শিরোনাম

নানা ধরণের জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতিসমূহ

আমার সংবাদ ডেস্ক  |  ১৭:৩১, অক্টোবর ১৮, ২০১৮

জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি পুরুষ ও মহিলা যে কেউ গ্রহণ করতে পারে। জন্ম নিয়ন্ত্রণের সবচেয়ে কার্যকর পদ্ধতি হলো, পুরুষদের ক্ষেত্রে ভেসেকটমি পদ্ধতি আর নারীদের ক্ষেত্রে টিউবাল বন্ধ্যাকরণ পদ্ধতি। ভেসেকটমি পদ্ধতিতে সফলতার হার ৯৯.৮৫% ও নারীদের ক্ষেত্রে টিউবাল বন্ধ্যাকরণ পদ্ধতির সফলতার হার ৯৯.৫%।

বাংলাদেশে জন্মনিয়ন্ত্রণ সেবাসমূহ হলো
*কনডম *খাবার বড়ি *আইইউসিডি *ডিপো প্রোভেরা *নরপ্লান্ট *টিউবাল লাইগেশন *ভ্যাসেক্টমি *আচরণগত পদ্ধতি (অসম্পূর্ণ মিলন) *প্রাকৃতিক পদ্ধতি (দিনপঞ্জিকা পদ্ধতি)।

বাংলাদেশে নিম্নহারে জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি ব্যবহারের কারণ
*প্রেরণার অভাব* সরবরাহের অপ্রতুলতা *ধর্মীয় বাধা *অজ্ঞতা *দুর্বল সরকারি নীতিমালা।

সেবা প্রদান:কমিউনিটি পর্যায়ে (গ্রাম ও ইউনিয়ন পর্যায়ে) পরিবার পরিকল্পনা সেবা নিম্নলিখিত ব্যক্তিবর্গের দ্বারা প্রদেয়-
*পরিবার কল্যাণ সহকারী *পরিবার পরিকল্পনা সহকারী *পরিবার পরিকল্পনা পরিদর্শক, থানা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স উন্নততর পরিবার পরিকল্পনা সেবা (যেমন বন্ধ্যাকরণ) প্রদান করে থাকে। সরকারের পাশাপাশি কিছু কিছু বেসরকারি সংস্থাও গ্রামাঞ্চলে এবং শহরাঞ্চলে এই সেবা প্রদান করে যাচ্ছে।

আদর্শ জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতিসমূহে নিম্নোক্ত সুবিধাগুলো থাকা প্রয়োজন-
*পুরোপুরি কার্যকর হবে* নির্ভরযোগ্য এবং কোনো ধরনের পার্শ্ব-প্রতিক্রিয়াহীন *সর্বসাধারণ দ্বারা গৃহীত *স্বল্পমূল্য হওয়া উচিত এবং সহজলভ্য হওয়া উচিত *সহজে ব্যবহারযোগ্য *স্বাস্থ্যকর্মী বা হাসপাতাল নির্ভরতা যত কম হবে তত ভালো

নিম্নে পরিবার পরিকল্পনার কিছু পদ্ধতি
*কনডম * নরপ্ল্যান্ট* হরমোন ইনজেকশন* ভ্যাসেকটমি* লাইগেশন* প্রাকৃতিক উপায়ে জন্মনিয়ন্ত্রণ * যে সব উপকরণ বা যার মাধ্যমে গর্ভ সঞ্চারে বাধা প্রদান করা যায়, সেই সব উপকরণ বা মাধ্যমকে জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি বলে। নারী ও পুরুষের ব্যবহারের জন্য বিভিন্ন প্রকার জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি রয়েছে।

জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতির প্রকারভেদ
জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতিগুলোকে প্রধানত: দুই ভাগে ভাগ করা যায়। যথা:
ক.সনাতন পদ্ধতি
খ.আধুনিক পদ্ধতি

ক.সনাতন পদ্ধতি
যে পদ্ধতি পরিবারের সদস্য সংখ্যা নিয়ন্ত্রণে ঐতিহ্যগতভাবে সমাজে প্রচলিত আছে সেগুলোকে সনাতন পদ্ধতি বলে। যেমন:
* প্রত্যাহার: স্বামীর বীর্য বাইরে ফেলা
* বাচ্চাকে বুকের দুধ খাওয়ানো
* নিরাপদকাল মেনে চলা
* নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত সহবাস থেকে বিরত থাকা বা আত্মসংযম

খ.আধুনিক পদ্ধতি:
আধুনিক পদ্ধতিকে আবার দুই ভাগে ভাগ করা যায়। যেমন:
*নন-ক্লিনিক্যাল এবং
*ক্লিনিক্যাল পদ্ধতি।

১.নন-ক্লিনিক্যাল:
যে পদ্ধতিগুলো অন্যের সাহায্য ছাড়া নারী-পুরুষ নিজেই ব্যবহার করতে পারে সেগুলোকে নন-ক্লিনিক্যাল পদ্ধতি বলে। যেমন:
* খাবারবড়ি
* কনডম

২.ক্লিনিক্যাল:
যে পদ্ধতিগুলো ব্যবহারের জন্য নারী-পুরষকে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত সেবাদানকারীর সাহায্য নিতে হয় সেগুলোকে ক্লিনিক্যাল পদ্ধতি বলে। যেমন: অস্থায়ী পদ্ধতি এবং স্থায়ী পদ্ধতি।

অস্থায়ী পদ্ধতি
* ইনজেকশন* আই.ইউ.ডি * নরপ্ল্যান্ট

স্থায়ীপদ্ধতি
* পুরুষ বন্ধ্যাকরণ ভ্যাসেকটমি * নারী বন্ধ্যাকরণ টিউবেকটমি বা লাইগেশন

খাবার বড়ির প্রকার, মাত্রা, কার্যপদ্ধতি এবং সুবিধা, অসুবিধা
জন্মনিয়ন্ত্রণের জন্য বিভিন্ন প্রকারের খাবার বড়ি পাওয়া যায়। যেমন: নরকোয়েস্ট, ওভাস্ট্যাট, ওভাকন, মারভেলন, সি-৫, সুখী। প্রত্যেক প্রকার বড়িতে হরমোনের মাত্রার পার্থক্য থাকতে পারে।

কার্যপদ্ধতি
ডিম্বাশয়ের ডিম্বকে পরিপক্ব হতে ও বের হতে বাধা দেয়।

সুবিধা
* সাফল্যের হার বেশি* অনাকাক্সিক্ষত গর্ভসঞ্চার খুবই কম হয়* অতিরিক্ত সতর্কতা ছাড়া যৌন সহবাস করা যায় * মাসিক নিয়মিত হয়
* মাসিকের রক্তস্রা কম হয়। মাসিকের ব্যথা থাকলে তা কমে যায়* নিয়মিত বড়ি খাওয়ার ফলে অনেক মহিলার স্বাস্থ্য ভালো হয়* আয়রন বড়ির জন্য রক্তস্বল্পতা কম হয়* ডিম্বাশয় ও জরাযু ঝিল্লিতে ক্যান্সারের ঝুঁকি কমায়। পি.আই.ডি (পেলভিসেরসংক্রমণ) কম হয়* বড়ি খাওয়া বন্ধ করলে গর্ভধারণ করা যায়।

অসুবিধা
* প্রতিদিন মনে করে খেতে হয়* যারা ধূমপান করে তাদের বেশি জটিলতা দেখা দেয় * টিউমার বা জন্ডিস থাকলে ব্যবহার করা যাবে না। মাসিকের পরিবর্তন ঘটতে পারে * ওজন বেড়ে যেতে পারে * মেজাজ খিটখিটে হয় * পদ্ধতি বন্ধ করে দেয়ার পর গর্ভধারণে দেরি হতে পারে
* এইচআইভি/এইডস প্রতিরোধ করার ক্ষেত্রে কোনো ভূমিকা নাই

কার্যকারিতা
*সাফল্যের হার বেশি, অনাকাক্সিক্ষত গর্ভসঞ্চার খুবই কম হয়। *কনডমের কার্য পদ্ধতি, সুবিধা, অসুবিধা এবং কার্যকারিতা *কনডম রাবারের দ্বারা তৈরি চোঙ্গার মতো যার একদিক খোলা এবং একদিক বন্ধ বোঁটার মতো। *এটি পুরুষের যৌনাঙ্গে পরতে হয়। *বিভিন্ন নামে কনডম পাওয়া যায়। যেমন রাজা, সুলতান, প্যান্থার, ম্যাজিস্টিক, সেনসেশন।

কার্যপদ্ধতি
সহবাসের সময় পুরুষাঙ্গে কনডম ব্যবহারের ফলে শুক্রকীট নারীর জরায়ুতে প্রবেশ করতে পারে না। ফলে শুক্রকীট ডিম্বাণুর সংস্পর্শে আসতে পারে না বলে নারী গর্ভবতী হয় না।

সুবিধা
*যে কোনো পুরুষ ব্যবহার করতে পারে *কোনো ডাক্তারের সহযোগিতা লাগে না *কনডম বেশ সস্তা এবং সব জায়গায় কিনতে পাওয়া যায়
*এইচআইভি/এইডসসহ নানা রকম যৌন রোগের হাত থেকে রক্ষা পাওয়া যায়*যৌন সহবাস দীর্ঘায়িত হয় *জন্মনিয়ন্ত্রণে পুরুষকে অংশগ্রহণের সুযোগ দেয়।

অসুবিধা
*প্রত্যেকবার সহবাসে ব্যবহার করতে হয় *দু'জন সঙ্গীরই যথেষ্ট সহযোগিতা থাকা দরকার

কার্যকারিতা
*প্রতিবার সঠিক নিয়মে কনডম ব্যবহার করলে ৮৮% পর্যন্ত কার্যকর হয়। শুক্র কীটনাশক ফেনা বড়ির সঙ্গে ব্যবহার করলে প্রায় ৯৯% পর্যন্ত কার্যকর হতে পারে।

ইনজেকশনের কার্যপদ্ধতি, সুবিধা, অসুবিধা ও কার্যকারিতা
*ইনজেকশন ২ প্রকার-উগচঅ সাদা রং এর দ্রবীভূত জলীয় পদার্থ, ১ ডোজ ১ টিভায়েলে থাকে।

কার্যপদ্ধতি
*জরায়ুর মুখে শ্লেষ্মা তৈরি করে ফলে পুরুষের শুক্রকীট জরাযুতে ঢুকতে পারে না *ডিম্বাশয়ের ডিম্বকে পরিপক্ব হতেও বের হতে বাধা দেয় *জরায়ুর ভেতরের গায়ে ঝিল্লির পরিবর্তন করে, ফলে ডিম্ব জরায়ুতে বসতে পারে না

সুবিধা
*নিরাপদ ও কার্যকর পদ্ধতি *ব্যবহার বিধি সহজ (৩ মাসের জন্য) *রক্ত জমাট বাধার সমস্যা দেখা যায় না *সহবাসের সঙ্গে সম্পর্ক নাই
*গোপনীয়তা রক্ষা করে নেয়া যায় *বন্ধ করলে গর্ভধারণ করা যায় *প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত স্বাস্থ্যকর্মী দিতে পারে *শিশুকে বুকের দুধ খাওয়ানো মা হলেও নেয়া যায়

অসুবিধা
*অনেকের ইনজেকশন নেয়ার ক্ষেত্রে ভয় থাকে *নিজে নেয়া যায় না।

কার্যকারিতা
*অত্যন্ত কার্যকরী প্রায় ১০০% এবং নিরাপদ জন্মনিরোধক পদ্ধতি। *আইইউডি বা কপারটির সুবিধা, অসুবিধা ও কার্যকারিতা
আইইউডি জরায়ুর ভেতরে ব্যবহারের জন্য একটি জিনিস যা জন্মনিয়ন্ত্রণ করে। *অনেক উন্নত ধরনের আইইউডি পদ্ধতি আবিষ্কার হয়েছে। বর্তমানে কপারটি সবচেয়ে জনপ্রিয় পদ্ধতি।

সুবিধা
*ব্যবহার করা সহজ।*প্রতিদিন মনে করতে হয় না।*যৌন সঙ্গমে বাধা সৃষ্টি করে না।*বুকের দুধ কমে না।*যেকোনো সময় খুলে ফেলা যায়।*খুলে ফেলার পর গর্ভধারণের ক্ষমতা ফিরে আসে।*কম খরচে বহু দিন জন্মনিরোধ করা যায়।

খুব বেশি কার্যকরী (৯৪-৯৮%) একটি সহজ ও দীর্ঘমেয়াদি অস্থায়ী পদ্ধতি। নরপ্ল্যান্টের কার্যপদ্ধতি, সুবিধা, অসুবিধা, কার্যকারিতা বর্তমানে একপ্রকার ৬টি ক্যাপসুলে ১ ডোজ পাওয়া যায়।

কার্যপদ্ধতি
এই পদ্ধতিতে ছয়টি ছোট ছোট নরম চিকন ক্যাপসুল (দেয়াশলাইয়ের কাঠির চেয়ে ছোট) মহিলাদের হাতের কনুইয়ের ওপরে ভেতরের দিকে চামড়ার নিচে ঢুকিয়ে দেয়া হয়।

সুবিধা
*পদ্ধতিটি ৫ বছরের জন্য কার্যকর। *পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া কম। *যেকোনো সময় ডাক্তারের কাছে গিয়ে খোলা যায়।

অসুবিধা
*নিয়মিত মাসিক না হওয়া বা অনেক দিন বন্ধ থাকে। *মাসিক বন্ধ হলে গর্ভসঞ্চার হয়েছে কিনা তা নিশ্চিত হতে হবে। *মাসিকের সময় রক্তস্রাব বেশি হতে পারে। *দুই মাসিকের মধ্যবর্তী সময়ে ফোঁটাফোঁটা রক্তস্রাব হতে পারে।*মাথাব্যথা।*ওজন বেড়ে যাওয়া।*ন বিষণ্ন থাকা। *মুখে বা শরীরে মেছতার দাগ থাকলে বেড়ে যেতে পারে এবং মুখে লোম দেখা দিতে পারে।

পুরুষ বন্ধ্যাকরণ বা ভ্যাসেকটমির সুবিধা, অসুবিধা ও কার্যকারিতা
ভ্যাসেকটমি বা পুরুষ বন্ধ্যাকরণ পুরুষদের জন্মনিয়ন্ত্রণের স্থায়ীপদ্ধতি। এতে শুক্রকীটবাহী নালী দুটির কিছু অংশ বেঁধে কেটে দেয়া হয়।

সুবিধা
*অনিচ্ছাকৃত গর্ভধারণের ভয় না থাকায় সহবাসে আনন্দ বাড়ার সম্ভাবনা থাকে। *তেমন কোনো পার্শ্ব-প্রতিক্রিয়া নেই। *আর কোনো পদ্ধতি গ্রহণের ঝামেলা থাকে না।
অসুবিধা: যেহেতু স্থায়ীপদ্ধতি পরবর্তীতে সন্তান চাইলেও তা প্রায় অসম্ভব।

কার্যকারিতা
*স্থায়ী জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি। প্রায় ১০০% কার্যকর।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত