শিরোনাম

চলতি মেয়াদে যুদ্ধাপরাধীদের সম্পদ বাজেয়াপ্ত

প্রিন্ট সংস্করণ॥বিশেষ প্রতিবেদক  |  ০০:৩৮, জানুয়ারি ১৮, ২০১৯

শুধু যুদ্ধাপরাধীদের নয়, তাদের পরিবারের সম্পদও বাজেয়াপ্ত করবে সরকার। এই সংক্রান্ত একটি আইন তৈরির কাজ শেষ পর্যায়ে রয়েছে। যা এখন চূড়ান্ত করার কাজ চলছে। গত বছর থেকে এই সংক্রান্ত আইন তৈরির কাজ শুরু করেছিল সরকার।আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর ২০১০ সালে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার শুরুর উদ্যোগ নেয়া হলে তাদের সম্পদ বাজেয়াপ্ত করারও দাবি ওঠে সমাজের বিভিন্ন অংশ থেকে। তাতে সমর্থন দিয়ে সরকারের মন্ত্রীরা এ বিষয়ে আইন প্রণয়নের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। একাত্তরের যুদ্ধাপরাধীদের সম্পদ বাজেয়াপ্ত করার জন্য আইনি কাঠামো তৈরির কাজ শেষ পর্যায়ে রয়েছে বলে জানিয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়কমন্ত্রী আনিসুল হক। গতকাল ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ায় সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, যুদ্ধাপরাধীদের পরিবারের সম্পদ বাজেয়াপ্ত করার কাজ গত বছর থেকেই শুরু হয়েছে। এখন এটা চূড়ান্ত করার কাজ চলছে। একাত্তরে বাংলাদেশের স্বাধীনতার বিরোধিতা করে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীকে সহায়তা করে জামায়াতে ইসলামীসহ বেশ কয়েকটি ধর্মভিত্তিক দল। রাজাকার, আলবদর, আলশামস নামে বিভিন্ন দল গঠন করে তারা ধর্ষণ, অপহরণ, নির্যাতন, অগ্নিসংযোগ, ধর্মান্তরে বাধ্য করার মতো যুদ্ধাপরাধ ঘটায় সারা দেশে। সে সময় সাধারণ মানুষের ধনসম্পদও লুট করা হয়। সেসব যুদ্ধাপরাধের দায়ে সর্বোচ্চ আদালতে এ পর্যন্ত জামায়াতের সাত শীর্ষ নেতা এবং বিএনপির একজনের সাজা হয়েছে, তাদের মধ্যে ছয়জনের মৃত্যুদ- কার্যকর করা হয়েছে। একজনের আমৃত্যু কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে। আরও অনেকের ফাঁসির রায় আপিল শুনানির অপেক্ষায় রয়েছে। মুক্তিযুদ্ধকালীন জামায়াত আমির গোলাম আযমের বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধের মামলার রায়ের পর্যবেক্ষণে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল বলেছে, সাধারণ জ্ঞান ও দালিলিক প্রমাণাদি থেকে এটা স্পষ্ট যে, জামায়াত ও এর অধীনস্থ সংগঠনের প্রায় সবাই সক্রিয়ভাবে বাংলাদেশের বিরোধিতা করেছেন। গোলাম আযমের নেতৃত্বে জামায়াতে ইসলামী একটি ক্রিমিনাল দল হিসাবে উদ্দেশ্যমূলকভাবে কাজ করেছে, বিশেষ করে বাংলাদেশের স্বাধীনতাযুদ্ধকালে।যুদ্ধাপরাধীদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে ২০১৩ সালে শাহবাগে গণজাগরণ মঞ্চের আন্দোলন গড়ে উঠলে যুদ্ধাপরাধে অভিযুক্তদের সম্পদ বাজেয়াপ্ত করার দাবিও জোরালো হয়ে ওঠে। ২০১৫ সালে এক অনুষ্ঠানে সাবেক নৌপরিবহণমন্ত্রী আওয়ামী লীগ নেতা শাজাহান খানও যুদ্ধাপরাধে দণ্ডপ্রাপ্তদের সম্পদ বাজেয়াপ্ত করার দাবিতে সমর্থন দেন। মুক্তিযুদ্ধ বিষয়কমন্ত্রী আকম মোজাম্মেল হক ওই বছরই আরেক অনুষ্ঠানে বলেন, বাংলাদেশে যুদ্ধাপরাধীদের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার জন্য কোনো আইন নেই। সেজন্য সরকার আইন প্রণয়ন করবে। পরের বছর এপ্রিল মাসে তিনি বলেন, যুদ্ধাপরাধীদের সম্পদ বাজেয়াপ্তের পাশাপাশি তাদের পরিবারের সদস্যদের সরকারি চাকরি করার এবং ভোটাধিকারও কেড়ে নেয়া হবে।এরপর ২০১৬ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর বঙ্গবন্ধুর খুনি ও দণ্ডিত যুদ্ধাপরাধীদের সম্পদ বাজেয়াপ্ত করার একটি প্রস্তাব জাতীয় সংসদে তোলা হলে তা সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত হয়। তখন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক সংসদে বলেন, যাদের ফাঁসি কার্যকর হয়েছে, তাদের সম্পত্তি ওয়ারিশের হাতে চলে যাওয়ায় আইনের মাধ্যমে তাদের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করতে সময় লাগবে। তবে যারা পলাতক রয়েছে, তাদের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করতে কোনো অসুবিধা নেই। তবে এরপর প্রায় আড়াই বছর হয়ে গেলেও সেই আইন এখনো মন্ত্রিসভায় ওঠেনি। ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচনে জিতে টানা তৃতীয় মেয়াদে সরকার গঠন করার পর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আইন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব আনিসুল হকের হাতেই রেখেছেন। ফলে সংশ্লিষ্টরা ধারণা করছেন, সরকার এই মেয়াদেই যুদ্ধাপরাধী এবং তাদের পরিবারের সম্পদ বাজেয়াপ্ত করার কাজ শেষ করবে।

 

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত