শিরোনাম

বস আমার ধারণা চুরি করে নিজের বলে চালিয়ে দেন

১২:১৭, জানুয়ারি ১১, ২০১৭

প্রশ্ন : আমি গত চার বছর ধরে একই চাকরিতে আছি। গত সেপ্টেম্বরে আমাদের একজন নতুন বস আসেন।

তিনি বস হয়েছেন নতুন যা তাকে দেখেই বুঝা যায়। আমার দেখা সবচেয়ে বেশি নিরাপত্তাহীনতায় ভোগা ম্যানেজার তিনি। তার শুধু দুটি কার্যপদ্ধতি আছে। একটি হলো “ভাই” পদ্ধতি। কাউকে দিয়ে কিছু করানোর দরকার হলে তিনি তাকে ভাই বলে সম্বোধন করেন। আরেকটি হলো সারক্ষণিক ব্যস্ততা পদ্ধতি। যখন তিনি নিজের কক্ষে থাকেন তখন তিনি এই পদ্ধতি অবলম্বন করেন। তিনি আসার পর আমাকে কয়েকটি প্রতিবেদন, শ্বেতপত্র এবং আরো কিছু বুদ্ধিবৃত্তিক সম্পদ সৃষ্টি করতে বলেন। তিনি আমাকে সিম্যুলেশন এবং মডেলও সৃষ্টি করতে বলেন। আর প্রায় প্রতিদিনই তিনি আমাকে নানা সমস্যার সমাধান করা যায় কীভাবে তা জিজ্ঞেস করতেন। আমিও তাকে আমার জানা সেরা উত্তরগুলোই দিই। তিনি আমার কাছে যা চেয়েছেন তার সবই আমি তাকে দিয়েছি। আর এ নিয়ে আমি দ্বিতীয়বার ভাবিনি। এরপর একদিন আমার এক সহকর্মী আমাকে বললেন, “আমাদের সাপ্তাহিক পণ্য বৈঠকে বস আমার ধারণাগুলোকেই তার নিজের চালিয়ে দিয়েছেন অবলীলায়।

গত সেপ্টেম্বর মাস থেকেই আমি একই কথা শুনে আসছি। আমার বস আমার সুনির্দিষ্ট ধারণাগুলো আমাদের ম্যানেজমেন্ট টিম এবং প্রোডাক্ট টিমের কাছে তার নিজের ধারণা বলে চালিয়ে দিচ্ছেন। আমি সব সময়ই শুনে এসেছি একটি ভালো ধারণা কোথা থেকে আসল তাতে কিছুই যায় আসে না। যদি তা বাস্তবায়িত হয় এবং ভালো ফল দেয়।
এই কথাটি মনে রাখার পরও তার এই আচরণ আমাকে পীড়া দিচ্ছে। কারণ আমি প্রচুর সময় ব্যয় করে মাথা খাটিয়ে কোনো সমস্যা সমাধানে একটি ধারণা বের করলাম আর আমার বস লোককে বললেন, “এটা আমার ধারণা”। অথচ তা সত্য নয়।
এমনকি আমার ধারণাগুলো ঠিক মতো না বুঝেই তিনি সেগুলো নিজের বলে চালিয়ে দিতে চান। আমার টিমমেট অ্যাঞ্জেলা আমাকে বলেন, একবার একটি প্রোডাক্ট মিটিংয়ে আমার বস আমার তৈরি করা একটি প্রস্তাবকে নিজের বলে চালিয়ে দেন। সেসময় অ্যাঞ্জেলা ওই প্রস্তাবটি আমার হাতে তৈরি করা বলে উল্লেখও করেন। কিন্তু আমার বস তাতে কান না নিয়ে প্রস্তাবটি নিয়ে কথা বলতে থাকেন।
অথচ আমার ওই প্রস্তাবটির একটি শব্দও তিনি ঠিকমতো বুঝতে পারেননি। কেউ একজন এ বিষয়ে তাকে একটি কৌশলগত প্রশ্ন করলে তিনি তাও এড়িয়ে যান।
গত সপ্তাহে আমাদের প্রধান কনফারেন্স রুমে একটি বৈঠকে আমি আমার একটি প্রতিবেদন দেখতে পাই। যা তিনি নিজের নামে চালিয়ে দিয়েছেন। ওই প্রতিবেদনের প্রতিটি শব্দ আমি লিখেছি এবং এর প্রতিটি গ্রাফ আমি তৈরি করেছি। এর উপাসংহারও আমার করা। এর লেখার স্টাইলটাও আমার। আমার বস শুধু তার নামটাই এতে বসিয়ে দিয়েছেন। যা দেখে আমি পীড়িত বোধ করি।

আমি বিশ্বাস করতে পারছি না আমার ম্যানেজার এতটা নিচে নামতে পারেন। যিনি তার কর্মীদের কাজের কৃতিত্ব চুরি করেন। এমনটাই করছেন আমার বস। আমি এখন কী করতে পারি?

উত্তর : প্রথমেই যে কথাটি বলা উচিৎ, “কোনো ভালো ধারণা কার মাথা থেকে আসল তাতে কিছু্ই যায় আসে না যদি সেটি বাস্তবায়িত হয় এবং ভালো ফল দেয়”, এই ধরনের ধারণা ঠিক নয়। বন্ধুরা মিলে কোথাও ঘুরতে যাওয়ার সময় এমনটা হতে পারে। কিন্তু বুদ্ধিবৃত্তিক এবং সৃজনশীল উৎপাদন অবশ্যই তার চেয়ে আলাদা। এগুলো আপনার প্রতিচ্ছবি। আপনার কাজই আপনার সৃষ্ট শিল্প!আপনার তৈরি করা শ্বেতপত্র এবং অন্যান্য “ধারণাপত্রগুলো” আপনার সৃষ্টি। আর আপনাকে সেগুলোর স্রষ্টা হিসেবে স্বীকৃতি দিতে হবে। সুতরাং আপনার বস আপনার সৃষ্ট ধারণাগুলোকে তার নিজের সৃষ্টি বলে চালিয়ে দিয়ে বিবেচনাহীনতা, অপেশাদারিত্ব, নীতিহীনতা এবং শিষ্টাচারবোধহীনতার প্রমাণ দিয়েছেন। আপনার সৃষ্টিগুলোর কিছু কিছু কোনো পেশাদার জার্নালে আপনার নামে প্রকাশিত হতেও পারত। আপনার সৃজনশীল উৎপাদনের সঙ্গে আপনার নামটি যুক্ত থাকাটা গুরুত্বপূর্ণ। সুতরাং, আপনার উচিৎ এখনই আপনার বসের এমন আচরণের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানো। আপনি যদি এখনই তাকে আপনার কাজের কৃতিত্ব চুরি করতে বাধা না দেন তাহলে তিনি তা অব্যাহত রাখবেন। হয় আপনি তাকে আপনার নিজের কাজের কৃতিত্ব চুরি করতে দেবেন না, আর নয়তো চাকরি ছেড়ে দেবেন। আপনি তাকে না থামালে তিনি থামবেন না। অথবা আপনি তার জন্য গাধার মতো খেটে যেতে পারেন। সুতরাং পরেরবার যখন তিনি আপনাকে কোনো কাজ করে দিতে বলবেন তখন আপনি তাকে সরাসরি বলুন যে, আপনার কাজগুলোতে আপনার নামের উল্লেখ করতে হবে। এতে তিনি হয়তো আপনার ওপর ক্ষুব্ধ হতে পারেন। কিন্তু আপনি যদি তার জন্য কাজ করে যেতে থাকেন তাহলে আপনি শুধু আরো পীড়িত এবং দুর্বল হতে থাকবেন। এরপরও যদি আপনার বস আপনাকে আপনার নিজের কাজের কৃতিত্ব দিতে অস্বীকৃতি জানান তাহলে আপনার উচিৎ চাকরিটি ছেড়ে দেওয়া। আপনার জায়গায় অন্য কেউ থাকলে ইতিমধ্যেই হয়তো তিনি নতুন চাকরি খোঁজা শুরু করে দিতেন। আর আপনার বসের পরিবর্তিত হওয়ার সম্ভাবনাও খুব কম। কারণ তার আসল স্বভাবটাই এমন। সুতরাং আপনার উচিৎ এখনই নতুন চাকরি খোঁজা শুরু করা।
আপনি যে পথটিই বেছে নেন না কেন তাতে আপনি আরো শক্তিশালি হবেন।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত