শিরোনাম

দাঁতে ক্যাপ লাগিয়েছেন?

আমার সংবাদ ডেস্ক  |  ১৯:৪০, অক্টোবর ১২, ২০১৭

ডেন্টাল ক্রাউন বা ক্যাপ সম্পর্কে আমাদের কিছুটা ধারণা হয়তো রয়েছে। ত্রুটিপূর্ণ দাঁতকে তার স্বাভাবিক কার্যক্রমে রাখার জন্য চিকিৎসকরা ক্যাপ ব্যবহারের পরামর্শ দেন।সাধারণত দাঁতে প্রদাহজনিত রোগ হলে সেই দাঁতে রুট ক্যানেল করার পর দাঁতটি যেন স্বাভাবিক থাকে এবং পুনরায় যেন ভেঙে না যায়, সে জন্য দাঁতটিতে ক্যাপ লাগানো অপরিহার্য হয়ে পড়ে। এ ছাড়া বিভিন্ন আঘাতের কারণে দাঁত ভেঙে গেলে বা ফেটে গেলে অথবা দাঁতের রং কালো হয়ে গেলে ক্যাপ লাগানো জরুরি হয়ে পড়ে।

ক্যাপের রং দাঁতের রঙের সঙ্গে মিল থাকার কারণে মুখের সৌন্দর্য অটুট থাকে। এই কারণেই বাংলাদেশসহ অনেক দেশেই এটি বেশ জনপ্রিয়। তবে এই ক্যাপ লাগানোর প্রক্রিয়া এতটা সোজা নয়। বেশির ভাগ সময়ই ক্যাপ লাগানোর পর বিভিন্ন জটিলতা দেখা দেয়। এর মধ্যে ব্যথা সাধারণ অভিযোগ। রুট ক্যানেল সঠিকভাবে সম্পন্ন না হওয়া এর অন্যতম কারণ হিসেবে মনে করা হয়।

ক্যাপ দাঁতটিকে কেটে সেপ করার সময় অসচেতন বা অনিচ্ছাকৃতভাবে পাশের দাঁতের আঘাত পায়, এই জন্য দাঁত দুটিতে শিরশির অনুভূতি হতে পারে। অনেক সময় এখান থেকে ডেন্টাল ক্যারিজ এবং পরে দাঁতে প্রদাহজনিত রোগ হতে পারে। অনেক সময় দাঁতকে এমনভাবে কাটা হয় যে সেটি নষ্ট হয়ে যায়। আবার ক্যাপটি লাগানোর জন্য যে উপাদান ব্যবহার করা হয়, তার মৌলিক গুণ কোনো কারণে নষ্ট হলে খুব সহজেই ক্যাপটি দাঁত থেকে খুলে যায়।

দাঁতের ক্যাপটি ধাতব পদার্থ দিয়ে তৈরি হয়। এতে পাশের দাঁতটিতে খাবার জমে থাকার প্রবণতা থাকে, সেখান থেকে দাঁত ও মাড়ির রোগ হওয়ার আশঙ্কা বাড়ে। অনেক সময় ক্যাপ লাগানো দাঁত মাড়ি থেকে সরে গিয়ে ধীরে ধীরে দাঁতের গোড়া বেড় হতে থাকে। এতে দাঁতের গোড়ার শক্তি কমে যায়। এক সময় দাঁতটি নড়তে থাকে এবং পড়ে যায়।

আধুনিক ক্যাপের উপরিভাগ পোরসেলিন দিয়ে তৈরি করা হয়। এটি দাঁতের রঙের সঙ্গে মিলিয়ে করা হয়। যদি কোনো কারণে সেটি ত্রুটিযুক্ত হয়, তাহলে ক্যাপের উপরিভাগটি আস্তে আস্তে ফেটে যেতে থাকে এবং ফাটা অংশটি ধারালো হওয়ার কারণে জিহ্বা বা মুখের ভেতরের অংশ আঘাতপ্রাপ্ত হতে পারে। এ থেকে আলসার হওয়ার আশঙ্কা থাকে।

সতর্কতা ও পরিচর্যা
দাঁতে ক্যাপ লাগানোর পর ওই দাঁতের বিশেষ যত্ন নিন। দাঁত ব্রাশের সময় মাড়ি ম্যাসাজ করুন। এতে মাড়ি ভালো থাকবে, দাঁতের গোড়া ভালো থাকবে। দুই দাঁতের মাঝখানে ডেন্টাল ফ্লস ব্যবহার করুন। এতে দাঁতের মাঝখানে খাবার কম জমবে, ডেন্টাল ক্যারিস, দাঁত বা মাড়ির প্রদাহজনিত রোগ কম হবে।

প্রতিদিন একবার লবণ গরম পানি দিয়ে কুলি করুন। এতে খাবারের অবশিষ্ট কণা বের হয়ে যাবে, দাঁত ও মাড়ির রোগ অনেক কম হবে। ক্যাপ যদি কোনো কারণে খুলে যায়, আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। ক্যাপটি যত্ন করে রাখুন। কারণ, পুনরায় সেটি ব্যবহার সম্ভব। সমস্যা হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত