শিরোনাম

গরমে ডায়রিয়া হলে কী করবেন

আমার সংবাদ ডেস্ক  |  ২৩:৪৪, মে ১২, ২০১৯

সাধারণত হঠাৎ কারও দিনে তিন বা এর চেয়ে বেশি পাতলা পায়খানা হলে তার ডায়রিয়া হয়েছে বলে ধরে নেয়া যায়। পরিপাকতন্ত্রে সাধারণত ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া বা পরজীবী সংক্রমণের কারণে ডায়রিয়া হয়।

ডায়রিয়ার প্রধান কারণ রোটা ও নোরো ভাইরাস। পাতলা পায়খানার সঙ্গে রক্ত গেলে বা প্রচণ্ড জ্বর দেখা দিলে তা ভাইরাস নয়, ব্যাকটেরিয়া বা পরজীবী সংক্রমণের কারণে হয়েছে বলে ধরে নিতে হবে।

তবে বড়দের তুলনায় শিশুদের এ সময় ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা বেশি থাকে। কখনও কখনও এই রোগ প্রাণঘাতীও হয়। তাই ডায়রিয়া হলে অবহেলা করা ঠিক নয়।

ডায়রিয়া হলে কিছু কিছু খাবার রোগীকে সুস্থ হতে সাহায্য করে। আবার এমন কিছু খাবার আছে যা এসময়ে এড়িতে চলা উচিত। এজন্য এসময় খাবারের ব্যাপারে সাবধান হওয়া প্রয়োজন।

যে কারণে ডায়রিয়া হয় : ডায়রিয়া পানিবাহিত রোগ। দূষিত পানি পান করার জন্য এ রোগ হয়। শহরে ট্যাপের পানি অনেক সময় সেপটিক ট্যাংক বা সুয়ারেজ লাইনের সংস্পর্শে হলে দূষিত হয়। অস্বাস্থ্যকর ও অপরিচ্ছন্ন জীবনযাপন, যেখানে-সেখানে ও পানির উৎসের কাছে মলত্যাগ, সঠিক উপায়ে হাত না ধোয়া, অপরিচ্ছন্ন উপায়ে খাদ্য সংরক্ষণ এবং ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের কারণে এসময় দোকান, রেস্তোরাঁ বা বাসায় ফ্রিজের খাবারে পচন ধরা ইত্যাদি ডায়রিয়ার কারণ।

ডায়রিয়া হলে কী করবেন : ডায়রিয়া হলে শরীর দ্রুত পানিশূন্য হয়ে যায় এবং রক্তে লবণের তারতম্য দেখা দেয়। এ দুটোকে রোধ করাই ডায়রিয়ার মূল চিকিৎসা। প্রতিবার পাতলা পায়খানার পর অন্তত দুই গ্লাস খাবার স্যালাইন পান করুন। সঠিক পদ্ধতিতে বিশুদ্ধ পানি দিয়ে ও হাত সাবান দিয়ে ধুয়ে স্যালাইন তৈরি করতে হবে।

পাতলা পায়খানার সঙ্গে রক্ত, জ্বর, প্রচণ্ড পেটব্যথা বা কামড়ানো, পিচ্ছিল মল, মলত্যাগে ব্যথা ইত্যাদি থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী অ্যান্টিবায়োটিক সেবন করুন। যথেষ্ট প্রস্রাব হচ্ছে কি না, লক্ষ করুন। প্রস্রাবের পরিমাণ কমে যাওয়া, চোখ গর্তে ঢুকে যাওয়া বা জিহ্বা ও ত্বক শুষ্ক হয়ে যাওয়া পানিশূন্যতার লক্ষণ।

শিশুদের খাওয়ার স্যালাইনের পাশাপাশি স্বাভাবিক খাবার খাওয়াতে হবে। বারবার অল্প পরিমানে নরম খাবার তাদের দিতে হবে। যেসব শিশু মায়ের দুধ খায় তাদের বারবার মায়ের বুকের দুধ খাওয়াতে হবে।

ডায়রিয়া সাধারণত দুই থেকে তিনদিন স্থায়ী হয়। তবে এর বেশি সময় স্থায়ী হলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। অনেকের আবার ডায়রিয়া হলে বমি হয় কিংবা জ্বর থাকে। এমন হলেও চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে।

ডায়রিয়া হলে কিছু কিছু খাবার হজমে সমস্যা করে। এসময় ঝাল খাবার, ভাজাপোড়া, মিষ্টি জাতীয় খাবার, অতিমাত্রায় আঁশযুক্ত খাবার যেমন- শক্ত ভাত, বাদাম, পেয়াজ ,রসুন, প্যাকেটজাত খাবার, বাঁধাকপি, ফুলকপি, ব্রকলি , টক ফল, দুধজাতীয় খাবার পরিহার করা উচিত।

 

 

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত