শিরোনাম

খালেদার রায়ের পর্যবেক্ষণে যা বললেন বিচারক

প্রিন্ট সংস্করণ॥ খায়রুল কবীর  |  ০০:৩৬, ফেব্রুয়ারি ২০, ২০১৮

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলার পূর্ণাঙ্গ রায় গতকাল সোমবার বিকেলে প্রকাশিত হয়। বিকেলেই রায়ের সত্যায়িত কপি গ্রহণ করেছেন বিএনপির চেয়ারপারসনের আইনজীবী ও মামলার বাদিপক্ষ দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আইনজীবী। বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াসহ জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলার ৬ আসামিকে অর্থদ-ের দুই কোটি দশ লাখ ৭১ হাজার ৬৪৩ টাকা ৮০ পয়সা ৬০ দিনের মধ্যে পরিশোধ করতে বলা হয়। ৬ আসামির প্রত্যেককে সম অঙ্কে এই টাকা রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা দিতে হবে। রায়ে বিএনপির চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে পাঁচ বছর এবং সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান, মাগুরার সাবেক সংসদ সদস্য কাজী সলিমুল হক কামাল, ব্যবসায়ী শরফুদ্দীন আহমেদ, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সাবেক সচিব কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী ও প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ভাগ্নে মমিনুর রহমানকে ১০ বছর করে কারাদ-াদেশ এবং দুই কোটি ১০ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। সাজা ঘোষণার পর খালেদা জিয়াকে নাজিমুদ্দিন রোডের পুরোনো কেন্দ্রীয় কারাগারে রাখা হয়েছে। রায়ে আসামি তারেক রহমান, শরফুদ্দীন আহমেদ ও মমিনুর রহমানকে পলাতক দেখানো হয়েছে। জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার রায়ের পর্যবেক্ষণে ঢাকার বিশেষ জজ আদালত- ৫ এর বিচারক ড. মো. আখতারুজ্জামান বলেন, বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানসহ মামলার ছয় জন আসামি প্রত্যেকেই কোনো না কোনোভাবে লাভবান হয়েছেন। তারা রাষ্ট্রীয় অর্থনৈতিক অপরাধী হিসেবে গণ্য হবেন। অর্থনৈতিক দুর্নীতি রাষ্ট্রের অর্থনীতির স্বাভাবিক গতিকে ব্যাহত করে এবং এর বাজে প্রভাব সমাজের প্রতিটি স্তরে সংক্রামিত হয়। রায়ের পর্যবেক্ষণে বিচারক বলেন, নথি পর্যালোচনায় প্রমাণিত হয় খালেদা জিয়া এ দেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী। তিনি স্বীকৃত মতেই সরকারি কর্মচারী। বাকি উপাদানগুলো এ মামলায় উপস্থিত আছে বলে ইতোমধ্যেই লক্ষ্য করা গেছে। ফলে খালেদা জিয়ার পক্ষে যে সমস্ত যুক্তি উপস্থাপন করা হয়েছে তা বাস্তবতার নিরীখে গ্রহণ করার কোনো কারণ নেই। এছাড়াও আসামিদের পক্ষে দাবি করা হয়েছে যে, খালেদা জিয়া আইনের বিধান লঙ্ঘন করেন নাই এবং সে দুটি ট্রাস্টের অর্থ প্রদান করেছেন তাও সঠিক আছে। কিন্তু নথির পর্যালোচনায় আসামি পক্ষের উপস্থাপিত যুক্তি গ্রহণযোগ্য হয়নি। কেননা সরকারি এতিম তহবিলের টাকা বিধি মোতাবেক এতিমদের কল্যাণে ব্যয় করা উচিত ছিল। কিন্তু খালেদা জিয়া তার ব্যত্যয় ঘটিয়ে নাম সর্বস্ব জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট্রের অনুকূলে ২ কোটি ৩৩ লাখ ৩৩ হাজার ৫০০ টাকা স্থানান্তর করেন। মামলার আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে এতিম তহবিলের ২ কোটি ৭১ লাখ ৬৩৪ টাকা আত্মসাৎ করেছেন। পরিমাণের দিক থেকে এর বর্তমান মূল্য অধিক না হলেও ঘটনার সময়ে ওই টাকার পরিমাণ অনেক বেশি ছিল। জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট নামে কোনো এতিম খানার অস্তিত্ব পাওয়া যায় নাই। সেখানে কোনো এতিম বসবাস করে না। এতিম খানার কোনো দালান-কোঠা বা স্থাপনা নেই। ফলে আসামিদের কোনো যুক্তি গ্রহণযোগ্য নয়। রাষ্ট্রের যুক্তি গ্রহণযোগ্য। পূর্ণাঙ্গ রায়ে বলা হয়েছে- ‘আসামি- (১) বেগম খালেদা জিয়া এর বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ প্রসিকিউশনপক্ষ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ করতে সক্ষম হওয়ায় তাকে দ- বিধির ৪০৯/১০৯ ধারা বিধান মোতাবেক ৫ (পাঁচ) বৎসরের সশ্রম কারাদ- এবং আসামি (২) তারেক রহমান (পলাতক), (৩) কাজী সালিমুল হক ওরফে কাজী কামাল, (৪) শরফুদ্দীন আহমেদ, (৫) ড. কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী (পলাতক) এবং (৬) মমিনুর রহমান (পলাতক) এর বিরুদ্ধেও আনীত অভিযোগ প্রসিকিউশনপক্ষ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ করতে সক্ষম হওয়ায় দ-বিধির ৪০৯/১০৯ ধারার বিধান মোতাবেক ১০ (দশ) বৎসরের সশ্রম কারাদ- এবং বর্ণিত সকল আসামিকে ২,১০,৭১,৬৪৩/৮০ (দুই কোটি দশ লক্ষ একাত্তর হাজার ছয় শত তেতাল্লিশ টাকা আশি পয়সা) অর্থদ-ে দ-িত করা হলো। উক্ত অর্থদ-ের টাকা সাজাপ্রাপ্ত ব্যক্তিগণ কর্তৃক প্রত্যেককে সম অংকে প্রদান করতে হবে। আরোপিত অর্থদ-ের টাকা রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্ত বলে গণ্য হবে। আগামী ৬০ (ষাট) দিনের মধ্যে তাদের প্রত্যেককে উক্ত টাকা রাষ্ট্রের অনুকূলে আদায় দেওয়ার নির্দেশ দেয়া গেল। জিয়া অরফানেজ ট্রাস্টের নামীয় সোনালী ব্যাংক, গুলশান নিউ নর্থ সার্কেল শাখা, ঢাকায় রক্ষিত এসটিডি-৭ নং হিসাবে জমাকৃত সাকূল্য টাকা রাষ্ট্রীয় অনুকূলে বাজেয়াপ্ত করা হলো।’ রায়ে আরো বলা হয়েছে, ‘দ-িত ব্যক্তিগণের হাজতবাস (যদি থাকে) মূল দ-াদেশ থেকে বিধি মোতাবেক কর্তিত হবে। আসামি বেগম খালেদা জিয়া, কাজী সলিমুল হক ওরফে কাজী কামাল এবং শরফুদ্দীন আহমেদকে সি/ডব্লিও মূলে কারাগারে প্রেরণ করা হোক। দ-িত কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী, তারেক রহমান এবং মমিনুর রহমান পলাতক থাকায় তাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারী পরোয়ানা ইস্যু করা হোক। পুলিশ কর্তৃক ধৃত বা দ-িত ব্যক্তি আত্মসমর্পণের তারিখ থেকে উক্ত দ-াদেশ কার্যকর হবে।’
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত