ফটোসাংবাদিককে গাড়ী চাপা দেওয়ার মামলা

অভিনেতা কল্যাণ কোরাইয়াকে জেলগেটে জিজ্ঞাসাবাদের নির্দেশ

খায়রুল কবীর | ১৮:৫৯, জানুয়ারি ১১, ২০১৭

প্রথম আলোর ফটোসাংবাদিক জিয়া ইসলামকে গাড়ী চাপা দেওয়ার মামলায় গ্রেফতারকৃত অভিনেতা কল্যাণ কোরাইয়াকে জেলগেটে জিজ্ঞাসাবাদের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।একইসঙ্গে তার জামিন আবেদন নাকচ করেছেন। বুধবার মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা তাকে ঢাকার সিএমএম আদালতে হাজির করে তিন দিনের রিমান্ড দেওয়ার জন্য আবেদন করেন।

অন্যদিকে রিমান্ডের আবেদন নাকচ করে জামিন দেওয়ার জন্য তারপক্ষের আইনজীবী আবেদন করেন। ঢাকার মহানগর মাজহারুল হক শুনানি শেষে জামিন ও রিমান্ড আবেদন নাকচ করেন।

তবে ২ কার্য দিবসের মধ্যে তদন্তকারী কর্মকর্তা তাকে জেলগেটে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি পান। বাদীপক্ষে থেকে আসামীকে রিমান্ড দেওয়ার জন্য আইনজীবী প্রশান্ত কর্মকার আদালতে বলেন,দুর্ঘটনার কথা আসামি হাসপাতালে গিয়ে নিজেই স্বীকার করেছে। বিষয়টি ইচ্ছাকৃত কিনা তা তদন্তের দাবিদার। রিমান্ডে নিয়ে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে ঘটনার মূল রহস্য জানা যাবে। কি কারণে, কি উদ্দেশ্যে এই দুর্ঘটনা ঘটিয়েছে তা জানার জন্য ৩ দিনের রিমান্ডে নেওয়া প্রয়োজন।

আদালতে কল্যাণ কোরাইয়ার আইনজীবী মোহাম্মদ ফারুক বলেন, যে ধারায় মামলা করা হয়েছে, সে ধারা জামিনযোগ্য। আসামি জামিন পাওয়ার হকদার।এ সময় আদালত বলেন, যিনি দুর্ঘটনার শিকার হয়েছেন, তাঁর অবস্থা তো আশঙ্কাজনক। আসামিপক্ষের আইনজীবী আরোও বলেন, জামিনযোগ্য ধারা হওয়ায় আসামিকে রিমান্ডে দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। কল্যাণ কোরাইয়ার গাড়িটি রাত সাড়ে ১২টার দিকে ফার্মগেট এলাকায় ট্রাকের সঙ্গে ধাক্কা খায়।
এতে তাঁর বন্ধু আহত হন। তিনি ওই বন্ধুকে নিয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গিয়েছিলেন। জিয়া ইসলাম গাড়ির ধাক্কায় আহত হওয়ার ঘটনার সঙ্গে তিনি জড়িত নন।

এ সময় বাদীপক্ষের অপর আইনজীবী আশরাফ-উল আলম বলেন, মামলাটির ধারা জামিনযোগ্য হলেও রিমান্ডে দেওয়া যাবে না, আইনে এমন কোনো ধারা নেই। সাংবাদিক মিশুক মুনীর হত্যা মামলা, ঢাকা মেডিকেলের সামনের অ্যাম্বুলেন্স চাপা দিয়ে চারজনকে হত্যা মামলার আসামিকে রিমান্ডে দেওয়ার নজির আছে।

রিমান্ড ও জামিন শুনানিকালে বাদীপক্ষের যে আইনজীবীরা ছিলেন তারা হলেন, সৈয়দ আহমেদ গাজী, চৈতন্য চন্দ্র হালদার, আনোয়ারুল কবির বাবুল, মাহবুবুল হক, আবুল কালাম আজাদ, তুহিন হাওলাদারসহ আরো অনেকে।

উল্লেখ্য, গত সোমবার রাত সাড়ে ১১টার সময় বসুন্ধরা শপিংমলের সামনের সড়ক দিয়ে মোটরসাইকেলে যাওয়ার সময় একটি বেপরোয়া গতির গাড়ি প্রথম আলোর প্রধান ফটোসাংবাদিক জিয়ার মোটরসাইকেলকে পেছন থেকে ধাক্কা দেয়। এ সময় সেখানে থাকা আরও কয়েকজন সাংবাদিক গাড়িটি থামানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু ধাক্কা দেয়ার পর গাড়িচালক সেখানে না দাঁড়িয়ে গাড়ির সামনে-পেছনের লাইট বন্ধ করে দ্রুতগতিতে পালিয়ে যান। যে কারণে গাড়ির নম্বরপ্লেট তাৎক্ষণিকভাবে কেউ দেখতে পারেনি। দুজন সাংবাদিক আহত জিয়া ইসলামকে একটি অটোরিকশায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। ওইদিন রাত দেড়টার দিকে কল্যাণ কোরাইয়া হাসপাতালে জিয়া ইসলামকে দেখতে যান।

সেখানে তিনি উপস্থিত কয়েকজন সাংবাদিককে বলেন, তার গাড়ির মাধ্যমে দুর্ঘটনাটি ঘটেছে। এ ঘটনায় প্রথম আলোর নিরাপত্তা ব্যবস্থাপক মেজর (অব.) সাজ্জাদুল কবীর মঙ্গলবার রাতে কলাবাগান থানায় বাদী হয়ে একটি মামলা করেন। পরে পুলিশ কল্যাণ কোরাইয়াকে কলাবাগান থানায় ডেকে নিয়ে যায়। এরপর এ মামলায় তাকে গ্রেফতার দেখানো হয়।কল্যাণ কোরাইয়া বিজ্ঞাপনের মডেল ও অভিনয় পেশার সঙ্গে যুক্ত আছেন।

 



 

 

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত
close-icon