শিরোনাম

সাগর-রুনির হত্যাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তার করা হবে : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক  |  ১৮:২৬, ফেব্রুয়ারি ১১, ২০১৯

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল বলেছেন, সাংবাদিক সাগর ও রুনি হত্যাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তার করা হবে।সাগর-রুনি হত্যার কোনো কূল-কিনারা তারা করতে পারবে না এটা আমরা বিশ্বাস করি না। কোন অদৃশ্য শক্তি বা বাধার কারণে এই হত্যাকাণ্ড তদন্তের নামে বছরের পর বছর কালক্ষেপণ করা হচ্ছে সেটাই এখন বড় রহস্য।’

সোমবার (১১ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ২টার দিকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিক নেতাদের এসব কথা বলেন তিনি। এ সময় উপস্থিত ছিলেন ডিআরইউ সভাপতি ইলিয়াস হোসেন, সাধারণ সম্পাদক কবির আহমেদ খান, সাংগঠনিক সম্পাদক আফজাল বারী, প্রচার ও প্রকাশনা বিষয়ক সম্পাদক শেখ মাহমুদ এ রিয়াত, সাবেক সভাপতি সাখাওয়াত হোসেন বাদশাহ ও সিনিয়র ক্রাইম রিপোর্টার জামাল উদ্দিন।

সাংবাদিক সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ডের সাত বছর পেরিয়ে গেলেও অপরাধীদের গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। মামলাটির তদন্ত কর্মকর্তা আদালতে প্রতিবেদনও জমা দিতে পারেননি- বিষয়টি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামালের নজরে আনা হলে তিনি আশ্বাস দেন, খুনিরা দ্রুতই ধরা পড়বে। এই হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটনে সরকার সব সময়ই আন্তরিক ছিল।

আর কালক্ষেপণ না করে দ্রুততম সময়ে মামলার সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রতিবেদন জমা এবং খুনিদের গ্রেপ্তার করতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেন সাংবাদিক নেতারা।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, কোথায় সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ডের জট লেগে আছে, কেন এর তদন্ত শেষ হচ্ছে না, তা খুঁজে দেখা হবে এবং দ্রুত তদন্ত রিপোর্ট দেয়ার জন্য নির্দেশ দেয়া হবে। এই বিষয়টি নিয়ে তিনি নিজেও বিব্রত।

এদিন ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) পক্ষ থেকে সাগর সারোয়ার ও মেহেরুন রুনির হত্যাকাণ্ডের বিচার চেয়ে আসাদুজ্জামান খাঁন কামালের কাছে স্মারকলিপি দেওয়া হয়।

মন্ত্রীকে তারা জানান, এ পর্যন্ত ৬২ বার প্রতিবেদন জমা দেওয়ার তারিখ পেছাতে আবেদন করেছেন তদন্তকারী কর্মকর্তা (আইও)। আগামী ১৭ ফেব্রুয়ারি ৬৩ বারের মতো প্রতিবেদন জমা দেওয়ার তারিখ ঠিক করা রয়েছে।

স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়, ‘যে কোনো হত্যার বিচার পাওয়া নাগরিকের অধিকার। আর সেই অধিকার নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী বড় বড় হত্যার রহস্য উন্মোচন ও অপরাধীদের বিচারের মুখোমুখি করেছে। সাগর-রুনি হত্যার কোনো কূল-কিনারা তারা করতে পারবে না এটা আমরা বিশ্বাস করি না। কোন অদৃশ্য শক্তি বা বাধার কারণে এই হত্যাকাণ্ড তদন্তের নামে বছরের পর বছর কালক্ষেপণ করা হচ্ছে সেটাই এখন বড় রহস্য।’

প্রসঙ্গত, মাছরাঙা টেলিভিশনের বার্তা সম্পাদক গোলাম মোস্তফা সারোয়ার ওরফে সাগর সারোয়ার ও এটিএন বাংলার জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক মেহেরুন নাহার রুনা ওরফে মেহেরুন রুনি হত্যা মামলায় ৭ বছর পেরিয়ে গেলও তদন্তে কোন অগ্রগতি নেই। শেষ হয়নি এ মামলার তদন্তের কাজ।

২০১২ সালের এই দিনে ঢাকার পশ্চিম রাজাবাজারের বাসায় নৃশংসভাবে খুন করা হয় গোলাম মোস্তফা সারোয়ার ওরফে সাগর সারোয়ার ও তার স্ত্রী মেহেরুন নাহার রুনা ওরফে মেহেরুন রুনিকে। ঘটনার পর পরই তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যাডভোকেট সাহারা খাতুন ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে খুনিদের গ্রেপ্তারের কথা বলেছিলেন।

কিন্তু সেই ৪৮ ঘণ্টা পেরিয়ে ৭ বছর এসে ঠেকেছে। কিন্তু এখনো কী কারণে, কারা খুন করেছে এ তথ্য উদঘাটন করতে পারেনি পুলিশ। তদন্ত শেষে কবে নাগাদ অভিযোগপত্র দেওয়া যাবে, সে বিষয়ে সুর্নিদিষ্ট করে কিছু বলতে পারছেন না বর্তমান তদন্ত কর্মকর্তা র‌্যাবের এএসপি মো. শহিদার রহমান। তদন্তের প্রয়োজনে যে সব পরীক্ষা করা হয়েছে, তার সবগুলোর প্রতিবেদন পাওয়ার কথা জানালেও এতে কী মিলেছে, সে বিষয়ে কিছু বলতে চাইছেন না তিনি।

চাঞ্চল্যকর এই মামলায় যে আটজনকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছিল, তার মধ্যে দুজন জামিনে বেরিয়ে গেছেন বলে জানিয়েছেন তদন্ত কর্মকর্তা। এ মামলায় রুনির কথিত বন্ধু তানভীর রহমানসহ মোট আসামি ৮ জন।

মামলার অপর আসামিরা হলেন- বাড়ির সিকিউরিটি গার্ড এনাম আহমেদ ওরফে হুমায়ুন কবির, রফিকুল ইসলাম, বকুল মিয়া, মিন্টু ওরফে বারগিরা মিন্টু ওরফে মাসুম মিন্টু, কামরুল হাসান অরুন, পলাশ রুদ্র পাল, তানভীর ও আবু সাঈদ। আসামিদের প্রত্যেককে একাধিবার রিমান্ডে নেওয়া হলেও তাদের মধ্যে কেউ স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়নি।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত