শিরোনাম

কেরানীগঞ্জ মোস্তফা হত্যায় ৫ জনের যাবজ্জীবন

আদালত প্রতিবেদক  |  ১৯:৫০, নভেম্বর ১২, ২০১৮

ঢাকার কেরাণীগঞ্জে জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে মোস্তফা হত্যা মামলায় দোষী সাব্যস্ত করে ৫ জনকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ডে দন্ডিত করেছেন আদালত। তাদের দণ্ডাদেশের পাশাপাশি প্রত্যেককে ১০ হাজার টাকা অর্থ দন্ড। টাকা অনাদায়ে আরো ২ মাসের কারাভোগের আদেশ দিয়েছেন আদালত। সোমবার (১২ নভেম্বর) ঢাকার ৭ম অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ মোহা. বজলুর রহমানের আদালতে এ দন্ডাদেশ দেন।

যাদের বিরুদ্ধে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড রায় দেওয়া হলো- একই এলাকার দুই সহোদর মৃত হাফিজ উদ্দিনের ছেলে শফিউদ্দিন ও শাহাব উদ্দিন, তাদের ভাই সালাউদ্দিনের ছেলে সুমন, তমিজউদ্দিনের ছেলে জসীম উদ্দিন ও অসিম উদ্দিন। রায়ে দণ্ডিতদের দণ্ড বিধির ৩২৪ ধারায় ১ বছর করে কারাদণ্ড, ৫ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড এবং অনাদায়ে আরও ২ মাসের কারাভোগের আদেশ দেয়া হয়েছে।

মামলাটি চার্জশিট হয়ে বিচারকালীন সময়ে ২০১৩ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় মামলাটি রাজনৈতিক মামলা বিবেচনায় প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। পরে ঢাকা জেলা পাবলিক প্রসিকিউটর অফিস মামলাটি প্রত্যাহার করার জন্য মন্ত্রণালয়ের আদেশসহ আদালতে দাখিল করে। কিন্তু বাদীপক্ষের নারাজী আবেদনের প্রেক্ষিতে আদালত সরকারের প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নামঞ্জুর করেন।

পরবর্তীতে আসামিপক্ষ ওই বিষয়ে হাইকোর্ট ও আপিল বিভাগে গেলেও বিচারিক আদালতের সিদ্ধান্তই বহাল থাকে। ফলে এরপর আবার এ মামলার বিচার শুরু হয়। মামলায় ১৮ জন সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়। সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে যুক্তিতর্ক শুনানী সম্পন্ন হয়।

উল্লেখ্য, ২০০৪ সালের ২২ সেপ্টেম্বর সকাল ৮টায় ঢাকার কেরাণীগঞ্জ থানার জয়নগরস্থ নিজ বাড়ি থেকে বাজারে যাওয়ার জন্য রওয়ানা হন মোস্তফা এবং তার দুই শ্যালক হায়দার আলী ও রবি হোসেন। এ সময় আসামিরা তাদের হত্যার উদ্দেশ্যে রামদা, লোহার রড, চাপাতি ও ইট দিয়ে হামলা করে গুরুতর আহত করে। গুরুতর আহত মোস্তফাকে প্রথমে মিটফোর্ড হাসপাতাল ও পরে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে ওইদিনই রাত পৌনে ৯টায় মারা যান মোস্তফা। ওই ঘটনায় তার দুই শ্যালক হায়দার আলী ও রবি হোসেন গুরুতর আহত হন।

এরপর ২০০৪ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর কেরাণীগঞ্জ থানায় মামলা করেন নিহতের স্ত্রী সাজেদা খাতুন। ঘটনাটি তদন্ত করে ২০০৬ সালের ১৯ অক্টোবর সিআইডি পুলিশের পরিদর্শক আবুল হাশেম ৬ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন। অপর আসামি এনায়েত হোসেনকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। রাষ্ট্র পক্ষে মামলা পরিচালনা করেন, মো. সলিম উল্লাহ (খসরু)।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত