে যখন সারা পৃথিবী সোচ্চার; তখন বাংলাদেশে যেমন শুরু হয়েছে ছলা-কলার রাজনীতি-দ্বিকরণ জাতিতত্ত্ব আর আলো-আশার বিপরীতে কালো-আশার চেষ্টা; তখন নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চের মসজিদে হামলাকারী একজন কট্টর শেতাঙ্গ বর্ণবাদী। তার নাম ব্রেনটন টেরেন্ট। ২৮ বছর বয়সি এ সন্ত্রাসী মুসলমান ও অভিবাসী বিদ্বেষী। তার মতে, মুসলমানরা ইউরোপের দেশগুলো দখল করে নিচ্ছে। এ বিষয়ে সবাইকে সতর্ক করতে এবং ইউরোপে ইসলামপন্থিদের সন্ত্রাসী হামলার প্রতিশোধ নিতে সে এ হামলা চালিয়েছে। হামলার আগে ঘাতক নিজের টুইটার অ্যাকাউন্টে কথিত মেনিফেস্টো (ঘটনার কারণ) প্রকাশ করে। তাতে সে মুসলমানদের দাস, সন্ত্রাসী ও দখলদার হিসেবে উল্লেখ করে। অভিবাসী ও মুসলমানদের প্রতি চরম ঘৃণা প্রকাশ করে সে বলে, ইউরোপ থেকে অভিবাসীদের নিশ্চিহ্ন করে ‘মাতৃভূমি’ পুনরুদ্ধার করা তার লক্ষ্য। অন্য ধর্ম থেকে মুসলমানে পরিণত হওয়াকে সে রক্তের সঙ্গে বেইমানি বলে উল্লেখ করে। ব্রেনটন লিখেছে— আমাদের ভূখণ্ড কখনোই অনুপ্রবেশকারীদের ভূখণ্ড হবে না। আমাদের মাতৃভূমি আমাদের এবং যতদিন পর্যন্ত শ্বেতাঙ্গরা জীবিত থাকবে, ততদিন তারা আমাদের ভূখণ্ড দখল করতে পারবে না। তারা কখনোই আমাদের লোকদের জায়গা দখল করতে পারবে না। সে বলে, সংজ্ঞায়িত করলে এটি একটি সন্ত্রাসী হামলা। কিন্তু দখলদার বাহিনীর বিরুদ্ধে এটি একটি পক্ষপাতমূলক হামলা বলেই আমি মনে করি। হামলাকারীর পরিচয় নিশ্চিত করে অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী স্কট মরিসন বলেন, হামলাকারী মৌলবাদী, কট্টর ডানপন্থি ও সহিংস সন্ত্রাসী ছিল। সে অস্ট্রেলিয়ায় হাজতবাসেও ছিল। দেশটির নিউ সাউথ ওয়েলস অঙ্গরাজ্যের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে অপরাধসংক্রান্ত পুরনো রেকর্ড আছে। তার বাড়ি গ্রাফটন শহরে। এ ভয়াবহ হামলা চালানোর জন্য ২ বছর ধরে পরিকল্পনা করছিল জানিয়ে ব্রেনটন আরও বলে, ৩ মাস আগেই সে ক্রাইস্টচার্চে হামলার সিদ্ধান্ত নেয়। ব্রেনটন টেরেন্ট তার কথিত মেনিফেস্টোতে নিজেকে একজন ‘সাধারণ শ্বেতাঙ্গ’ বলে উল্লেখ করে। সে লিখেছে— ২০১৭ সালে সুইডেনের স্টকহোমে সন্ত্রাসী হামলায় ১১ বছর বয়সি শিশু এব্বা অকারলান্ডের নিহত হওয়ার ঘটনার শোধ নিতে এ হামলাটি চালানো হয়েছে। তার ভাষ্য— ‘স্টকহোমের ওই ঘটনাটিই আমাকে প্রথম এ ধরনের হামলার অনুপ্রেরণা জুগিয়েছে, বিশেষ করে ওই ১১ বছর বয়সি মেয়েটির মৃত্যু। এব্বার মৃত্যু হয়েছে ‘দখলদার’দের হাতে... আমি এ ধরনের হামলা এড়িয়ে যেতে পারি না। এটি ঐতিহাসিকভাবে ইউরোপের ভূমিতে বিদেশি ‘দখলদার’দের কারণে শত শত মানুষের মৃত্যুর পাল্টা প্রতিশোধ। ২০১১ সালে নরওয়ের অসলোতে ৭৭ জনকে হত্যাকারী আন্ডারস ব্রেইভিকের দ্বারা অনুপ্রাণিত হয়ে সে এ সন্ত্রাসী হামলা চালিয়েছে। এছাড়া সে নিজেকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সমর্থক বলেও দাবি করে। এ হামলার ঘটনায় সে ট্রাম্পের উগ্র সমর্থক ক্যানডিস ওউনসের কাছ থেকেও অনুপ্রাণিত হয়েছে। ব্রেনটন তার টুইটার অ্যাকাউন্টের হেডার ফটো হিসেবে যে ছবি দিয়েছে, সেখানে ২০১৬ সালে ফ্রান্সের নিসে শহরে বাস্তিল ডে উদযাপন অনুষ্ঠানে সন্ত্রাসী হামলায় নিহত একজনের ছবি দেখা যায়। সেদিন জনতার ওপর ট্রাক চালিয়ে দেয়ার ঘটনায় ৮৪ জনের প্রাণহানি হয়েছিল। নিউজিল্যান্ডে মাত্র ১ শতাংশ মুসলমান। তারপরও কেন এ দেশটিকে হামলার জন্য বেছে নেয় ব্রেনটন- এর কারণ হিসেবে সে লিখেছে, দেশটি ইউরোপের অন্য দেশের চেয়ে তুলনামূলক দুর্গম। তারপরও এখানে দিন দিন মুসলমানদের সংখ্যা বাড়ছে। হামলার মাধ্যমে এ বিষয়ে সে সবাইকে সতর্ক করতে চেয়েছিল। নিজের পারিবারিক অবস্থা ও শৈশবের বেদনা উল্লেখ করে সে লিখেছে, আমি নিম্নবিত্ত পরিবারে জন্মেছি, বাবা-মা স্কটিশ আইরিশ এবং ইংলিশ ছিল, আমার কোনো নিয়মিত শৈশব ছিল না। ক্রাইস্টচার্চের আল নুর মসজিদে প্রাণঘাতী হামলা চালাতে যখন গাড়ি চালিয়ে যাচ্ছিল, শ্বেতাঙ্গ শ্রেষ্ঠত্ববাদী ব্রেনটন তখন লোক গান ও সামরিক সঙ্গীত শুনছিল। এরপর একটি সরু গলিতে গাড়িটি পার্ক করে রেখে অস্ত্র নিয়ে মসজিদের দিকে এগিয়ে যায় সে। তার গাড়ি থেকে অন্তত ৬টি অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। যে অস্ত্র-সরঞ্জাম নিয়ে ব্রেনটন টেরেন্ট ও তার সহযোগীরা হামলা চালিয়েছে সেখানে মুসলিমদের ওপর বিগত সামপ্রদায়িক হামলার তথ্য তুলে ধরে এ ধরনের হামলা চালিয়ে যাওয়ার উৎসাহমূলক বিভিন্ন শব্দ-বাক্য দেখা যায়।সব কথার মূল কথা হলো— অন্ধত্ব। তাকে অন্ধ করেছে তার রাষ্ট্র এবং সংস্কৃতি। আজ যেমন ব্রেনটনের মতো করেই বেড়ে উঠছে মাদ্রাসার কিছু ছাত্র আবার বিদ্যালয়ের কিছু ছাত্র; তেমন চাই না বলেই চাই সুশিক্ষা। ব্রেনটন সুশিক্ষা থেকে বঞ্চিত; সততা- মেধা- যোগ্যতা থেকে বঞ্চিত। এই বঞ্চনার দায় যেমন সে দেশের সরকার অস্বীকার করতে পারেনি; পারবে না বাংলাদেশও। তাছাড়া পৃথিবীর ইতিহাস স্বীকৃত সত্য হলো- ব্রেনটনই শুধু নয়; সারা বিশ্বের সকল দেশের, সকল অপরাধের শেষ ছিলো; ছিলো চরম ঘৃণ্য তার সমাপনি। নিজের চোখ বিশ্বাস করতে পারেনি বিশ্বসেরা রাজনীতিকগণ তাদের পতনঘটনাকে। তবু পতন এসেছে, ব্রেনটনের চেয়েও অনেক ক্ষমতাশালী ছিলেন ফেরাউন, নীল নদে তলিয়ে গিয়ে এখন মমি হয়ে আছেন। নমরুদের পতনও ছিলো মনে রাখার মতো। মনে রাখার মতো পতন নিয়ে এসেছে ইরানের রেজা শাহ পাহলবি, বাংলাদেশের খন্দকার মোস্তাকরা। আর এ কারণেই চাই রাজনীতিকে কুক্ষিগত, ক্ষমতাকে কুক্ষিগত করার পরিবর্তে সবার সুযোগ। চাই ক্ষমতাকে আকড়ে না রেখে বাংলাদেশ এগিয়ে যাক। তা না হলে চাপা ক্ষোভের বহির্প্রকাশ ঘটাতে বাংলাদেশেও কোনো ব্রেনটন চলে আসতে পারে। আর কোনো নির্মমতা যেন বিশ্বের কোথাও না হয়; সেদিকে লক্ষ রেখেই রাজনীতি-ধর্ম ও শিক্ষাকে উদারতার রাস্তায় নিয়ে আসতে হবে। যেখানে কোনো অন্ধত্ব নয়; অবিরত থাকবে ভালোবাসা-ধর্ম-রাজনীতি ও শিক্ষায়...

মোমিন মেহেদী : চেয়ারম্যান, নতুনধারা বাংলাদেশ এনডিবি

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত