শিরোনাম

নবনির্বাচিত ডাকসু নেতৃবৃন্দকে অভিনন্দন

দায়িত্ব পালনে আন্তরিক হতে হবে
প্রিন্ট সংস্করণ  |  ০৬:১৩, মার্চ ১৪, ২০১৯

ডাকসু নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ আবারো অশান্ত হয়ে ওঠার যে আলামত দেখা দিয়েছিল, আপাতত তা কেটে গেছে। নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগ এনে ছাত্রলীগ ছাড়া জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলসহ প্রায় সবক’টি প্যানেল নির্বাচন বর্জন ও ক্লাস-পরীক্ষা বর্জনের ঘোষণা দিয়েছিল। কিন্তু চূড়ান্ত ফলাফলে ভিপি পদে সাধারণ শিক্ষার্থী অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের প্রার্থী নুরুল হক নুরের বিজয়ী হওয়ার ঘটনা উত্তেজনার আগুনে যেন পানি ঢেলে দেয়। এরপর ছাত্রলীগের পরাজিত ভিপি প্রার্থী ও সংগঠনটির কেন্দ্রীয় সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভনের নুরকে অনিন্দন জানানো এবং একসাথে কাজ করার ঘোষণা পরিস্থিতির আরো উন্নতি ঘটায়। একই সাথে নবনির্বাচিত ভিপি নুরুল হক নুর ইতোপূর্বে আহুত ক্লাস ও পরীক্ষা বর্জনের কর্মসূচি প্রত্যাহারের ঘোষণা দিয়ে পরিবেশকে আরো স্বস্তিদায়ক করতে ভূমিকা রেখেছেন। যদিও নুর কারচুপির অভিযোগ এনে সব পদে পুনর্নির্বাচনের দাবি করেছেন।
সব জল্পনা-কল্পনা ও শঙ্কার অবসান ঘটিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ-ডাকসুর নির্বাচন মোটামুটি শান্তিপূর্ণভাবে শেষ হয়েছে গত ১১ মার্চ। নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয় পেয়েছে দেশের সবচেয়ে পুরনো ও ঐতিহ্যবাহী ছাত্র সংগঠন ছাত্রলীগ। ডাকসুতে তারা ভিপি ও অন্য একটি পদ ছাড়া সব পদে জয়লাভ করেছে। আর ১৮টি হল সংসদের ১২ টিতে ভিপি ও ১৪টিতে জিএস পদসহ বিজয়ী হয়েছে। ছাত্রলীগের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের হয়েছে নিদারুণ পরাজয়। তাদের প্রার্থীদের কারো প্রাপ্ত ভোটসংখ্যা তিন অঙ্কের কোটা পেরোতে পারেনি। ৪০ বছর বয়সী একটি ছাত্র সংগঠনের এমন মর্মান্তিক পরাজয় বিস্ময়কর বটে! এ থেকে প্রমাণ হয়ে গেল যে, ছাত্রদল তার যৌবন খুঁইয়ে বসে আছে। একসময়ের জনপ্রিয় এ ছাত্র সংগঠনটির এমন করুণ হাল কেন হলো তা নিয়ে নানাজন নানা মন্তব্য করছেন। অবশ্য সংগঠনটির পক্ষ থেকে দীর্ঘ ১০ বছর ক্যাম্পাসে ঢুকতে না পারা, ভোটের দিন তাদের প্রার্থী ও সমর্থকদের বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় ঢুকতে না দেয়া, ভোট দিতে বাধা দেয়া ইত্যাদি অভিযোগ করা হয়েছে। এসব অভিযোগ গ্রহণযোগ্য বলে বিবেচিত হতো, যদি নির্বাচনে সংগঠনটি সামান্যতম প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে তুলতে পারত। যেখানে নির্বাচিত ভিপি-জিএসের প্রাপ্ত ভোট সংখ্যা ১০ হাজারের ওপরে, সেখানে ছাত্রদলের প্রার্থীদের প্রাপ্ত ভোটসংখ্যা যথাক্রমে ২৪৫ ও ৪৬২। এমন কি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রীহলগুলোতে তারা কোনো প্যানেলই দিতে পারেনি। এরপরও ছাত্রদল ও বিএনপি নেতাদের ডাকসু নির্বাচনে অনিয়ম-কারচুপির অভিযোগ তোলা নিতান্তই হাস্যকর। তবে, ভোটেরদিন কিছু অনিয়মের খবর এসেছে গণমাধ্যমগুলোতে। যেগুলো কাঙ্ক্ষিত ছিল না। বিচ্ছিন্ন ওই ঘটনাগুলো বাদ দিলে ডাকসু নির্বাচন শান্তিপূর্ণভাবেই অনুষ্ঠিত হয়েছে বলা যায়। ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার ঘণ্টাখানেক আগে ছাত্রদলসহ ছয়টি প্যানেল কারচুপির অভিযোগ এনে নিবাচন বর্জনের ঘোষণা দিলেওভিপি প্রার্থী নুরুল হক নুর ভিপি নির্বাচিত হয়েছে। তার এ বিজয়ের ফলে নির্বাচন নিয়ে ছাত্র সংগঠনগুলোর অভিযোগ ভিত্তিহীন প্রমাণিত হয়েছে। তা ছাড়া একটি ছাত্রী হলে পুরো প্যানেলই বিজয়ী হয়েছে স্বতন্ত্র প্রার্থীরা। এ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় অঙ্গনে নতুন শক্তির অভ্যুদয় হলো কি না এ প্রশ্ন উঠেছে। ছাত্রলীগের বিপরীতে এতদিন ছাত্রদলকেই সবাই সবচেয়ে বড় প্রতিদ্বন্দ্বী সংগঠন বলে মনে করতেন। কিন্তু গত ১০ বছরে নানা কারণে সংগঠনটির এখন নাজুক অবস্থা। তাদের সাংগঠনিক তৎপরতা এখন বক্তৃতা-বিবৃতিতেই সীমাবদ্ধ। বিশ্ববিদ্যালয়ে নেতৃত্ব দেয়ার মতো তেমন কোনো প্রভাব সৃষ্টিকারী নেতা সংগঠনটির নেই। এখন যারা সংগঠনটির নেতৃত্ব দিচ্ছে তাদের বেশির ভাগই বয়স্ক এবং অছাত্র। ফলে কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীদের কাছে ছাত্রদল কোনো ইতিবাচক ভাবমূর্তি নিয়ে দাঁড়াতে পারছে না। এ ছাড়া অন্যান্য যেসব ছাত্র সংগঠন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে রয়েছে, তারাও সাংগঠনিকভাবে শক্তিশালী নয়। ফলে ছাত্রলীগের প্রতিদ্বন্দ্বী ছাত্র সংগঠনের যে শূন্যতা বিরাজ করছে, সাধারণ শিক্ষার্থী অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ তা পূরণ করতে পারবে কি না সে ভাবনা দেখা দিয়েছে। অবশ্য সবকিছু নির্ভর করছে নির্বাচিত ভিপির পরবর্তী কার্যক্রমের ওপর। নির্বাচন নিয়ে বিতর্ক থাকবেই। এসব অহেতুক বিতর্ককে উপেক্ষা করে বিশ্বাবদ্যালয়ের শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ ও শিক্ষার্থীদের নিরুপদ্রব সহাবস্থানের বিষয়টি নিশ্চিত করাই এখন নবনির্বাচিত ডাকসুর দায়িত্ব। ডাকসু নেতৃবৃন্দ সে দায়িত্ব আন্তরিকতা ও বিশ্বস্ততার সাথে পালন করবে- এ বিশ্বাস আমাদের আছে। এ ক্ষেত্রে ছাত্রলীগের সদিচ্ছার ওপর তা অনেকাংশে নির্ভর করছে। কেননা, ভিন্ন প্যানেল থেকে ভিপি নির্বাচিত হলেও ডাকসুর নেতৃত্ব এখন ছাত্রলীগের হাতেই। ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ রক্ষায় তাদের দায়িত্ব আরো বেড়ে গেছে। আমরা ডাকসুর নবনির্বাচিত নেতৃবৃন্দকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানাই। সেই সাথে তাদের অব্যাহত সাফল্য কামনা করি।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত