শিরোনাম

ফেনীতে শ্লীলতাহানির মামলা: একজনকে যাবজ্জীবন ও চারজনের ১৪ বছর কারাদণ্ড

মুহাম্মদ মিজানুর রহমান, ফেনী  |  ১৭:৪৭, জুন ২৬, ২০১৯

ফেনীর সোনাগাজীতে এক স্কুল ছাত্রীকে অপহরণের পর ধর্ষণের মামলায় একজনকে যাবজ্জীবন, চার জনকে ১৪ বছর করে সশ্রম কারাদণ্ডাদেশ ও পাঁচ জনকে খালাস প্রদান করেছেন আদালত।

গতকাল মঙ্গলবার (২৫ জুন) দুপুরে ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মামুনুর রশিদ এ রায় প্রদান করেন। রায় প্রদানের সময় প্রধান আসামী আবুবকর ছাড়া চার আসামী আদালতে উপস্থিত ছিলেন। আবুবকর পলাতক রয়েছেন।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ফেনী জেলা ও দায়রা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) হাফেজ আহম্মদ জানান, এ মামলায় দশ আসামীর মধ্যে পাঁচ আসামী বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেয়া হয়।

পাঁচ আসামীকে খালাস প্রদান করেন। শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মামুনুর রশিদ ওই মামলার প্রধান আসামী চর ডুব্বা গ্রামের আবু তাহেরের ছেলে আবুবকর সিদ্দিক প্রকাশ সাগরকে (২০) দোষী সাব্যস্ত করে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড ও পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা করেন।

অপর আসামী নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জের চর হাজার গ্রামের আবুল কালামের ছেলে জাহাঙ্গীর আলম (২৩), চর গনেশ গ্রামের মৃত নুর নবীর ছেলে মেজবাহ উদ্দিন পিয়াস (২২), একই গ্রামের রিয়াজ উদ্দিন প্রকাশ রিয়াদ হোসেন (২৩) ও সুজাপুর গ্রামের রুহুল আমিনের ছেলে বায়েজিদ ফয়সাল (২০) এদের প্রত্যেককে ১৪ বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড এবং প্রত্যেকের এক লাখ টাকা করে জরিমানা করেন। জরিমানার অর্থ আইন মোতাবেক আদায় করে ভিকটিমকে প্রদান করার জন্য জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকে নির্দেশ প্রদান করেন।

খালাস প্রাপ্তরা হলেন- আবু তাহেরের স্ত্রী বিবি কাউছার (৪৫) এবং ছেলে আবু নাছের সোহাগ (২৩) ও ইকবাল হোসেন সুমন (২৫), মধ্যম চরচান্দিয়া গ্রামের আবুল হাশেমের ছেলে আলাউদ্দিন আলো (২১) ও চর গনেশ গ্রামের মোশারফ হোসেনের ছেলে মো: মাসুদ (২২)। ৬ বছর পর এ মামলার রায়ে পরিবারে স্বস্তি বিরাজ করছে।

২৭ মে এ মামলার রায় ঘোষণার তারিখ থাকলেও নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মামুনুর রশিদ ১২ জুন রায় ঘোষণার পরবর্তী তারিখ নির্ধারণ করলেও ওই তারিখেও রায় ঘোষণা হয়নি। জেলা ও দায়রা জজ আদালতে বহুল প্রতিক্ষিত আলোচিত মামলাটির রায় আজ মঙ্গলবার ঘোষণা করেন নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মামুনুর রশিদ।

প্রসঙ্গত, ২০১৩ সালের ২৫ মে সোনাগাজী ছাবের পাইলট হাই স্কুলের তখনকার সপ্তম শ্রেণির ছাত্রী অন্য দিনের মতো প্রাইভেট পড়তে যাচ্ছিল। পথিমধ্যে পৌর শহরের চর গণেশ গ্রামের চৌধুরী লেন রাস্তার মোড়ে পূর্ব থেকে উতপেতে থাকা আবু বক্কর ছিদ্দিক সাগর তাকে জোরপূর্বক কালো মাইক্রোবাসে তুলে অন্যত্র নিয়ে যায়।

এ ঘটনায় ওই ছাত্রীর বাবা বেলায়েত হোসেন বাদী হয়ে ৬ জনের নাম উল্লেখ করে সোনাগাজী মডেল থানায় অপহরণ মামলা দায়ের করেন। তাকে বান্দরবান থেকে উদ্ধারের পর মামলাটি ধর্ষণ মামলা হিসেবে রেকর্ডভুক্ত হয়। পরবর্তীতে ফেনী আধুনিক সদর হাসপাতালে তার শারীরিক চিকিৎসায় ধর্ষণের প্রমাণ মেলে। দীর্ঘ তদন্তের পর মামলার তদন্ত কর্মকর্তা স্বপন চন্দ্র বড়ুয়া একই বছরের ১২ জুলাই ওই মামলায় ১০ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশীট দাখিল করেন।

আদালত সূত্র জানায়, ১৩ জনের মধ্যে আদালতে ৭ জন স্বাক্ষ্যগ্রহণ করা হয়। ৬ মে ওই মামলায় জামিনে থাকা ৮ আসামীর জামিন বাতিল করে কারাগারে প্রেরণ করা হয়।

পিপি হাফেজ আহমদ জানান, আসামীদের বিরুদ্ধে আদালতে সকল কিছু প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছি। এ ধরনের ন্যাক্কারজনক ঘটনার পুনরাবৃত্তি না হতে আসামীদের আদালত দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিয়েছেন। যারা নির্দোষ প্রমাণিত হয়েছেন তাদেরকে আদালত বেকসুর খালাস প্রদান করেছেন।

এমআর

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত