শিরোনাম

বন্যায় বৈদ্যুতিক দুর্ঘটনা রোধে যা করতে হবে

আমার সংবাদ ডেস্ক  |  ১২:৫২, জুলাই ১৭, ২০১৯

বন্যায় বৈদ্যুতিক দুর্ঘটনা প্রতিরোধে সাধারণ মানুষকে সতর্ক থাকতে পরামর্শ দিয়েছে পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড (আরইবি)।

মঙ্গলবার (১৬জুলাই) আরইবি থেকে প্রেরিত এক বার্তায় বৈদ্যুতিক সরঞ্জামাদি থেকে গ্রাহককে দূরে থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।

আরইবি বলছে, নিয়মিত মনিটরিং করা হচ্ছে। বন্যার কারণে এখন ৩৫০ কিলোমিটার লাইনে বিদ্যুত সরবরাহ বন্ধ রাখা হয়েছে। এতে ৩১ হাজার গ্রাহক বিদ্যুত বিচ্ছিন্ন রয়েছে।

আরইবি বলছে বৈদ্যুতিক খুঁটি এবং বৈদ্যুতিক সরঞ্জামাদি থেকে নিজে দূরে থাকার পাশাপাশি অন্যদেরও দূরে থাকার পরামর্শ দিতে হবে। গৃহপালিত জীবজন্তু যাতে বিদ্যুতের স্পর্শে না আসতে পারে সে ব্যাপারে সতর্ক থাকতে হবে।

বর্ষা এবং বন্যার কারণে পানির উচ্চতা বৃদ্ধি পেয়ে বৈদ্যুতিক তারের দূরত্ব কমে গিয়ে নৌকার ছই কিংবা লগি-বৈঠার সংস্পর্শে এসে দুর্ঘটনা ঘটতে পারে এ বিষয়ে সকলকে সতর্ক থাকতে হবে।

কোন মানুষ বৈদ্যুতিক তারে আটকে গেলে তাকে মুক্ত করার জন্য খালি হাতে স্পর্শ না করে শুকনো কাঠ বা বাঁশ ব্যবহার করা যেতে পারে। যথাশীঘ্র সম্ভব একজন ইলেকট্রিশিয়ানের সাহায্য গ্রহণ করার বিষয়ে আহ্বান জানানো হয়েছে।

এছাড়া কোন বৈদ্যুতিক খুঁটি হেলে পড়লে, তার ছিঁড়ে গেলে কিংবা কোন দুর্ঘটনা ঘটলে সঙ্গে সঙ্গে নিকটস্থ পল্লী বিদ্যুত অফিসকে অবহিত করার জন্য অনুরোধ জানানো হয় আরইবির বার্তায়।

আরইবি সূত্র বলছে, বন্যার কারণে সব থেকে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে উত্তরের কয়েকটি জেলা। এসব জেলার বিদ্যুত সরবরাহ আংশিক বন্ধ রাখা হয়েছে।

আরইবি বলছে, বন্যার কারণে কোন কোন এলাকার সাবস্টেশনও বন্ধ রাখতে হচ্ছে। এতে মানুষ বিদ্যুত পাচ্ছেন না। তবে বিদ্যুত সরবরাহ করলে দুর্ঘটনার আশঙ্কা থাকত। মানুষের প্রাণহানিরোধেই বিদ্যুত সরবরাহ বন্ধ রাখা হয়েছে।

সারাদেশে বিদ্যুত বিতরণ করতে গিয়ে আরইবি ব্যাপকভাবে লাইনের সম্প্রসারণ করেছে। কিন্তু মানুষের অতি ঘনত্বের কারণে সব ক্ষেত্রেই লাইন নির্মাণ হচ্ছে মানুষের বাড়ির ওপর এবং রাস্তার ওপর দিয়ে।

এসব জায়গা দিয়ে সাধারণত মানুষ চলাচল করেন। ফলে বিদ্যুতের কারণে দুর্ঘটনার আশঙ্কা তৈরি হয়। পানিতে ভিজে গেলে বৈদ্যুতিক খুঁটিও অনেক সময় বিদ্যুতায়িত হয়। যার সংস্পর্শে এলে ঘটতে পারে মারাত্মক দুর্ঘটনা।

আরইবি বলছে, দেশের ৯৩ ভাগ জনসাধারণ বিদ্যুত সুবিধা ভোগ করছে। এ বিপুল জনগোষ্ঠীকে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুত সরবরাহে আরইবি বদ্ধপরিকর। কিন্তু এখন দেশের সর্বত্র মাঝারি থেকে ভারি বৃষ্টিপাত এবং পাহাড়ী ঢলের কারণে নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে বন্যার প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। বৃষ্টির পানিতে পোল এবং বৈদ্যুতিক সরঞ্জামাদি ভিজে গিয়ে বিদ্যুত পরিবাহী হয়।

এসময় কোন মানুষ কিংবা গবাদি পশু বৈদ্যুতিক খুঁটি কিংবা অন্য সরঞ্জামাদির সংস্পর্শে এলে তড়িতাহত হয়ে দুর্ঘটনার শিকার হতে পারেন।

এমনকি এ সকল দুর্ঘটনায় মৃত্যুও ঘটতে পারে। এ পরিস্থিতি মোকাবেলায় ৫ ভাবে সতর্ক থাকার জন্য আরইবি অনুরোধ করেছে।

আরইবির এক কর্মকর্তা জানান, আমরা দুর্ঘটনা প্রতিরোধে নিয়মিত মনিটরিং করছি। কোথাও পানির উচ্চতা বেড়ে লাইনের কাছাকাছি এলে ওইসব লাইন বন্ধ রাখা হচ্ছে।

শনিবার থেকে গাইবান্ধা, কুড়িগ্রাম, ঠাকুরগাঁও, রংপুর-১ ও ২, বগুড়া-১ ও ২, দিনাজপুর-১ ও ২, টাঙ্গাইলের বন্যাকবলিত স্থানে বিদ্যুত সরবরাহ বন্ধ রাখা হয়েছে।

এসব এলাকায় ৩৫০ কিলোমিটার লাইন পুরোপুরি বিদ্যুত সরবরাহ বন্ধ রেখেছে স্থানীয় পল্লী বিদ্যুত সমিতি।

তবে বন্যা পরিস্থিতির সামান্য উন্নতি হওয়াতে কক্সবাজার, সুনামগঞ্জ এবং নেত্রকোনার বন্ধ লাইন মঙ্গলবার চালু হয়েছে।

আরইবি বলছে, বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হলে এসব লাইনে আবার বিদ্যুত সরবরাহ হবে।

সাময়িক বিতরণ সমস্যার জন্য গ্রাহকের কাছে দুঃখ প্রকাশ করেছে দেশের বিদ্যুত বিতরণকারী সব থেকে বড় এই সংস্থা।

এমএআই

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত