শিরোনাম

গোটা মাঠই সরে যায় যে স্টেডিয়ামে!

আমার সংবাদ ডেস্ক  |  ১৯:০৪, নভেম্বর ১৩, ২০১৭

স্টেডিয়াম এক, কিন্তু মাঠে কখনো ফুটবল, কখনো অ্যামেরিকান ফুটবল অথবা পপ কনসার্ট অনুষ্ঠিত হয়। ছাদ ও মাঠ, দুটি অংশই প্রয়োজনমতো নাড়াচাড়া করা যায়। জার্মানির আধুনিক এক স্টেডিয়ামে অভিনব এই প্রযুক্তি প্রয়োগ করা হচ্ছে। ডর্টমুন্ড শহরে জার্মানির সবচেয়ে বড় স্টেডিয়ামে কৃত্রিম উপায়ে ঘাসে রোদ ফেলা হচ্ছে। শালকে ক্লাবের স্টেডিয়ামে গোটা মাঠই নড়াচড়া করা যায়। সেই স্টেডিয়ামে ফুটবল ছাড়াও অনেক অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়।

ইউরোপের সবচেয়ে আধুনিক স্টেডিয়ামে অন্যান্য খেলার ম্যাচ ও পপ কনসার্টও অনুষ্ঠিত হয়। প্রযুক্তি বিষয়ক প্রধান উলরিশ ডারগেল বলেন, বৃহস্পতিবার একটি অনুষ্ঠান ছিল। মার্কিন গায়ক ব্রুস স্প্রিংস্টিন ৬০ হাজার মানুষের সামনে গান গেয়েছেন। শনিবার ছিল বায়ার্ন মিউনিখ ক্লাবের বিরুদ্ধে ম্যাচ। গত রোববার রাইনফায়ার ক্লাবের অ্যামেরিকান ফুটবল ম্যাচ হয়েছে। অর্থাৎ এক সপ্তাহের মধ্যে ১ লক্ষ ৬০ হাজার মানুষ এখানে তিন-তিনটি ভিন্ন অনুষ্ঠান দেখেছেন।

গোটা বিশ্বে কোনো স্টেডিয়ামে এমন অভিনব ছাদ নেই। আবহাওয়া খারাপ হলে ফাইবার গ্লাসের তৈরি স্বচ্ছ অংশ দুদিক থেকে স্টেডিয়াম ঢেকে দেয়। ছাদ খুলতে সময় লাগে আধ ঘণ্টা। ৪,০০০ বর্গ মিটারের ছাদের দুই অংশের সম্মিলিত ওজন প্রায় ২,০০০ টন। উলরিশ ডারগেল বলেন, তার উপর এই ছাদ রিট্র্যাক্টেবল। রবি উইলিয়ামস-এর মতো সংগীতশিল্পী এই স্টেডিয়ামে এলে আমরা ছাদ বন্ধ রাখতে পারি। তখন যন্ত্রপাতি ও সাজ-সরঞ্জাম সৃষ্টি থেকে রক্ষা পায়। দর্শকরাও রোদের তাপ টের পান না।

মাঠের বৈশিষ্ট্যও নির্মাতাদের গর্বের কারণ। বেকিং ট্রে-র মতো গোটা মাঠও সরিয়ে ফেলা যায়। নির্বিঘ্নে নাড়াচাড়া করতে সিমেন্টের মেঝের উপর টেফলন মোড়া স্টিল রেল বসানো হয়েছে। তার উপর ঘাস বসানো বিশাল পাত নড়াচড়া করা যায়। সুইচ টিপে হাইড্রলিক পদ্ধতিতে থামগুলি মেলা ধরা বা গুটিয়ে নেওয়া যায়।

হাইড্রলিক পদ্ধতিতেই ঘাস বসানো পাত ধীরে ধীরে তার গন্তব্যে ঠেলে দেওয়া হয়। উলরিশ ডারগেল বলেন, চারটি হাইড্রলিক ড্রাইভের সাহায্যে প্রায় ১১ হাজার টন ওজনের ঘাস বসানো পাত সাড়ে তিন ঘণ্টার মধ্যেই স্টেডিয়ামে নির্দিষ্ট জায়গায় বসানো হয়। তারপর তার উপর ফুটবল খেলা হয়। যখন কনসার্টের আয়োজন করা হয়, তখন হাইড্রলিক ড্রাইভের সাহায্যে ঘাস বসানো পাত বাইরে পাঠিয়ে দেওয়া হয়।
গোটা প্রক্রিয়াটা অনেকটা শুঁয়োপোকার চলার মতো। ৮ টন ওজনের ড্রাইভের ৪টি হাইড্রলিক সিলিন্ডার গোটা মাঠটিকে কার্যত উপড়ে নিয়ে ৭৫ সেন্টিমিটার পদক্ষেপে ঠেলে নিয়ে চলে। মোট ১৮০ মিটার দূরত্বে চূড়ান্ত অবস্থান পর্যন্ত এভাবে মাঠ সরিয়ে ফেলা হয়।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত