শিরোনাম

ভুল আসামি জাহালমের কারাবাসের দায় স্বীকার দুদকের

নিজস্ব প্রতিবেদক  |  ১৭:১৩, জুলাই ১১, ২০১৯

বিনাদোষে ৩৩টি মামলায় তিন বছর জেল খাটা জাহালমের বিষয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন উচ্চ আদালতে দাখিল করা হয়েছে।

ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জাহালমকে আবু সালেক হিসেবে ভুলভাবে চিহ্নিত করার ক্ষেত্রে দুদক কর্মকর্তারা দায়ী। আর এক্ষেত্রে ব্র্যাক ব্যাংকসহ অন্যান্য ব্যাংকের কর্মকর্তারা সহযোগিতা করেছে।

বৃহস্পতিবার (১১ জুলাই) জাহালমের বিষয়ে ২৩ পৃষ্ঠার এ প্রতিবেদনে হাইকোর্টের বিচারপতি এফ আর এম নাজমুল আহাসান ও বিচারপতি কে এম কামরুল কাদেরের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চে দাখিল করা হয়।

এসময় আগামী মঙ্গলবার দুপুর ২টায় ওই প্রতিবেদনের শুনানির জন্য দিন ধার্য করেছেন আদালত।

গত ২৩ এপ্রিল জাহালমের মামলার সব কার্যক্রম ১৩ মে পর্যন্ত স্থগিত করেন আপিল বিভাগের চেম্বারজজ আদালত।

টাঙ্গাইলের নাগরপুরের ডুমুরিয়া গ্রামের জাহালমকে মামলায় ভুল আসামি করে অভিযোগপত্র দাখিলের যাবতীয় নথি তলব করে গত ৬ মার্চ আদেশ দেয় হাইকোর্ট।

ভুল আসামি হয়ে তিন বছর কারাগারে থাকা পাটকল শ্রমিক নিরীহ জাহালম সব মামলা থেকে অব্যাহতি পেয়ে হাইকোর্টের মুক্তির নির্দেশের পরপরই গত ৩ ফেব্রুয়ারি রাতে মুক্তি পেয়ে নিজ গ্রামে ফিরেন।

সোনালী ব্যাংকের প্রায় সাড়ে ১৮ কোটি টাকা জালিয়াতির অভিযোগে আবু সালেকের বিরুদ্ধে ৩৩টি মামলা হয়। এর মধ্যে ২৬টিতে জাহালমকে আসামি আবু সালেক হিসেবে চিহ্নিত করে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দেয় দুদক।

চিঠি পাওয়ার পর দুদক কার্যালয়ে হাজির হয়ে পাঁচ বছর আগে জাহালম বলেছিলেন, তিনি সালেক নন। কিন্তু নিরীহ পাটকল শ্রমিক জাহালমের কথা সেদিন দুদকের কেউ বিশ্বাস করেনি।

২০১৬ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি দুদকের এসব মামলায় জাহালম গ্রেপ্তার হন। গত ৩০ জানুয়ারি একটি জাতীয় দৈনিকে ‘স্যার, আমি জাহালম, সালেক না’ শীর্ষক একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়।

পরে দুদকের দায়ের করা মামলায় ভুল আসামি জাহালমকে সব অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দেয় হাইকোর্ট। এরপর গত ৪ ফেব্রুয়ারি তিন বছর কারাভোগের পর মুক্তি পান তিনি।

এমএআই

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত