শিরোনাম

খালেদার জরিমানা স্থগিত, জামিন আবেদনের শুনানি ২৫ ফেব্রুয়ারি

আদালত প্রতিবেদক  |  ১২:৫০, ফেব্রুয়ারি ২২, ২০১৮

 

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতির মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার আপিল আবেদন শুনানির জন্য গ্রহণ করেছেন হাইকোর্ট। আপিল গ্রহণের পর তার জরিমানা স্থগিতের আদেশ দিয়েছেন আদালত। একইসঙ্গে খালেদা জিয়ার জামিন আবেদনের শুনানি আগামী ২৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত মুলতবি করা হয়েছে।

খালেদা জিয়ার আইনজীবী প্যানেলের সদস্য ব্যারিস্টার রাগীব রউফ চৌধুরী এই তথ্য নিশ্চিত করেন। যদিও আদালতের আদেশের পরপরই ব্যারিস্টার রাগীব রউফ চৌধুরী জানিয়েছিলেন, খালেদা জিয়ার সাজা ও জরিমানা স্থগিত করেছেন আদালত।

কিন্তু পরবর্তীতে অ্যাডভোকেট সগির হোসেন লিয়ন আদালতের লিখিত আদেশ দেখে জানান, 'প্রথমে আমরা ভেবেছিলাম সাজা স্থগিত করা হয়েছে। কিন্তু লিখিত আদেশে দেখলাম সাজা স্থগিত করা হয়নি, শুধু জরিমানা স্থগিত করা হয়েছে।' বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি সহিদুল করিমের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চে জরিমানা স্থগিত ও জামিন আবেদনের শুনানি সংক্রান্ত এই আদেশ দেয়া হয়।

বেঞ্চ অফিসাররা নিশ্চিত করেছেন, আগামী রোববার দুপুর ২টায় খালেদা জিয়ার জামিন আবেদনের ওপর শুনানির আদেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। এছাড়া জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় বিচারিক আদালতের যাবতীয় নথি ১৫ দিনের মধ্যে হাইকোর্টে পাঠানোর নির্দেশও দেয়া হয়েছে।

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় খালেদা জিয়ার আপিল গ্রহণযোগ্যতার শুনানি শুরু হয় বেলা ১২টা ১ মিনিটে। খালেদা জিয়ার পক্ষে শুনানি করেন সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল অ্যাডভোকেট এ জে মোহাম্মদ আলী। আর দুদকের পক্ষে জামিনের বিরোধিতা করে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট খুরশীদ আলম খান।

তবে এর আগে বৃহস্পতিবার সকাল ১১টার থেকেই বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি সহিদুল করিমের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চের এজলাস কক্ষে প্রবেশ করা নিয়ে আইনজীবীদের মধ্যে কয়েক দফা কথাকাটাকাটি, হাতাহাতি ও উচ্চবাচ্য হয়। এ কারণে বিচারপতিরা কয়েকবার তাদের সতর্ক করেন।

কিন্তু এরপরেও পরিস্থিতি শান্ত না হওয়ায় আদালত অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম ও খালেদা জিয়ার আইনজীবী ও সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীনকে আইনজীবীদের শান্ত করতে বলে এজলাস ত্যাগ করেন। পরে তারা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।

খালেদা জিয়ার আপিল গ্রহণযোগ্যতার শুনানিতে এজলাসে উপস্থিত ছিলেন- বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, খালেদা জিয়ার আইনজীবী, দুদক ও রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা।

উল্লেখ্য, গত ৮ ফেব্রুয়ারি জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেন বিশেষ আদালত। এছাড়া বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ পাঁচ আসামিকে ১০ বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড এবং দুই কোটি ১০ লাখ টাকা করে জরিমানা করা হয়। গত সোমবার খালেদা জিয়ার কারাদণ্ডের রায়ের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশিত হয়।

মামলার অন্য আসামিরা হলেন- মাগুরার সাবেক সংসদ সদস্য (এমপি) কাজী সলিমুল হক কামাল, ব্যবসায়ী শরফুদ্দিন আহমেদ, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সাবেক সচিব কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী ও প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ভাগ্নে মমিনুর রহমান। এঁদের মধ্যে তারেক রহমান, কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী ও মমিনুর রহমান পলাতক রয়েছেন।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত