শিরোনাম

৪ বছর পর স্বামীর পাশেই নিপাকে ইসলামি রীতিতে দাফন

নীলফামারী প্রতিনিধি  |  ১৮:০২, মে ০৪, ২০১৮

ভালোবেসে ধর্মান্তরিত হয়ে বিয়ে।এরপর দুজনেরই আত্মহত্যা। পরবর্তীতে মরদেহ পেতে পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা। আর এই জটিলতায় চার বছর ধরে মর্গে পড়ে থাকে নীলফামারীর হোসনে আরা লাইজুর (নিপা রানীর) মরদেহ। অবশেষে আদালতের রায়ে মৃত্যুর চার বছর পর ইসলাম ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী শশুড় বাড়িতেই স্বামীর কবরের পাশে দাফন করা হয়েছে নিপা রানীকে। এর আগে, গত ১২ এপ্রিল হাইকোর্টের বিচারপতি মো. মিফতাহ উদ্দিন চৌধুরীর একক হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন। নীলফামারী জেলা প্রশাসককে এ নির্দেশ বাস্তবায়ন করতে বলেছেন আদালত। বৃহস্পতিবার (০৩মে) আদালতের আদেশের কপি জেলা প্রশাসকের হাতে পৌঁছে। আদালতের আদেশ মোতাবেক জেলা প্রশাসক বিকেলের মধ্যে হোসনে আরার মরদেহ দাফনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছেন।

নিপা-লাইজুর মর্মস্পর্শী ভালোবাসার কাহিনী: একে অপরকে ভালোবেসে নীলফামারীর ডোমারের মুসলমান প্রেমিক হুমাউন ফরিদ লাইজুকে ধর্মান্তরিত হয়ে বিয়ে করেন হিন্দু প্রেমিকা নিপা রাণী রায়। এসময় লিপার নতুন নাম হয় হোসনে আরা। বিয়ের পর ভালই কাটছিলো লাইজু ও নিপা রানী ওরফে হোসনে আরার দিন। কিন্তু বাধঁসাধে নিপার পরিবার। নিপা অপ্রাপ্ত বয়স্ক হওয়ায় লাইজুর বিরুদ্ধে অপহরণের মামলা করে তার পরিবার। এ মামলায় লাইজু নেওয়া হয় কারাগারে। নিপাকে রাখা হয় নিরাপত্তা হেফাজতে।

পরে নিপাকে বাড়িতে ফিরিয়ে নেয় তার পরিবার। লাইজুও জেল খেটে বের হন। কিছুদিন পর লাইজু বিষ খেয়ে মারা যান। নিপাও শোকে বিষপান করে আত্মহত্যা করেন। তবে, নিপা রানী ওরফে হোসনে আরার মরদেহ কে পাবে; আইনি এমন দ্বন্দ্বে চার বছর ধরে হাসপাতালের মর্গে পড়ে থাকে নিপা রানীর লাশ। ভালোবেসে ধর্মান্তরিত হয়ে বিয়ে করার কারণে মরদেহ নিয়ে এমন আইনি লড়ায়ে জড়িয়ে পড়েন ছেলে ও মেয়ের পরিবার। এরপর লিপার মরদেহ দাবি করে আদালতে মামলা করে দুপক্ষই। এ মামলাটি নিম্ন আদালত ঘুরে উচ্চ আদালতে দীর্ঘদিন ধরে বিচারাধীন থাকে।

এলাকাবাসী জানায়, ডোমার উপজেলার বামুনিয়া ইউনিয়নের খামার বমুনিয়া গ্রামের অক্ষয় কুমার রায়ের মেয়ে নিপা রানী রায়। তার সঙ্গে প্রেমের সর্ম্পক গড়ে উঠে ডোমার উপজেলার বোড়াগাড়ি ইউনিয়ন পূর্ব বোড়াগাড়ী গ্রামের জহুরুল ইসলামের ছেলে হুমাউন ফরিদ লাইজু ইসলামে(২২) সঙ্গে। প্রেমিকের সঙ্গে নিপা পালিয়ে যায়। নিপা রানী রায় ধর্ম পরিবর্তন করে মোছাঃ হোসনে আরা ইসলাম নাম ধারণ করেন এবং নীলফামারী পাবলিক নোটারি ক্লাবের এভিডেভিটের মাধ্যমে দুই লাখ ১ হাজার ৫০১ টাকা দেনমোহরে হুমাউন ফরিদ লাইজু ইসলাম কে বিয়ে করে।

এরপর তারা স্বামী স্ত্রী হিসাবে বসবাস করে আসছিল। এ অবস্থায় মেয়েটির পিতা অক্ষয় কুমার রায় বাদী হয়ে একটি অপহরণ মামলা আদালতে দায়ের করলে তারা স্বামী স্ত্রীর সকল কাগজপত্র সহ নীলফামারীর আদালতে হাজির হয়ে জবানবন্দি প্রদান করেন।

ফলে আদালত সার্বিক বিবেচনায় অপহরণ মামলা খারিজ করে দেয়। কিন্তু মামলার খারিজ আপিলে মেয়েটির পিতা তার মেয়েকে অপ্রাপ্ত বয়স্কো ও মস্তিস্কো বিকৃতি (পাগল) দাবি করে আদালতে কাগজ পত্র দাখিল করলে আদালত সেটি পরীক্ষার জন্য মেয়েটিকে রাজশাহী সেফ হোমে পাঠিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের নির্দেশ দেন। এ অবস্থায় ২০১৪ সালের ১৫ জানুয়ারী হুমায়ূন ফরিদ লাইজু ইসলাম বিষপান করে আত্মহত্যা করে। এরপর মেয়ের পিতা আদালতে আবেদন করে তার মেয়েকে জিম্মায় নিয়ে তাদের বাড়িতে রাখেন। তিনি লিপাকে তার পুত্রবধু দাবি করে বলেন তাকে পরিকল্পিতভাবে তার পিতা হত্যা করেছে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত