শিরোনাম

খালেদা জিয়াসহ ২০ জনের বিরুদ্ধে চার্জ শুনানি ২৪ সেপ্টেম্বর

আদালত প্রতিবেদক  |  ২০:০৭, আগস্ট ২০, ২০১৭

গ্যাটকো সংক্রান্ত দুর্নীতি মামলায় বিএনপির চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়াসহ ২০ জনের বিরুদ্ধে চার্জ শুনানি জন্য ২৪ সেপ্টম্বর তারিখ ধার্য করেছেন আদালত। রোববার ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৩ এ শুনানির জন্য দিন ধার্য ছিল। কিন্তু আসামি পক্ষে মামলাটি চলে না মর্মে উচ্চ আদালতে আবেদন করায় এ আদালতে চার্জ শুনানি মওকুফের জন্য সময় চেয়ে আবেদন করেন। তবে খালেদা জিয়ার পক্ষে আইনজীবীর মাধ্যমে হাজিরা দেওয়া হয়। ভারপ্রাপ্ত আদালতের বিচার ইমরুল কায়েস শুনানি শেষে এ তারিখ ধার্য করেন এবং উচ্চ আদালতে আদেশ দাখিলের জন্য দিন ধার্য করেন। আসামি কর্নেল আকবর হোসেনের ছেলে ইসমাইল হোসেন সায়মন এবং তানভীর আহমেদের পক্ষে হাই কোর্টের স্থগিতাদেশ থাকায় সময় চেয়ে আবেদন করেন। আসামি পক্ষে মামলা পরিচালনা করেন মো.সানাউল্লাহ মিঞা, তাহেরুল ইসলাম তৌহিদ, জিয়া উদ্দিন জিয়া, হাতেমুল আলম হাতেম, নুরুজ্জামান তপনসহ বেশ কিছু আইনজীবী।

২০০৭ সালের ২ সেপ্টেম্বর দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) উপ-পরিচালক গোলাম শাহরিয়ার চৌধুরী সাবেক চারদলীয় জোট সরকারের প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া, তার ছোট ছেলে আরাফাত রহমান কোকোসহ ১৩ জনের বিরুদ্ধে তেজগাঁও থানায় এ মামলা করেন। মামলার পরদিন খালেদা জিয়া ও কোকোকে গ্রেফতার করা হয়। ওই বছরের ১৮ সেপ্টেম্বর মামলাটি অন্তর্ভুক্ত করা হয় জরুরি ক্ষমতা আইনে। পরের বছর ১৩ মে খালেদা জিয়াসহ ২৪ জনের বিরুদ্ধে এ মামলায় চার্জশিট দেয়া হয়।

মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে- আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান গ্যাটকোকে ঢাকার কমলাপুর আইসিডি ও চট্টগ্রাম বন্দরের কন্টেইনার হ্যান্ডলিংয়ের কাজ পাইয়ে দিয়ে রাষ্ট্রের ১৪ কোটি ৫৬ লাখ ৩৭ হাজার ৬১৬ টাকার ক্ষতি করেছেন। পরে মামলাটি জরুরি ক্ষমতা আইনে অন্তর্ভুক্ত করার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে এবং বিচারিক আদালতে মামলার কার্যক্রমের উপর স্থগিতাদেশ চেয়ে ২০০৭ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর হাইকোর্টে আলাদা দুটি রিট আবেদন করেন খালেদা জিয়া ও আরাফাত রহমান কোকো। এর তিনদিন পর খালেদা ও কোকোর বিরুদ্ধে মামলার কার্যক্রম স্থগিত করে রুল দেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে মামলাটি জরুরি ক্ষমতা আইনের অন্তর্ভুক্ত করা কেন ‘বেআইনি ও কর্তৃত্ব বহির্ভূত’ ঘোষণা করা হবে না- তা জানতে চাওয়া হয়েছিল ওই রুলে। তবে হাইকোর্টের দেয়া স্থগিতাদেশ পরে আপিল বিভাগে বাতিল হয়ে যায়। দুদক আইনে গ্যাটকো মামলা দায়েরের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে ২০০৮ সালে আরেকটি রিট আবেদন করেন খালেদা জিয়া। তার আবেদনে হাইকোর্ট আবারও মামলার কার্যক্রমের উপর স্থগিতাদেশ দেন এবং মামলাটি কেন বাতিলের নির্দেশ দেয়া হবে না- এ মর্মে রুল জারি করেন।

মামলায় অন্য আসামিরা হলেন- বিগত চারদলীয় জোট সরকারের মন্ত্রী খন্দকার মোশাররফ হোসেন, এম শামসুল ইসলাম, এম কে আনোয়ার, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী এবং জামায়াতের সাবেক আমির মতিউর রহমান নিজামী। মামলার ২৪ আসামির মধ্যে খালেদা জিয়ার ছোট ছেলে আরাফাত রহমান কোকো, সাবেক অর্থমন্ত্রী সাইফুর রহমান, বিএনপির সাবেক মহাসচিব আব্দুল মান্নান ভূঁইয়া ও সাবেক মন্ত্রী মতিউর রহমান নিজামী মারা যাওয়ায় এখন আসামির সংখ্যা ২০। এদিকে এম.কে আনোয়ার গ্যাটকো মামলাসহ আরো বিশেষ ক্ষমতা আইনে ২ মামলায় অসুস্থ্য অবস্থায় আদালতে হাজিরা দেন। তার আইনজীবী হাতেমূল আলম বলেন, তিনি খুবই অসুস্থ নড়া চড়া করতে পারে না সেজন্য গাড়ীতে বসাছিল সে বিষয়ে আদালতে অবগত করলে আদালত তার হাজিরা গ্রহণ করেন।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত