শিরোনাম

অভিনেতা খিজির হায়াত হত্যা মামলায় ২ জন রিমান্ডে

খায়রুল কবীর  |  ১৯:১৩, ডিসেম্বর ১১, ২০১৮

চলচ্চিত্র পরিচালক ও অভিনেতা খিজির হায়াতকে হত্যার পরিকল্পনার সাথে জড়িত সন্দেহ গ্রেপ্তাকৃত ২ জন কে ৩ দিন করে রিমান্ড দিয়েছেন আদালত। মঙ্গলবার (১১ ডিসেম্বর) মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশের কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের পরিদর্শক কামরুজ্জামান তাদেরকে ঢাকার মহানগর হাকিম আবু সুফিয়ান মো. নোমান এর আদালতে হাজির করে ৭ দিনের রিমান্ড চান। আদালত শুনানি শেষে এদের প্রত্যেককে ৩ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

যাদের কে রিমান্ড দেয়া হয়েছে তারা হলো-মো. এমদাদুল ইসলাম ওরফে মেহেদী হাসান (৩০) ও আবু বকর (২০)। মেহেদী হাসানের সাংগঠনিক নাম সবুজ ওরফে আবু সালমান ওরফে হুজাইফা। আবু বকরের সাংগঠনিক নাম ফাহিম আব্দুল্লাহ। আসামিরা সবাই আনসার আল ইসলামী সদস্য বলে তদন্ত কর্মকর্তা প্রতিবেদনে উল্লেখ করেন।

রিমান্ড প্রতিবেদনে তদন্ত কর্মকর্তা উল্লেখ করেন, আসামিরা আনসার আল ইসলামের সক্রিয় সদস্য ও সমর্থক হয়ে রাষ্ট্রবিরোধী প্রচার এবং মোবাইলে বিভিন্ন অ্যাপস ব্যবহার করে তাদের সংগঠনকে শক্তিশালী করার লক্ষ্যে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড প্ররোচিত করত এবং চলচ্চিত্র নির্মাতা খিজির হায়াত খানকে হত্যার পরিকল্পনা করে। মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে পলাতক ও অজ্ঞাত আসামিদের নাম-ঠিকানা সংগ্রহপূর্বক গ্রেপ্তার, তাদের পরবর্তী রাষ্ট্রবিরোধী কার্যক্রমের পরিকল্পনা সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহসহ আলামত উদ্ধারের লক্ষ্যে আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ৭ দিনের রিমান্ডে নেয়া প্রয়োজন।

উল্লেখ্য- সম্প্রতি খিজির হায়াত খান ‘মিস্টার বাংলাদেশ’ নামে একটি চলচ্চিত্র নির্মাণ করেছেন, যাতে জঙ্গিবাদ বিরোধী বার্তা প্রচার করা হয়েছে। এরপর থেকেই খিজির হায়াতকে হত্যার জন্য টার্গেট করে জঙ্গিরা। এ ঘটনায় বনানী থানায় মামলা হয়। এরপর তাদের কে গ্রেপ্তার করা হয়। গতকাল সোমবার (১০ ডিসেম্বর) রাজধানীর বনানী এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। তারা দুজনই নিষিদ্ধ ঘোষিত আনসারুল্লাহ বাংলাটিমের সামরিক শাখার সদস্য।

সিটিটিসি’র উপ-কমিশনার মহিবুল ইসলাম খান সাংবাদিদের বলেন, ‘খিজির হায়াত খান জঙ্গিবিরোধী একটি চলচ্চিত্র তৈরি করেছেন। এজন্য তাকে হত্যার পরিকল্পনা করে জঙ্গিরা। আমরা প্রযুক্তির সহায়তায় তাদের শনাক্তের পর গ্রেপ্তার করেছি। তাদের বিরুদ্ধে বনানী থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে একটি মামলা করা হয়েছে।’

মহিবুল ইসলাম খান বলেন, ‘দুই জঙ্গিকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। তাদের অন্য সহযোগীদের ধরতে অভিযান চালানো হচ্ছে।’ সম্প্রতি খিজির হায়াত খান ‘মি. বাংলাদেশ’ নামে একটি সিনেমা তৈরি করেছেন, যাতে জঙ্গিবাদবিরোধী বার্তা প্রচার করা হয়েছে। এরপর থেকেই খিজির হায়াতকে হত্যার জন্য টার্গেট করে জঙ্গিরা।

সিটিটিসি সূত্র জানায়, জঙ্গিদের যোগাযোগ চ্যানেল টেলিগ্রাম অ্যাপসে ‘এসো কাফেলাবদ্ধ হই’ নামে একটি গ্রুপে খিজির হায়াতকে হত্যার বিষয়ে আলোচনা হয়। আবু বক্করের ওপর দায়িত্ব ছিল খিজির হায়াতকে অনুসরণ করে তার চলাফেরা এবং ঠিকানা সংগ্রহ করা। এজন্য আবু বক্কর কুমিল্লায় খিজির হায়াতের গ্রামের বাড়ি রেকি করে আসে। জোবায়ের নামে এক সহযোগীসহ বক্কর খিজির হায়াতের কুমিল্লার কাপ্তানবাজারের বাড়িতে গিয়ে মিথ্যা পরিচয়ে তার বাবার সঙ্গে কথা বলে। এছাড়া, ঢাকায় তার বাসা এবং অফিস সম্পর্কেও তথ্য সংগ্রহ করেছিল তারা। বক্কর এসব তথ্য গত আগস্টে সৌদি আরবে অবস্থানকারী এমদাদকে জানায়। হত্যার পরিকল্পনা চূডয়ান্ত করে এমদাদ সৌদি থেকে দেশে আসে।

সিটিটিসি’র একজন কর্মকর্তা জানান, আনসারুল্লাহ বাংলাটিমের শীর্ষ নেতা মাওলানা ওসমান গণির নির্দেশে তারা খিজির হায়াতকে হত্যার পরিকল্পনা করেছিল। নরসিংদীর বাসিন্দা মাওলানা ওসমান গণি দীর্ঘদিন ধরে পলাতক থেকে আনসারুল্লাহ বাংলাটিমের সাংগঠনিক কার্যক্রম চালিয়ে আসছে।

সূত্র জানিয়েছে, গ্রেপ্তার হওয়া জঙ্গি এমদাদ কেরানীগঞ্জে মুফতি ইজাহার পরিচালিত মারকাহুদা আল ইসলামিয়া মাদ্রাসায় পড়াশুনা করেছে। ২০১৬ সালে সে কাতার হয়ে সৌদি আরবে যায়। মাদ্রাসায় পড়া অবস্থায়ই সে জঙ্গিবাদে জড়িয়ে পড়ে। গ্রেপ্তার হওয়া আবু বক্করও যাত্রাবাড়ীর একটি মাদ্রাসার শিক্ষার্থী ছিল। তাদের দুজনের গ্রামের বাড়ি ফরিদপুরে।

চলচ্চিত্র পরিচালক ও অভিনেতা খিজির হায়াত খান সাংবাদিকদের বলেন, ‘‘মাস দুয়েক আগে সিটিটিসি’র পক্ষ থেকে জঙ্গিরা হামলা করতে পারে বলে আমাকে সাবধানে থাকতে বলা হয়। আমি জঙ্গিবাদবিরোধী কাজ করি। আমার সর্বশেষ চলচ্চিত্র ‘মি. বাংলাদেশ’-এর উপজীব্য বিষয় ছিল ধর্মীয় অপব্যাখ্যা দিয়ে সাধারণ ও নিরীহ তরুণদের যে জঙ্গিবাদে জড়ানো হয় তা নিয়ে। এ কারণে আমাকে ফেসবুকেও থ্রেট দেয়া হয়েছিল।’’

খিজির হায়াত খান বলেন, ‘জঙ্গিরা যতই থ্রেট দিক না কেন, আমি আমার কাজ করে যাবো। এই দেশ জঙ্গিবাদের অভয়ারণ্য হতে দেবো না।’

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত