শিরোনাম

জামিন পেলেন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪১ শিক্ষার্থী

আদালত প্রতিবেদক  |  ১৫:২০, আগস্ট ১৯, ২০১৮

নিরাপদ সড়কের আন্দোলনের মধ্যে পুলিশের ওপর হামলা ও ভাঙচুরের ২ মামলায় বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৮ জনের এবং অন্যান্য মামলায় ২৩ জন শিক্ষার্থীর জামিন মঞ্জুর করেছেন আদালত। রোববার (১৯ আগস্ট) বাড্ডা থানায় ১২ জন, ভাটারা থানায় ৬ জন এই নিয়ে ১৮ জনের জামিন মঞ্জুর করেন ঢাকার মহানগর হাকিম একেএম মঈনউদ্দিন সিদ্দিকী এবং অন্যান্য থানার আরও ২৩ জনের জামিন মঞ্জুর করেন আদালত এ নিয়ে ৪১ জনের জামিন মঞ্জুর করেন আদালত।

জামিন পাওয়া শিক্ষার্থীরা হলেন-ইফতেখার আহম্মেদ, নূর মোহাম্মদ, জাহিদুল হক, হাসান, মুশফিকুর রহমান, রাশেদুল ইসলাম, রেজা রিফাত আখলাক, এএইচএম খালিদ রেজা ওরফে তন্ময়, তরিকুল ইসলাম, রেদোয়ান আহম্মেদ, সাখাওয়াত হোসেন নিঝুম, আজিজুল করিম অন্তর, মাসহাদ মর্তুজা বিন আহাদ, মেহেদী হাসান, শিহাব শাহরিয়ার ও মেহেদী হাসান সহ ১৮ জন।

শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রথম ১২ জন বাড্ডা থানার এবং পরের ৬ জন ভাটারা থানার মামলার আসামি। বাকিরা ইস্টওয়েস্ট, নর্থসাউথ, সাউথইস্ট, ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয় ও আহসান উল্লাহ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী।
এদিকে ধানমন্ডি থানার মামলায় ৯ জন কোতয়ালী থানায় ৩ জন, নিউমার্কেট ৪ জন পল্টন ২ জন রমনা থানার পৃথক ২ মামলায় ২ জন উত্তরা পশ্চিম থানায় ৩ জন। এ নিয়ে ২৩ জন। সর্বমোট ৪১ জন শিক্ষার্থী জামিন পেয়েছে। সন্ধ্যায় এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত এমন তথ্য পাওয়া যায়। আদালত সূত্রে জানা যায় জামিন পাওয়া ছাত্রের সংখ্যা কমবেশি হতে পারে।

জামিন শুনানিতে আইনজীবীরা বলেন, এরা সবাই বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। গত ৬ আগস্ট থেকে ১৯ আগস্ট পর্যন্ত কারাগারে রয়েছেন। তাদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট কোনো অভিযোগ নেই। সামনে তাদের সেমিস্টার পরীক্ষা। এমতাবস্থায় আমরা তাদের জামিন মঞ্জুরের প্রার্থনা করছি। উভয়পক্ষের শুনানি শেষে আদালত দুই হাজার টাকা মুচলেকায় আগামী ধার্য তারিখ পর্যন্ত জামিন মঞ্জুরের আদেশ দেন।

এদিকে জামিন শুনানিকালে শিক্ষার্থীদের কারো মা-বাবা, কারো ভাই-বোন, বন্ধু আদালতে উপস্থিত হন। জামিনের আদেশ শুনে তারা স্বস্তি প্রকাশ করেন। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীরা যেন মামলা থেকে অব্যাহতি পায় সেই দাবি জানান তারা। তবে জামিন শুনানিকালে শিক্ষার্থীদের কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা হয়নি।

গত ৭ আগস্ট ২২ শিক্ষার্থীর ২ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত। গত ৯ আগস্ট আসামিদের রিমান্ড শেষে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন আদালত। এদের মধ্যে দুদফায় কয়েক শিক্ষার্থীর জামিন আবেদন করলে আদালত তা নামঞ্জুর করেন।

উল্লেখ্য, গত ২৯ জুলাই রাজধানীতে বাসচাপায় শহীদ রমিজ উদ্দিন কলেজের দুই শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়। এরপর নিরাপদ সড়কের দাবিতে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে কার্যত অচল হয়ে পড়ে ঢাকা। ওই আন্দোলনের এক পর্যায়ে এতে জড়িয়ে পড়ে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।

শহীদ রমিজ উদ্দীন ক্যান্টনমেন্ট স্কুল অ্যান্ড কলেজের দুই শিক্ষার্থী সড়ক দুর্ঘটনায় নিহতের ঘটনায় গড়ে ওঠা ‘নিরাপদ সড়ক চাই’ আন্দোলনে সহিংস ঘটনা ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উসকানির প্রেক্ষিতে বিভিন্ন থানায় মোট ৫১টি মামলা করা হয়। এসব মামলায় মোট ৯৯ জনকে গ্রেফতার করা হয়। এদের মধ্যে ৫২ জন শিক্ষর্থী।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত