গ্রেফতার ২৪ জনের বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড

রোগী দিলেই ৩০ থেকে ৫০ শতাংশ কমিশন

মোরশেদ মুকুল | ১৮:০৪, জানুয়ারি ১১, ২০১৭

সরকারি বিভিন্ন মেডিক্যালে চিকিৎসা নিতে সাধারণ ও মুমূর্ষু রোগীদের রাজধানীর অসংখ্য ভূইফোড় ক্লিনিক ও কথিত মেডিক্যালে কৌশলে যেতে বাধ্য করছে একাধিক দালাল চক্র। তারা আগত রোগীদের উন্নত চিকিৎসার নামে নিজের মোটা অংকের কমিশন হাতিয়ে নিতে রোগীর সঙ্গে প্রতারণা করছে বলে জানান একাধিক ভোক্তভোগী। রোগী দিলে তারা ওই ক্লিনিক বা মেডিক্যাল পক্ষ থেকে পাচ্ছেন ৩০ থেকে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত কমিশন। সেই কমিশনে বাদ পড়েনি এক্স-রে থেকে নামী-দামী পরীক্ষা, অপারেশন, আই সি ইউ সেবা পর্যন্ত।

নামী-বেনামী এসব মেডিক্যাল ও ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ সরকারি বিভিন্ন মেডিক্যালে তাদের গ্রাহক বৃদ্ধির জন্যে নিযুক্ত করে দালাল। সেই দালাল চক্রে জড়িত রয়েছে সাধারণ মেডিক্যাল কর্মচারি থেকে সিনিয়র কর্মকর্তা পর্যন্ত। তারা রোগীদের কমিশন সহ উন্নত সেবার কথা বলে ওইসব ক্লিনিক ও মেডিকেলে যেতে রোগীদের উৎসাহিত করেন।

বুধবার রাজধানীর শের-ই-বাংলা নগর জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠান (নিটোর) থেকে এমন সব চক্রের ২৪ দালালকে আটক করে র‌্যাব-২। দালাল চক্রের সঙ্গে আটক হন একই মেডিক্যালের কর্মচারি হুমায়ুন কবির (৫৮) ও মাহফুজা বেগম (৫০)। তাদের র‌্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালত ১৫ দিন ও ৩ মাসের কারাদণ্ড দেন।

র‌্যাব জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র‌্যাব-২ অভিযানে নেমে বুধবার সকালে হাসপাতাল স্থল ও আশপাশের বিভিন্ন স্থান থেকে ২৪ জনকে আটক করে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেন র‌্যাবের নিবার্হী ম্যাজিষ্ট্রেট সরওয়ার আলম।

যাদের আটক করা হয়েছে তারা হলেন, ভোলার গোলাপী বেগম (৩৮), সিরাজগঞ্জের পারভীন (৫৫), সাহিদা বেগম (৫৫), মোসাঃ মাহফুজা বেগম (৫০), মালেকা বেগম (৩৫)। এছাড়া আটক অন্যান্যরা হলো, মোঃ মিরাজ হোসেন (২০), গোলাম মোস্তফা (৪০), মোঃ আলম (৪৫), আহসান হাবীব (২৪), মোঃ আমির হোসেন (২৫), মোঃ দুলাল (৫৭), মোঃ জহির (৩৫), মোঃ মমিন মিয়া (৩২), মোঃ রবিউল ইসলাম (৩৫), রিনা বেগম (৪৫), মঞ্জু মাহমুদ (৩০), মোঃ জসীম (২৮), সজীব সরকার (২৪), আবুল কালাম আজাদ (৪৫), মোঃ আলাউদ্দিন (১৯), মোঃ রাশেদ (২২), মোঃ সুমন (৩৮), ফিরোজ আহমেদ (৪২), মোঃ হুমায়ুন কবির (৫৮) রয়েছেন।

র‌্যাবের নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট সরওয়ার আলম জানান, আটকদের ১৫ দিন থেকে সর্বোচ্চ ৪ মাস পর্যন্ত কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে। তিনি জানান, আটকরা শের-ই-বাংলা নগর জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠান (নিটোর) এ রোগীদের হয়রানি ও রোগীদের ভাগিয়ে নিয়ে বাহিরের ক্লিনিকে নিয়ে যেতেন। দীর্ঘদিন থেকে সংঘবদ্ধ চক্রটি চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদেরকে হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে বাধা দিয়ে তাদেরকে বিভিন্ন প্রলোভন ও ভয়ভীতি দেখিয়ে স্থানীয় বিভিন্ন বেসরকারী ক্লিনিকে নিয়ে যেত।এর মাধ্যমে তারা অসহায় রোগীদের নিকট থেকে চিকিৎসার নামে বিপুল পরিমান অর্থও হাতিয়ে নিত।

র‌্যাব জানায়, বর্হিঃবিভাগে এবং জরুরী বিভাগে আগত রোগীদেরকে হাসপাতালে প্রবেশ করতে বাধা দিয়ে বিভিন্ন নিম্নমানের বেসরকারী ক্লিনিকে জোরপূর্বক নিয়ে যেতে দেখাযায় অভিযানের সময়। বেশ কিছু ক্লিনিক মার্কেটিং অফিসার পদবী দিয়ে দালাল নিয়োগে ও জড়িত বলে জানায় র‌্যাব। দালাল চক্রে জড়িত থাকায় সততা ডায়াগনষ্টিক সেন্টারের ০৬ (ছয়) জন এবং অর্থোপেডিক হাসপাতালের ০২ (দুই) জন কর্মচারীকে আটক করা হয়। র‌্যাব-২ এর উপপরিচালক মেজর মোহাম্মদ আলী জানান, তাদের এ অভিযান আগামীতেও অব্যাহত থাকবে।



 

 

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত
close-icon