শিরোনাম

নাইকো মামলা : ঘুম থেকে উঠতে পারেননি খালেদা, শুনানি পেছাল

আদালত প্রতিবেদক  |  ১৫:০৫, ফেব্রুয়ারি ২০, ২০১৯

 

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় সাজাপ্রাপ্ত কারাবন্দী বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে করা নাইকো দুর্নীতি মামলার অভিযোগ গঠনের শুনানি পিছিয়ে ৩ মার্চ ধার্য করা হয়েছে। বুধবার (২০ফেব্রুয়ারি) আদালতে হাজির করার কথা থাকলেও তিনি ঘুম থেকে না উঠায় আদালতে হাজির করা যায়নি বলে জানিয়েছে কারা কর্তৃপক্ষ।

পুরান ঢাকার নাজিম উদ্দিন রোডের পরিত্যক্ত কারাগারে স্থাপিত বিশেষ জজ আদালত-৯-এ আজ দুপুর ১২টার পর এজলাসে উঠেন বিচারক শেখ হাফিজুর রহমান। তখন খালেদা জিয়ার আইনজীবী মাসুদ আহমেদ তালুকদার আদালতকে বলেন, খালেদা জিয়াকে আদালতে আনা হয়নি। তিনি শারীরিকভাবে অসুস্থ।

আদালত তখন কারা কর্তৃপক্ষের কাছে জানতে চান, ‘খালেদা জিয়া কোথায়?’ এসময় এজলাসে উপস্থিত কারা কর্তৃপক্ষের প্রতিনিধি আদালতকে জানান, ‘খালেদা জিয়া ঘুমাচ্ছেন। তাই তাঁকে আদালতে হাজির করা সম্ভব হয়নি।’

আদালত এসময় বলেন, একজন আসামি অনুপস্থিত থাকায় অভিযোগ গঠন আজ সম্ভব নয়। তখন খালেদা জিয়ার আইনজীবী মাসুদ আহমেদ তালুকদার বলেন, ‘খালেদা জিয়া অসুস্থ। এ জন্য ঘুম থেকে উঠতে পারেননি।’ খালেদা জিয়ার চিকিৎসায় অবহেলা করা হচ্ছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন। এর জবাব দিতে গিয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আইনজীবী মোশাররফ হোসেন কাজল বলেন, ‘খালেদা জিয়া সম্মানিত নারী। জেল কোডের বিধান অনুযায়ী তিনি চিকিৎসা পাবেন।’

খালেদা জিয়ার আইনজীবী আদালতে বলেন, খালেদা জিয়ার চিকিৎসার অনুমতি চেয়ে আদালতে আবেদন করা হয়েছে। আদালত তখন জানান, এ ব্যাপারে আজই তিনি আদেশ দেবেন।

এসময় আদালতে উপস্থিত মামলার আসামি মওদুদ আহমদ দুদকের আইনজীবীর কাছে জানতে চান, ‘খালেদা জিয়াকে কেন আদালতে আনা হলো না? এর উত্তর আমাদের জানতে হবে। আদালতে আসা না আসা খালেদা জিয়ার ওপর নির্ভর করে না। তিনি গুরুতর অসুস্থ।’

মওদুদ আহমদের এমন কথার জবাব দিতে গিয়ে দুদকের আইনজীবী মোশাররফ হোসেন কাজল বলেন, ‘খালেদা জিয়া ঘুমিয়ে আছেন, তা তো কারা কর্তৃপক্ষ জানিয়ে গেছেন। মওদুদ আহমদকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, ‘কারা কর্তৃপক্ষ কি খালেদা জিয়াকে আনতে পারেন না? পারেন। কিন্তু উনি সম্মানিত ব্যক্তি। আমরাও তাহলে কর্তৃপক্ষকে বলব, যেভাবে পারেন আনবেন। কিন্তু তিনি আসেননি। তিনি গুরুতর অসুস্থ, এ জন্য ঘুম থেকে ওঠেননি এমন কথা ঠিক নয়।’

এর আগে, গত ১২ ফেব্রুয়ারি মামলার সবশেষ শুনানিতে খালেদাকে আদালতে হাজির করা হয়েছিল। ক্ষমতার অপব্যবহার করে তিনটি গ্যাসক্ষেত্র পরিত্যক্ত দেখিয়ে কানাডীয় কোম্পানি নাইকোর হাতে তুলে দিয়ে রাষ্ট্রের প্রায় ১৩ হাজার ৭৭৭ কোটি টাকার ক্ষতি করার অভিযোগে ২০০৭ সালের ৯ ডিসেম্বর তেজগাঁও থানায় এ মামলা দায়ের করে দুদক।

খালেদা জিয়া ছাড়া মামলার অপর আসামিরা হলেন- সাবেক মন্ত্রী মওদুদ আহমদ, সাবেক প্রতিমন্ত্রী এ কে এম মোশাররফ হোসেন, সাবেক মুখ্য সচিব কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী, সাবেক সচিব খন্দকার শহীদুল ইসলাম, সাবেক জ্যেষ্ঠ সহকারী সচিব সি এম ইউছুফ হোসাইন, বাপেক্সের সাবেক মহাব্যবস্থাপক মীর ময়নুল হক, বাপেক্সের সাবেক সচিব মো. শফিউর রহমান, ব্যবসায়ী গিয়াস উদ্দিন আল মামুন, ঢাকা ক্লাবের সাবেক সভাপতি সেলিম ভূঁইয়া এবং নাইকোর দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক ভাইস প্রেসিডেন্ট কাশেম শরীফ।

২০১৭ সালে এ মামলার অভিযোগ গঠনের শুনানি শুরুর পর খালেদা জিয়া ও মওদুদ আহমদ ছাড়া বাকি সবার অব্যাহতির আবেদনের শুনানি আগেই শেষ হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু খালেদা জিয়াকে আদালতে হাজির করতে না পারায় এবং মওদুদের সময়ের আবেদনে এ শুনানি প্রায় এক বছর আটকে ছিল।

প্রসঙ্গত, পুরান ঢাকার নাজিম উদ্দিন রোডের পরিত্যক্ত কারাগারে নাইকো দুর্নীতি মামলার বিচার কাজ চলছে। ওই পরিত্যক্ত কারাগারের একটি কক্ষে কারাবন্দী আছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া। গত বছরের ৮ ফেব্রুয়ারি জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় দণ্ডিত হওয়ার পর থেকে তিনি এই কারাগারে আছেন। কারাগারে থাকা অবস্থায় জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলাতেও দণ্ডিত হন খালেদা জিয়া ।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত