শিরোনাম

যেসব পেশায় ক্যান্সারের ঝুঁকি অনেক বেশি

আমার সংবাদ ডেস্ক  |  ১১:৪২, আগস্ট ০৯, ২০১৮

কখন কার ক্যান্সার হবে, এটা নিশ্চিত করে বলা যায় না। নিতান্ত সুস্থ-সবল মানুষও ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে পড়ছেন আজকাল। কিন্তু কিছু কিছু কাজ ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ায়। যেমন শরীরচর্চায় অবহেলা, ধূমপান, অস্বাস্থ্যকর খাদ্যভ্যাস ইত্যাদি। এর পাশাপাশি আপনার পেশাও কিন্তু ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ায়। এই পেশাগুলোর মানুষের ক্যান্সারের ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি:

*ফ্লাইট অ্যাটেন্ডেন্ট ও পাইলট: বিমানে নিয়মিত কাজ করেন এমন ব্যক্তি, তথা ফ্লাইট অ্যাটেন্ডেন্ট, এয়ার হোস্টেস, কেবিন ক্রু এবং পাইলটের ক্যান্সারের ঝুঁকি বেশি হয়। এর কারণ হলো, মাটি থেকে এতটা ওপরে তারা নিয়মিত সময় কাটান, এসময়ে তাদেরকে বেশি পরিমাণে তেজস্ক্রিয়তার সংস্পর্শে থাকতে হয়। এতে ব্রেস্ট, সারভিক্স, ইউটেরাস, থাইরয়েড, ইসোফ্যাগাস, কোলন, স্টমাক, লিভার এবং প্যানক্রিয়াস ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ে। ফ্লাইট অ্যাটেন্ডেন্ট নারীদের মাঝে অন্য পেশার নারীদের তুলনায় ব্রেস্ট ক্যান্সারের ঝুঁকি প্রায় ৫০ শতাংশ বেশি, আর স্কিন ক্যান্সারের ঝুঁকি চারগুণ বেশি। শুধু তাই নয়, ককপিটে থাকা পাইলটের ক্যান্সারের ঝুঁকি অন্যদের চেয়েও বেশি। স্কিন ক্যান্সারের ঝুঁকি এড়াতে তাদের উচিৎ নিয়মিত সানস্ক্রিন ব্যবহার করা।

*ঝালাই কর্মী: উচ্চ তাপমাত্রায় ধাতু ঝালাই করা খুবই বিপজ্জনক। এ সময়ে তেজস্ক্রিয়তা ও অ্যাসবেস্টসের সংস্পর্শ এবং ওয়েল্ডিং থেকে ওঠা ধোঁয়া ক্যান্সারের জন্য দায়ী। এতে লাং ল্যান্সার, কিডনি ক্যান্সার এবং চোখের মেলানোমা হতে পারে। এছাড়া লিভার ও কিডনিতে অন্যান্য রোগও দেখা দিতে পারে।

*যেকোনো ডেস্ক জব: সারাদিন বসে বসে যে কোনো কাজ করাই কোলন এবং জরায়ুর ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। এসব ক্যান্সারের ঝুঁকি কমাতে একটানা বসে কাজ না করে ঘন ঘন সিট থেকে উঠে হাঁটা উচিৎ।

*ম্যানিকিউরিস্ট ও হেয়ার ড্রেসার: পার্লারে গিয়ে নখে সুন্দর করে নেইলপলিশ দেন অনেকে। যে ব্যক্তি এই নেইলপলিশ দিয়ে দিচ্ছেন, তার স্বাস্থ্য ঝুঁকি অনেক বেশি। কারণ তিনি সারাদিন অনেকের নখে নেইলপলিশ দিচ্ছেন। এতে তাদের ত্বক এবং নাকমুখ দিয়ে ক্রমাগত রাসায়নিক প্রবেশ করছে। এতে ক্যান্সারের পাশাপাশি আরও অনেক স্বাস্থ্য সমস্যা হতে পারে। একইভাবে যারা চুলে রঙ করিয়ে দেন তাদের হেয়ার ডাই থেকে ক্ষতিকর রাসায়নিক প্রবেশ করে শরীরে। তাদের উচিত্‍ সবসময় ফুলহাতা পোশাক, গ্লাভস এবং মাস্ক পরা। নিয়মিত হাত ধোয়া উচিত্‍ এবং কাজের জায়গাটিতে বাতাস চলাচল ভালো থাকা উচিৎ।

*কৃষক: খাবারে কীটনাশক বা রাসায়নিক আছে কিনা, এ নিয়ে আপনি চিন্তিত। কিন্তু এসব রাসায়নিক আপনার চেয়েও বেশি কৃষকের ক্ষতি করছে। তারাই ক্ষেতে সারা ও কীটনাশক দেন। তারা নিজেদের নিরাপত্তার ব্যাপারে খুব একটা সতর্ক থাকেন না। ফলে কিছু ক্যান্সার তাদেরই বেশি হয়। যেমন লিউকেমিয়া, নন-হজকিনস লিম্ফোমা, মাল্টিপল মায়েলোমা, সারকোমা, স্টমাক, ব্রেইন, প্রস্টেট এবং স্কিন ক্যান্সার।

*দমকল কর্মী: দমকল কর্মীদের নিয়মিতই আগুন, ধোঁয়া এবং বিল্ডিংয়ের ধুলোবালির মাঝে কাজ করতে হয়। এসব পুড়ে বিষাক্ত ধোঁয়া তৈরি করে। এই ধোঁয়ায় নিশ্বাস নেবার কারনেই তাদের ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ে।

*রাতের শিফটে যে কোনো কাজ: রাতে কাজ করলে আমাদের শরীরের স্বাভাবিক ঘুমের চক্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এর কারণেও বাড়ে ক্যান্সারের ঝুঁকি।
খনি শ্রমিক:- খনিতে কাজ করা এমনিতেই বিপজ্জনক। যে কোনো সময়ে ধস নেমে মাটি চাপা পড়তে পারেন কর্মীরা। কিন্তু এখানে তারা ক্যান্সার-সৃষ্টিকারী পদার্থের সংস্পর্শেও আসেন বেশি। যেমন অ্যাসবেস্টস, ইউরেনিয়াম এবং রেডন। এছাড়া ড্রিলিং মেশিন থেকে আসা ডিজেলের ধোঁয়া থেকেও লাং ক্যান্সার হতে পারে।

*নির্মাণ কর্মী: ছাদ এবং সড়ক নির্মাণে উতপ্ত পিচ বা টার ব্যবহার করার কারণে নির্মান শ্রমিকদের ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ে। যারা গ্লাভস পরেন না এবং ত্বক পুড়ে যায়, তাদের ক্যান্সারের ঝুঁকি আরও বাড়ে।

*ল্যাব টেকনিশিয়ান: ল্যাবরেটরিতে কাজ করলে, বিশেষ করে বেনজিন নিয়ে কাজ করলে নারীদের ব্রেস্ট ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ে। একইভাবে কিছু ফ্যাক্টরি কর্মী এবং হাউজ ক্লিনারদেরও ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত